Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
  • রবিবার
  • ৯ আগস্ট ২০২৬
Heart Disease

হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ছে যুবতীদের, দায়ী জীবনযাত্রা? কী বলছেন চিকিৎসকরা

হৃদরোগের ঝুঁকির প্রায় ৮০ শতাংশই প্রতিরোধযোগ্য বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তাই দেরি না করে এখন থেকেই সচেতন হোন। সচেতনতাই হৃদরোগের সবচেয়ে বড় রক্ষাকবচ।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ৪, ২০২৬, ১৮:০৩

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ৪, ২০২৬, ১৮:০৩

options
link
হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ছে যুবতীদের, দায়ী জীবনযাত্রা? কী বলছেন চিকিৎসকরা zoom
হৃদরোগের ঝুঁকিতে নারীরা? ছবি: সংগৃহীত
Advertisement

আগামী কয়েক দশকে মহিলাদের মধ্যে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে পারে, এমনই আশঙ্কার কথা শোনাল আমেরিকান হার্ট অ্য়াসোসিয়েশন। তাদের মতে, এখনই প্রতিরোধ ও প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণে জোর না দিলে ভবিষ্যতে হৃদরোগে আক্রান্তের সংখ্যা অনেকটাই বাড়বে।

তাদের বিশ্লেষণ, ২০২০ সালে যেখানে কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজে মহিলাদের আক্রান্তের হার ছিল ১০.৭ শতাংশ, ২০৫০ সালের মধ্যে তা বেড়ে হতে পারে ১৪.৪ শতাংশ। অর্থাৎ, বৃদ্ধির হার প্রায় এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি। বর্তমানে আমেরিকায় নারীদের মৃত্যুর প্রধান কারণ হৃদরোগ। সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে করোনারি হার্ট ডিজিজ—যেখানে ধমনিতে চর্বির প্লাক জমে হৃদ্‌পেশিতে অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত পৌঁছতে বাধা দেয়। এছাড়া রয়েছে হার্ট ফেলিওর, অ্যাট্রিয়াল ফাইব্রিলেশন (অস্বাভাবিক হৃদস্পন্দন) এবং স্ট্রোক।

Advertisement
Why heart stroke increasing among young women
ছবি: সংগৃহীত

কেন বাড়ছে ঝুঁকি?
এই বৃদ্ধির পেছনে বড় কারণ জনসংখ্যায় প্রবীণদের সংখ্য়া বৃদ্ধি। বয়স বাড়লে হৃদরোগের ঝুঁকিও বাড়ে। তবে এটিই একমাত্র কারণ নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ডায়াবেটিস, স্থূলতা এবং উচ্চ রক্তচাপ—এই তিনই ঝুঁকির হার দ্রুত বাড়াচ্ছে।

বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে মহিলাদের মধ্য়ে উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হার ৪৮.৬% থেকে বেড়ে ৫৯.১% হতে পারে, ডায়াবেটিস ১৪.৯% থেকে ২৫.৩% এবং স্থূলতা ৪৩.৯% থেকে বেড়ে ৬১.২% হতে পারে।

শুধু প্রাপ্তবয়স্ক নারীরাই নন, ২০ থেকে ৪০ বছর বয়সি যুবতীদের মধ্যেও এই ঝুঁকি বাড়ছে। এমনকী কিশোরীদের স্থূলতার হারও ১৯.৬% থেকে বেড়ে ৩২% পর্যন্ত পৌঁছতে পারে বলে আশঙ্কা। এর অর্থ, পুরো একটি প্রজন্ম খুব অল্প বয়সেই হৃদরোগের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

যদিও কিছু ইতিবাচক দিকও রয়েছে। বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, এখন তরুণীদের মধ্য়ে অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও শরীরচর্চায় অনীহা কমছে, কমছে ধূমপানের হারও। তবে ঘুমের সমস্যা রয়েছে, যা হার্টের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

ওজন কমানোর ওষুধ কি পরিস্থিতি বদলাতে পারবে?
বর্তমানে কিছু ওষুধ, যা টাইপ ২ ডায়াবেটিস ও ওজন কমাতে ব্যবহৃত হচ্ছে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, এগুলো হার্ট অ্যাটাক ও হার্ট ফেলিওরের ঝুঁকি কমাতেও সাহায্য করতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে শরীরে এই ওষুধগুলোর প্রভাব কী পড়বে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। উপরন্তু, অনেকেই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ভয়ে ওষুধ বন্ধ করে দেন এবং আবার ওজন বাড়তে শুরু করে।

heart disease and stroke increasing among young women
ছবি: সংগৃহীত

তাহলে কী করণীয়?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সবচেয়ে জরুরি সচেতনতা। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খাওয়া এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও শরীরচর্চা— এগুলোই ঝুঁকি কমানোর মূল চাবিকাঠি। বিশেষ করে গর্ভাবস্থায়, যখন প্রথমবার ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ ধরা পড়ে এবং মেনোপজের সময়, যখন কোলেস্টেরল, রক্তচাপ ও ঘুমের ধরণ বদলায়— এই সময়গুলোতে সতর্ক থাকা জরুরি।
হৃদরোগের ঝুঁকির প্রায় ৮০ শতাংশই প্রতিরোধযোগ্য বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তাই দেরি না করে এখন থেকেই সচেতন হোন। সচেতনতাই হৃদরোগের সবচেয়ে বড় রক্ষাকবচ।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.