Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ৯ ভাদ্র ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ২৭ আগস্ট ২০২৬
Mountain Trekking Health Checks

পাহাড় ডাকছে? পিঠে ব্যাগ তোলার আগে শরীরের এই পরীক্ষাগুলি করিয়ে নিন

ট্রেকের আগে শরীরের সামগ্রিক অবস্থা যাচাই করা জরুরি। কারণ শারীরিক সক্ষমতা আর উচ্চতায় শরীরের মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা এক নয়।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ২৬, ২০২৬, ১৯:৩৭

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ২৬, ২০২৬, ১৯:৩৭

options
link
পাহাড় ডাকছে? পিঠে ব্যাগ তোলার আগে শরীরের এই পরীক্ষাগুলি করিয়ে নিন zoom
শুধু ফিট থাকলেই কি নিরাপদ?
Advertisement

পাহাড়ে ট্রেকিংয়ের প্রস্তুতি মানেই শুধু স্ট্যামিনা বাড়ানো বা নিয়মিত শরীরচর্চা নয়। উচ্চতায় উঠলে বায়ুমণ্ডলীয় চাপ কমে যায়, ফলে প্রতিটি শ্বাসের সঙ্গে শরীরে পৌঁছনো অক্সিজেনও কমে। এতে ফুসফুস, হৃদ্‌যন্ত্র-সহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের উপর বাড়তি চাপ পড়ে।

তাই ট্রেকের আগে শরীরের সামগ্রিক অবস্থা যাচাই করা জরুরি। কারণ শারীরিক সক্ষমতা আর উচ্চতায় শরীরের মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা এক নয়। নিয়মিত দৌড়নো একজন ব্যক্তিও বেশি উচ্চতায় গিয়ে অসুস্থ হতে পারেন।

Advertisement

শুধু ফিট থাকলেই কি নিরাপদ?
না। প্রায় ২,৪৫০ মিটারের বেশি উচ্চতায় পর্যাপ্ত ভাবে শরীরকে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ না দিলে যে কোনও ব্যক্তিরই উচ্চতাজনিত অসুস্থতা হতে পারে। কে উচ্চতায় গিয়ে অসুস্থ হবেন, তা আগে থেকে নিশ্চিত করে বলার মতো কোনও নির্দিষ্ট পরীক্ষা নেই। বরং আগে উচ্চতায় গিয়ে শরীরের প্রতিক্রিয়া কেমন হয়েছিল এবং কত দ্রুত উচ্চতায় উঠছেন, তা গুরুত্বপূর্ণ।

mountain trekking health checks before high altitude trek
ট্রেকপথে। ছবি: সংগৃহীত

কোন কোন পরীক্ষা প্রয়োজন?
ফুসফুস:
হাঁপানি, দীর্ঘদিনের কাশি, আগে যক্ষ্মার ইতিহাস, ধূমপান, স্লিপ অ্যাপনিয়ার সমস্যা থাকলে ফুসফুসের পরীক্ষা জরুরি। প্রথমে শ্বাসযন্ত্রের ইতিহাস ও রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা দেখা হয়। প্রয়োজন হলে স্পাইরোমেট্রি করা হতে পারে। নিয়মিত ইনহেলার ব্যবহার করলে সেটি সঠিক ভাবে ব্যবহার করছেন কি না, তাও নিশ্চিত করা দরকার।

হিমোগ্লোবিন: রক্তাল্পতা থাকলে শরীরে অক্সিজেন পৌঁছে দেওয়ার ক্ষমতা কমে যায়। ফলে পাহাড়ে ওঠার মতো পরিশ্রমে দ্রুত ক্লান্তি আসতে পারে। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক টোটাল ব্লাড কাউন্ট বা সিবিসি করতে পারেন।

রক্তচাপ ও শর্করা: বেশি উচ্চতায় শারীরিক পরিশ্রম, ঠান্ডা এবং কম অক্সিজেনের সঙ্গে ঘুমের পরিবর্তনও আসতে পারে। তাই অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিস থাকলে ঝুঁকি বাড়তে পারে। আগে থেকে কোনও অসুখ থাকলে ট্রেকের আগে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ জরুরি।

হৃদ্‌যন্ত্র: বয়স বেশি হলে, হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি থাকলে বা বুকে ব্যথা, অস্বাভাবিক শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ থাকলে চিকিৎসক ইসিজি বা এক্সারসাইজ অ্যাসেসমেন্টের পরামর্শ দিতে পারেন। ব্যক্তির প্রয়োজন অনুযায়ী কিডনির কার্যকারিতা, রক্তে শর্করা বা অন্য পরীক্ষাও লাগতে পারে। তবে প্রত্যেকের সব পরীক্ষা প্রয়োজন হয় না।

mountain trekking health checks before high altitude trek
জরুরি রক্তচাপ মাপা। ছবি: সংগৃহীত

ট্রেক রুটও গুরুত্বপূর্ণ
উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি অনেকটাই নির্ভর করে আপনি কত দ্রুত উপরে উঠছেন তার উপর। উচ্চতায় বায়ুচাপ কমার সঙ্গে শরীরে অক্সিজেনের পরিমাণও কমে যায়। এই পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে শরীরের সময় প্রয়োজন। তাই অল্প সময়ে অনেকটা উপরে উঠে গেলে সুস্থ ব্যক্তিরও অল্টিটিউড সিকনেস হতে পারে।

৩,০০০ মিটারের বেশি উচ্চতায় পৌঁছনোর পর সাধারণত প্রতিদিন রাতে যে উচ্চতায় থাকবেন, তা ৫০০ মিটারের বেশি বাড়ানো উচিত নয়। আর প্রতি ১,০০০ মিটার অতিরিক্ত উচ্চতায় ওঠার পর শরীরকে মানিয়ে নেওয়ার জন্য একটি দিন সময় দিলে ভালো। তাই ট্রেকের আগে শুধু নিজের শারীরিক সক্ষমতা নয়, কোন দিনে কতটা উচ্চতায় উঠবেন এবং কোথায় রাত কাটাবেন, সেটিও আগে থেকে পরিকল্পনা করা জরুরি।

অ্যাসিটাজোলামাইড কি সুরক্ষা দেবে?
কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তির ক্ষেত্রে উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি কমাতে অ্যাসিটাজোলামাইড দেওয়া হতে পারে। তবে এটি ধীরে উচ্চতায় ওঠা বা শরীরকে মানিয়ে নেওয়ার বিকল্প নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এই ওষুধ খাওয়া উচিত নয়।

mountain trekking health checks before high altitude trek
প্রয়োজন অনুযায়ী বিশ্রাম নিন। ছবি: সংগৃহীত

কখন নীচে নেমে আসবেন?
উচ্চতায় ওঠার পর মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব, অস্বাভাবিক ক্লান্তি বা দুর্বলতা লাগলে সতর্ক হতে হবে। উপসর্গ বাড়লে ট্রেক চালিয়ে যাওয়া উচিত নয়। বসে বা শুয়ে থাকলেও শ্বাসকষ্ট, বিভ্রান্তি, সোজা হয়ে হাঁটতে না পারা বা দ্রুত বাড়তে থাকা কাশি আরও গুরুতর বিপদের লক্ষণ। এগুলি উচ্চতাজনিত ফুসফুস বা মস্তিষ্কে ফ্লুইড জমার সংকেত হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত কম উচ্চতায় নেমে এসে জরুরি চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।

ট্রেকের আগে স্বাস্থ্যপরীক্ষা করালেই অল্টিটিউড সিকনেস হবে না, এমন নিশ্চয়তা নেই। তবে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা শরীরের অজানা সমস্যা চিহ্নিত করতে এবং ব্যক্তিগত ঝুঁকি বুঝতে সাহায্য করে। তাই পাহাড়ে যাওয়ার আগে শুধু স্ট্যামিনা নয়, নিজের শরীর, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা এবং ট্রেকের উচ্চতা ও ওঠার গতির দিকেও নজর দিন।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.