ফোন এখন আমাদের নিত্যসঙ্গী। ঘুম থেকে ওঠা থেকে রাতে বিছানায় যাওয়ার আগে পর্যন্ত স্ক্রিনে চোখ আটকে থাকা যেন স্বাভাবিক অভ্যাস। গেম খেলা, রিল দেখা বা ভিডিও দেখতে দেখতে কখন যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেটে যায়, অনেকেই টের পান না।
কিন্তু এই অভ্যাসের সঙ্গে শরীরের ভঙ্গি যদি ভুল হয়, তার প্রভাব পড়তে পারে ঘাড়, কাঁধ এবং মেরুদণ্ডে (Neck Pain)। অভিনেত্রী ও ইউটিউবার শাকিলার সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা সেই বিষয়েই নতুন করে সতর্ক করছে।
আরও পড়ুন:
শাকিলা জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় ফোনে গেম খেলা এবং ভিডিও দেখার পর ঘাড়ের গুরুতর সমস্যার জন্য তাঁকে প্রায় ৩ লক্ষ টাকা খরচ করে অস্ত্রোপচার করাতে হয়েছে। তবে ফোন ব্যবহার করলেই যে এমন সমস্যা হবে বা অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন পড়বে, তা নয়। আসল ঝুঁকি তৈরি হয় দীর্ঘক্ষণ একই অস্বাভাবিক ভঙ্গিতে থাকার অভ্যাস থেকে।
আরও পড়ুন:

কী হয়েছিল শাকিলার?
নিজের ইউটিউব চ্যানেলে শাকিলা জানিয়েছেন, বিছানায় কাত হয়ে শুয়ে টানা চার ঘণ্টা মোবাইলে গেম খেলতেন তিনি। শুধু চা বা কফি খাওয়ার জন্য মাঝেমধ্যে উঠতেন। তার পর আবার একই ভাবে ফোন নিয়ে বসে পড়তেন। গেম খেলার পাশাপাশি ঘণ্টার পর ঘণ্টা ইউটিউব এবং ইনস্টাগ্রামে রিল দেখতেন।
চেন্নাইয়ের মেডওয়ে হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা হয়। পরে বাড়ি ফিরে অস্ত্রোপচারের অভিজ্ঞতা জানান অভিনেত্রী। বর্তমানে তাঁকে ঘাড়ে কলার পরতে হচ্ছে। এমনকী বিছানা থেকে ওঠা বা খাওয়ার মতো দৈনন্দিন কাজেও তাঁকে সাহায্য নিতে হচ্ছে। অস্ত্রোপচারে টাইটেনিয়ামের স্ক্রু ব্যবহার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
নিজের অভিজ্ঞতা থেকে শাকিলা ফোন ব্যবহারে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষ করে শিশুদের অপ্রয়োজনে দীর্ঘক্ষণ ফোন ব্যবহার না করার কথাও বলেছেন তিনি।

ঘাড় বেঁকিয়ে ফোন দেখলে কী হয়?
বিশেষজ্ঞদের কথায়, শাকিলার ঘটনা থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বোঝা যায়। ঘাড়ের সমস্যা সবসময় দুর্ঘটনা বা কোনও বড় আঘাতের পরেই শুরু হয় না। দীর্ঘক্ষণ মাথা সামনের দিকে বা এক দিকে ঝুঁকিয়ে ফোন দেখলে ঘাড়ের মেরুদণ্ডের উপর ক্রমাগত চাপ পড়ে।
মাথার ভারসাম্য ধরে রাখতে ঘাড়ের পেশিগুলিকে দীর্ঘসময় কাজ করতে হয়। একই সঙ্গে চাপ পড়তে পারে মেরুদণ্ডের ডিস্ক, জয়েন্ট এবং আশপাশের লিগামেন্টে। এর ফলে ঘাড়ে ব্যথা বা শক্ত হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি কাঁধে ব্যথা, মাথাব্যথা, দু’কাঁধের মাঝখানে জ্বালা বা হাতের দিকে ছড়িয়ে পড়া ব্যথাও হতে পারে।
কোন লক্ষণকে বিপদের সংকেত বলবেন?
সামান্য ঘাড় ব্যথা বা কিছুক্ষণ ফোন ব্যবহারের পর অস্বস্তি হলেই আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। কিন্তু কিছু লক্ষণকে একেবারেই উপেক্ষা করা উচিত নয়। যেমন- হাত বা আঙুলে ঝিনঝিনি, অসাড়তা, হাতের শক্তি কমে যাওয়া, জিনিস হাত থেকে পড়ে যাওয়া বা মুঠোর জোর কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে সতর্ক হতে হবে। এগুলি শুধু পেশিতে টান নয়, ঘাড়ের স্নায়ুর উপর চাপের ইঙ্গিতও হতে পারে।
বিশেষ করে ব্যথা দীর্ঘদিন থাকলে, বারবার ফিরে এলে বা তার সঙ্গে অসাড়তা ও দুর্বলতা যোগ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। শুধু ব্যথার ওষুধ খেয়ে একই ভঙ্গিতে ফোন ব্যবহার করে যাওয়া সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

মোবাইল গেমেই কি ডিস্কের রোগ?
এখানে ভুল ধারণা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। দীর্ঘক্ষণ গেম খেলা বা স্মার্টফোন ব্যবহারের সঙ্গে অস্বাভাবিক ভঙ্গি এবং ঘাড় ও হাতের বিভিন্ন পেশিগত সমস্যার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। কিন্তু মোবাইলে গেম খেললেই ডিস্কের রোগ হবে বা অস্ত্রোপচার করতে হবে, এমনটা বলা যায় না।
সমস্যার জন্য ফোনকে একমাত্র দায়ী করার চেয়ে ফোন ব্যবহারের ধরনকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। একই ভঙ্গিতে দীর্ঘক্ষণ থাকা, ঘাড় নিচু করে রাখা এবং কোনও বিরতি না নেওয়াই মূল সমস্যা তৈরি করতে পারে।
কীভাবে ঘাড়কে সুরক্ষিত রাখবেন?
দিনের অনেকটা সময় ফোনে কাটলে একটানা একই ভঙ্গিতে না থেকে নিয়মিত অবস্থান পরিবর্তন করা জরুরি। ফোন চোখের কাছাকাছি বা খুব নিচে ধরে ঘাড় বেশি ঝুঁকিয়ে না দেখাই ভালো। দীর্ঘক্ষণ গেম বা ভিডিয়ো দেখার মাঝেও বিরতি নেওয়া দরকার।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল শরীরের সংকেতকে গুরুত্ব দেওয়া। ব্যথা হল শরীরের যান্ত্রিক সতর্কবার্তা, আর অসাড়তা ও দুর্বলতা হল স্নায়বিক সতর্কবার্তা। এই লক্ষণগুলি উপেক্ষা করলেই নিয়ন্ত্রণযোগ্য সমস্যা গুরুতর হয়ে উঠতে পারে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
ঢাকার পাক দূতাবাসের মদতে পাকিস্তানে ভারতীয় সিমকার্ড পাচার! কোচবিহার কাণ্ডে চাঞ্চল্যকর মোড়
-
পঞ্চভূতে বিলীন রাজা সেন, চোখের জলে বিদায় জাতীয় পুরস্কারজয়ী পরিচালককে
-
‘কী করছেন, সমস্ত রিপোর্ট আছে’, দলের বিধায়কদের চরম হুঁশিয়ারি শমীকের
-
ত্রুটি ছিল ‘নেট’ প্রশ্নপত্রেও, তিন বিষয়ে পুনঃপরীক্ষায় নির্দেশ এনটিএ-র, কোন বিষয়ে কবে পরীক্ষা?
-
ভয়াবহ ভূমিধসে বিধ্বস্ত সিকিমের রিম্বি-সিংলিটাম, বিপন্ন বহু পরিবার, চলছে উদ্ধারকাজ