Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩
  • বুধবার
  • ১ জুলাই ২০২৬

সন্তানকে মারতে হাত কাঁপে না মা-বাবার! কলকাতায় পরপর ‘অ্যানোমিক সুইসাইডে’ বাড়ছে উদ্বেগ

হঠাৎ এদের একদিন মনে হয়, আমার দ্বারা কিছু হবে না। বেঁচে থেকে লাভ নেই।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ৭, ২০২৫, ১৪:১৫

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ৭, ২০২৫, ১৪:১৫

options
link
সন্তানকে মারতে হাত কাঁপে না মা-বাবার! কলকাতায় পরপর ‘অ্যানোমিক সুইসাইডে’ বাড়ছে উদ্বেগ zoom
প্রতীকী ছবি

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ধরন অনুযায়ী আত্মহত‌্যা চার রকমের। তবে শহর কলকাতায় বিগত এক মাস ধরে যা হচ্ছে তা ‘অ‌্যানোমিক সুইসাইড।’ ১৮৯৭ সালে ফরাসি সমাজকর্মী এমিল ডুরখেইম প্রথম এই শব্দবন্ধ ব‌্যবহার করেছিলেন। সামাজিক দায়বদ্ধতা, আদর্শবোধ যখন তলানিতে চলে যায় তখনই এই ধরনের আত্মহত‌্যা ঘটায় মানুষ।

এই ধরনের আত্মহত‌্যা যাঁরা করেন গভীর দুশ্চিন্তা থেকে তাঁদের সামাজিক মূল‌্যবোধ ধ্বংস হয়ে যায়। ট‌্যাংরায় পরিবারের তিনজনকে খুন করে আত্মহত‌্যার চেষ্টা। দক্ষিণ শহরতলির হালতুতে সন্তানকে মেরে আত্মঘাতী মা-বাবা। বেহালার পর্ণশ্রীতে অটিজমে আক্রান্ত কন‌্যাকে নিয়ে গলায় দড়ি বাবার। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ‘সুইসাইড প‌্যাটার্ন’ খতিয়ে দেখে ইনস্টিটিউট অফ বিহেভিয়ারাল সায়েন্সের মনোবিদরা বলছেন, বিগত এক মাসে শহর কলকাতায় ঘটে যাওয়া একের পর এক ঘটনা যাঁরা ঘটিয়েছেন, নিজের সন্তানকে মারার আগে একবারও হাত কাঁপেনি তাঁদের।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

আত্মহত‌্যা মূলত চার ধরনের। ইগোয়িস্টিক সুইসাইড, অলটুইস্টিক সুইসাইড, অ‌্যানোমিক সুইসাইড, ফ‌্যাটালিস্টিক সুইসাইড। ন‌্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ বিহেভিয়ারাল সায়েন্স-এর মনোবিদ ডা. কেদার বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ‘‘সামাজিক মেলামেশা খুব কম। বন্ধু নেই। নিজের জগতে ঘোরাফেরা করে। আচমকাই এদের একদিন মনে হয়, আমার দ্বারা কিছু হবে না। বেঁচে থেকে লাভ নেই। এটা ইগোইস্টিক সুইসাইড। আবার জিহাদিরা যেটা করে সেটা অলটুইস্টিক সুইসাইড। ধর্মের জন‌্য নিজের শরীরে বোমা লাগিয়ে বিস্ফোরণ ঘটাচ্ছে। কিন্তু সাম্প্রতিককালে যে ঘটনাগুলো ঘটছে সেগুলো অ‌্যানোমিক সুইসাইড।’’

কারণ ব‌্যাখ‌্যা করেছেন ডা. কেদার বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব‌্য, ‘‘লক্ষ‌ করলে দেখবেন এই অ‌্যানোমিক সুইসাইড যাঁরা করছেন তাঁরা সামাজিক নিয়ম কানুন মানছেন না। এবং সেটা কখন মানছেন না? যখন একটা মারাত্মক ‘স্ট্রেস’ বা দুশ্চিন্তার পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। এই দুশ্চিন্তা পারিবারিক হতে পারে, আইনি জটিলতা থেকে হতে পারে কিংবা কোনও আর্থিক সমস‌্যা। ট‌্যাংরায় প্রসূন দে নিজের কন‌্যা, স্ত্রী, বউদিকে খুন করে আত্মহত‌্যার চেষ্টা করেছিলেন। আবার হালতুতে নিজের সন্তানকে গলা টিপে মেরে আত্মহত‌্যা করছেন মা-বাবা। প‌্যাটার্ন সেই এক। তবে এই তিন ধরনের বাইরে আরেক ধরনের আত্মহত‌্যা রয়েছে। মনোবিজ্ঞানের ভাষায় তা ফ‌্যাটালিস্টিক সুইসাইড। ডা. কেদার বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, ‘‘অনেক বাড়িতে অভিভাবকরা সন্তানকে খুব চাপে রাখে। পরীক্ষায় প্রথম হতে হবে। ৯৫ পেলি, ১০০ পেলি না! এই প্রত‌্যাশা থেকে সন্তানের মধ্যে সমস‌্যা তৈরি হয়। তা থেকেও আত্মহত‌্যা করে সন্তান।’’

ইনস্টিটিউট অফ বিহেভিয়ারাল সায়েন্স-এর সমীক্ষা বলছে, ১৫ থেকে ৪০, এই বয়সের মধ্যে আত্মহত‌্যা বাড়ছে। আত্মহত‌্যা বাড়ছে সত্তরোর্ধ্বদেরও। ডা. কেদার বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ‘‘মহিলাদের তুলনায় পুরুষদের মধ্যে আত্মহত‌্যার হার বেশি। যে সমস্ত পুরুষরা আত্মহত‌্যার চেষ্টা করেন তাঁরা নব্বই শতাংশ ক্ষেত্রেই সফল হন। কিন্তু মেয়েদের মধ্যে সুইসাইড করতে গিয়ে অসফল হওয়ার ঘটনা বেশি।’’ ন‌্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ বিহেভিয়ারাল সায়েন্স-এর মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. কেদার বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, “যিনি একবার বিফল হন আরও তিনবার আত্মহত‌্যার চেষ্টা করেন।”

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.