৪ মাঘ  ১৪২৫  শনিবার ১৯ জানুয়ারি ২০১৯ 

Menu Logo মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও ফিরে দেখা ২০১৮ ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

বেগ আসছে অথচ বাথরুমে গিয়ে আর হচ্ছে না। তলপেটে ব্যথা, ফোঁটা ফোঁটা প্রস্রাব। এমন অস্বস্তিকর কষ্টের মুখোমুখি হলে কেমন হবে চিকিৎসা? পরামর্শে বারাসত নারায়ণা মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতালের ইউরোলজিস্ট ডা. চন্দ্রশেখর পাত্র। শুনলেন পৌষালী দে কুণ্ডু।

প্রস্রাবের বেগের সমস্যার প্রধান কারণ হতে পারে ইউরিন ইনফেকশন। তবে ইনফেকশন ছাড়া পুরুষ ও মহিলাদের নানা কারণেই প্রস্রাবের বেগ নিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়। দীর্ঘদিন বেগের সমস্যা থাকলে মূত্রনালিতে ঘন ঘন সংক্রমণ, ব্লিডিং হওয়া ও কিডনি বিকল হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

পুং সমস্যায়

  • টেস্টোস্টেরন হরমোনের ভারসাম্য বিঘ্নিত হওয়ায় ৫০-৫৫ বছর বয়সের পর থেকেই অনেকের প্রস্টেট গ্রন্থির আকার বড় হতে থাকে। এর ফলে ইউরিনারি ট্রাক্টের কাজ বাধাপ্রাপ্ত হয়ে প্রস্রাবের বেগ কমে যায়। কিংবা ব্লাডার খালি না হওয়ার কারণে বারবার বাথরুম যেতে হয়।
  • প্রস্টেটের কারণে প্রস্রাবের বেগের সমস্যা হলে প্রথমে আলফা ব্লকার, ডিউটাস্টেরাইড জাতীয় ওষুধ দিতে হয়। এতে ফ্লো না বাড়লে কিংবা প্রস্রাবের সময় রক্তক্ষরণ বা প্রস্রাব বন্ধ হয়ে গেলে বা প্রস্টেটজনিত কারণে স্টোন হলে সার্জারি ছাড়া উপায় নেই।
  • হার্নিয়া বা অন্য কোনও অপারেশনের সময় ক্যাথিটার লাগানোর ফলে মূত্রনালিতে কোনও আঘাত লাগলে বা কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে ইউরেথ্রা স্ট্রিকচার হয়। এক্ষেত্রে পুরুষের যৌনাঙ্গের নিচের দিকে থাকা  নালির মতো ইউরেথ্রা অংশ সরু হয়ে যায়। যার ফলে ব্যাহত হতে পারে প্রস্রাবের বেগ।
  • ইউরেথ্রা স্ট্রিকচার হলে সার্জারি করতে হবে। পুরুষাঙ্গ দিয়ে টেলিস্কোপিক ক্যামেরার সাহাযে্য এই অপারেশন হয়। এর জন্য কাটাছেঁড়া, রক্তপাত হয় না।
  • ব্রেনের কার্যক্ষমতা ঠিকমতো না হলে, স্পাইনাল কর্ডে আঘাত লাগলে, নার্ভজনিত সমস্যা, ডায়াবেটিস বা প্যারালাইসিস রোগী হলে মূত্রনালির পেশি ঠিকমতো কাজ করে না। তখন ইউরিনারি ব্লাডারের উপর রোগীর কন্ট্রোল না থাকায় প্রস্রাবের বেগ ঠিকমতো থাকে না।
  • ডায়াবেটিস, নার্ভের সমস্যা থাকলে আচমকা প্রস্রাব হওয়া পুরোপুরি বন্ধ হয়ে মূত্রথলিতে জমে যায়। এক্ষেত্রে এঁদের  আগাম সচেতনতার জন্য নির্দিষ্ট সময় অন্তর আল্ট্রাসাউন্ড স্ক্রিনিং করিয়ে দেখে নেওয়া উচিত ব্লাডারে কতটা মূত্র জমে থাকছে। মূত্র জমে থাকার কারণেই এই অসুখে বারবার সংক্রমণ হয়। এর চিকিৎসার সময় ক্লিন ইন্টারমিটেন্ট ক্যাথিটারের (CIC) সাহাযে্য ব্লাডার থেকে মূত্র বের করে দিতে হয়।

[ মদ্যপানে এক বছরে ৩০ লক্ষ মানুষের মৃত্যু, চিন্তায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ]

সমস্যা বুঝতে টেস্ট

  • ডাক্তারের পরামর্শমতো ইউরো ফ্লো মেট্রি টেস্ট করতে হবে। প্রয়োজনে ইউরিন টেস্ট ও আল্ট্রাসোনোগ্রাফি জরুরি।
  • ৪৬-৬৫ বছর বয়সি পুরুষের প্রস্রাবের বেগ গড়ে ১৫ মিলিলিটার/সেকেন্ড হয়। ৬৬-৮০ বছর বয়সি পুরুষের প্রস্রাবের বেগ গড়ে ৯ মিলিলিটার/সেকেন্ড হয়ে যেতে পারে। মহিলাদের ক্ষেত্রে ৪৫-এর পর থেকেই সাধারণত ১৮ মিলিলিটার/সেকেন্ড হয়। প্রস্রাবের বেগ গড়ে ১৫ মিলিলিটার/সেকেন্ডের কম হলেই চিকিৎসা শুরু করা উচিত।

নারীর সমস্যার আঁতুড়ঘর সংক্রমণ

  • প্রস্রাবের ফ্লো সংক্রান্ত সমস্যার ক্ষেত্রে মেয়েরা সবচেয়ে বেশি ভোগে মূত্রনালিতে ইনফেকশনের কারণে। কেন এত বেশি ইনফেকশন হয়? মহিলাদের ইউরেথ্রার দৈর্ঘ্য মাত্র ৪ সেন্টিমিটার হয়। যেখানে পুরুষের ১৬-২০ সেন্টিমিটার। তাই বাইরের ইনফেকশন ছেলেদের তুলনায় সহজেই নারীদেহে প্রবেশ করে। প্রস্রাব করার সময় মেয়েদের বসার ভঙ্গিমার কারণেও বাথরুম থেকে দ্রুত ইনফেকশন মেয়েদের মূত্রনালিতে প্রবেশ করে ব্লাডারের কাজ ব্যাহত করে।
  • বারবার ইনফেকশন হলে ইউরেথ্রার পথ খুব সরু হয়ে ক্রমশ বুজে যেতে থাকে। একে ইউরেথ্রা স্টেনোসিস বলে।
  • মেয়েদের ইউরিন ইনফেকশন হলে প্রস্রাবে রক্ত, মূত্রত্যাগের সময় জ্বালা-যন্ত্রণা বেশি হয়।
  • ইউরিনের মাইক্রোস্কোপিক টেস্ট ও ইউরিন টেস্ট করা জরুরি। এরপর সমস্যা কতটা গুরুতর তা দেখে চিকিৎসক অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ দেন। প্রস্রাবের সময় খুব জ্বালা হলে আলকারাইজার জাতীয় ওষুধ দেওয়া হয়।
  • ইউরেথ্রা স্টেনোসিসের ক্ষেত্রে ইউরেথ্রার পথ আগের মতো করতে লোকাল অ্যানাস্থেশিয়া করে সিস্টোস্কোপের সাহাযে্য ছোট্ট একটি অপারেশন করতে হয়। পদ্ধতির নাম ইউরেথ্রা ডায়ালেশন।
  • গর্ভধারণ ও সন্তানের জন্ম দেওয়ার কারণে মহিলাদের গর্ভাশয় ও মূত্রথলির অবস্থানগত
  • কিছু পরিবর্তন হয়। পেলভিক ফ্লোরেও নানা বাধা তৈরি হয়। এর ফলে প্রস্রাব স্বাভাবিক বেগে বেরতে পারে না।
  • ব্লাডারে স্টোন বা সিস্ট হলেও বেগে অসুবিধা হয়।
  • ব্লাডারে স্টোন হলে যেহেতু প্রস্রাবের সমস্যা হয় তাই স্টোন ওই অংশের কাজে বাধা দিলে দ্রুত অপারেশন করিয়ে নেওয়া উচিত।

জল কি ফ্যাক্টর?

প্রস্রাবের বেগের সমস্যা হলে অনেকে ভাবেন জল কম পানের জন্য বা ঘামের মধ্য দিয়ে জল বেরিয়ে যাওয়ায় এমন হচ্ছে। বেশি করে জল পান করলেই সব ঠিক হয়ে যাবে। এই ধারণা ভুল। বেশি বা কম জল পানের সঙ্গে বেগের কোনও সম্পর্ক নেই। সারাদিনে  দু’-আড়াই লিটার জল পান করাই যায়। তবে যাঁদের প্রস্রাবজনিত সমস্যা আছে তাঁরা সন্ধ্যার পর থেকে চা-জল-কফি একটু কম পান করুন।  

যোগাযোগ: ১৮৬ ০২০৮ ০২০৮

পুজোর আগে নিজেকে করে তুলুন মোহময়ী, মেনে চলুন সহজ কিছু ডায়েট ]

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং