Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৪ জুন ২০২৬
KBC's 'viral kid'

উদ্ধত, অতি-আত্মবিশ্বাসী, ‘কেবিসি’র ভাইরাল কিড কি সিক্স-পকেট সিন্ড্রোমে আক্রান্ত?

চিনের পরিচিত 'সিক্স-পকেট সিন্ড্রোম' এখন ভারতসহ অনেক দেশেই থাবা বসিয়েছে!

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: অক্টোবর ১৫, ২০২৫, ১৮:১৩

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: অক্টোবর ১৫, ২০২৫, ১৮:১৩

options
link
উদ্ধত, অতি-আত্মবিশ্বাসী, ‘কেবিসি’র ভাইরাল কিড কি সিক্স-পকেট সিন্ড্রোমে আক্রান্ত? zoom

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ক’দিন আগেই ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’-তে ভাইরাল হয়েছে এক খুদে প্রতিযোগী। পঞ্চম শ্রেণির সেই ছাত্র ঈশিত ভট্ট অবশ্য কোনও ভালো কারণে ভাইরাল হয়নি। কিংবিদন্তি অভিনেতা অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে ঈশিতের ‘খারাপ ব্যবহার’ নেট মাধ্যমে ভাইরালের পরই নেটিজেনদের মধ্যে নানারকম প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে শুরু করে। কেউ বলছেন, বিগ বি-র সঙ্গে ছেলেটি অত্যন্ত দুর্ব্যবহার করেছে। আবার কেউ কেউ ভাইরাল কিডের এই আচরণকে ‘ঔদ্ধত্য’ হিসেবেই দেখছেন।

জনপ্রিয় টিভি কুইজ শো ‘কেবিসি’-র ১৭তম সিজনে ঈশিত খেলতে আসে। সেখানে তার আচরণ ও কথাবার্তার ধরন সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল বিতর্কের জন্ম দেয়। খেলার নিয়ম বাতলে দেওয়ার সময় ছেলেটি বলে, ‘আমি সব নিয়ম জানি। আমাকে নিয়ম বোঝাতে আসবেন না।’ খেলার প্রথম প্রশ্ন শুনেই ছেলেটি হড়বড়িয়ে বলে ওঠে, ‘আরে অপশন দিন তো।’ এখানেই অবশ্য শেষ নয়। খেলার মুহূর্তে ছেলেটি বিগ বি-র সঙ্গে অসভ্য আচরণ করতেও ছাড়েনি। এই ঘটনায় স্বাভাবিক ভাবেই সমাজমাধ্যমে সমালচনার ঝড় ওঠে।

Advertisement

তবে এই বিতর্কের আড়ালে লুকিয়ে আছে একাধিক প্রশ্ন। আমরা কি এমন এক প্রজন্ম তৈরি করেছি যারা অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী, অথচ যেকোনও সামাজিক পরিস্থিতিতে তারা অপ্রস্তুত? আরও গভীরে গেলে একটি প্রশ্ন উঠতে বাধ্য। এর জন্য কি ‘সিক্স-পকেট সিনড্রোম’ দায়ি নয়?

Is KBC's 'viral kid' suffering from 'six-pocket syndrome'

কী এই ‘সিক্স-পকেট সিনড্রোম’?
এই ধারণা চিনের ‘ওয়ান চাইল্ড পলিসি’ থেকে তৈরি হয়েছে। সিক্স-পকেট সিনড্রোম এর মাধ্যমে বোঝানো হয়, পরিবারে একটি শিশু যে কিনা বাড়ির ছ’জন প্রাপ্তবয়স্ক (মা-বাবা, দাদু-দিদা, ঠাকুমা-ঠাকুর্দা) অভিভাবকের সমস্ত মানসিক, আর্থিক ও আবেগময় মনযোগ লাভ করে। এই ছ’জনের পকেট থেকে সমস্ত সুযোগ বা সম্পদ শিশুটির জীবনে ঢালা হয় বলেই তা বিশেষজ্ঞদের মতে ‘সিক্স-পকেট সিনড্রোম’।

আর এই অতিরিক্ত প্রাচুর্যের কারণে শিশুটি প্রায়শই ‘লিটল এম্পেরর’-এর মতো বেড়ে ওঠে। ক্রমশ নিজের ইচ্ছে পূরণ হতে দেখতে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে। এর ফলে খুব স্বাভাবিক ভাবেই সমালোচনা বা ব্যর্থতা মেনে নিতে শেখে না। এমনকী ধৈর্য ও বিনয়ের অভাব দেখা দেয় শিশুদের মধ্যে। একই সঙ্গে উদ্ধত ও অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী। যেকোনও সামাজিক পরিস্থিতে তারা অপ্রস্তুত হয়ে পড়ে।

বর্তমানে, ভারতসহ অনেক দেশেই ছোট পরিবার ও ক্রমবর্ধমান সচ্ছলতার কারণে ‘সিক্স-পকেট সিনড্রোম’ সেই পরিস্থিতির প্রতীক। অতিরিক্ত স্নেহ ও প্রাচুর্য শিশুর মানসিক ও সামাজিক বৃদ্ধিকে বাধা দেয়। কেবিসি-র ঘটনাটিও কোনও ব্যতিক্রমী ঘটনা নয়। এটি চিনের পরিচিত ‘সিক্স-পকেট সিন্ড্রোম’ -এর প্রতিফলন। অভিভাবকদের বুঝতে হবে যে, নিজের সন্তানকে ভালোবাসা ভুল নয়। কিন্তু কোনও কিছুই ‘অতিরিক্ত’ ভালো নয়। এতে সন্তানের সামাজিক মূল্যবোধ বাধা পায়। এর প্রতিকার কম ভালোবাসা নয়—বরং অনুশাসন ও পরিবারের সঠিক শিক্ষা।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.