২০ ফাল্গুন  ১৪২৭  শনিবার ৬ মার্চ ২০২১ 

READ IN APP

Advertisement

রেড মিট খাচ্ছেন? কী মারাত্মক বিপদের মুখে পড়বেন জানেন?

Published by: Tanujit Das |    Posted: February 26, 2019 8:58 pm|    Updated: February 26, 2019 8:58 pm

An Images

রেড মিট থেকে কৃমি মস্তিষ্কের অসুখের জন্ম দেয়। তাই সঠিক পদ্ধতি না মেনে মাংস খেলে বিপদ। সতর্ক করলেন ফর্টিস হাসপাতালের বিশিষ্ট নিউরোলজিস্ট ডা. অমিত হালদার। লিখছেন সুমিত রায়

কৃমি শুধু পেটেই হয় না, কখনও কখনও এই কৃমি পেট থেকে শরীরের অন্যান্য অঙ্গেও ছড়িতে যেতে পারে। যে কৃমি খাদ্যের মাধ্যমে অন্ত্রে ঢোকে। যতক্ষণ কৃমি অন্ত্রে কিংবা শরীরের হজম প্রণালীর অন্য অঙ্গে যেমন লিভার ইত্যাদিতে উপস্থিত থাকে তখন ভয় কম। কিন্তু যখনই এই কৃমি অন্ত্র থেকে রক্তের মাধ্যমে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে চলে যায়, বিশেষত যদি স্নায়ু তন্ত্র-পেরিফেরাল নার্ভাস সিস্টেম (মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ড ছাড়া যে স্নায়ু) বা সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেম (মস্তিষ্ক এবং মেরুদণ্ডের সঙ্গে যুক্ত স্নায়ু), তে চলে যায় তখন তা আরও মারাত্মক আকার নেয়। মূলত কৃমি শরীরে খাদ্যের মাধ্যমে এবং খালি পায়ে থাকলে মাটি থেকে শরীরে প্রবেশ করে।

রোগের প্রকোপ: কৃমি হল পরজীবী যাকে বলা হয় প্যারাসাইট এবং যার শরীরে থেকে এরা খাদ্য অর্জন করে থাকে তাকে বলা হয় হোস্ট। এই রোগ ফেসো-ওরাল রুট (সংক্রামিত মল থেকে খাদ্যের মাধ্যমে)-এর মাধ্যমে শরীরে ঢোকে। এই কৃমি হোস্টের হজম তন্ত্রে মূলত অন্ত্রে থাকে এবং ধীরে ধীরে বংশবৃদ্ধি ঘটায়। কৃমি হোস্টের লিভার থেকে রক্তে গিয়ে সোজা সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেমে প্রবেশ করে এবং মস্তিষ্কে চলে যায়। এই কৃমি লার্ভা অবস্থায় অনেক বেশি রোগ ঘটাতে পারে কারণ প্রাপ্তবয়স্ক কৃমি হয়ে গেলে তা হজম তন্ত্রের বিভিন্ন অঙ্গের মধ্যেই সীমিত থাকে। এই রোগগুলি কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী অর্থাৎ ক্রনিক ডিজিজ। আস্তে আস্তে রোগ বাড়তে থাকে যা বিভিন্ন উপসর্গ বা লক্ষণের দরুন ধরা পরে। এই লক্ষণগুলি হল– মাথা ব্যথা, খিঁচুনি, মাথা ঘোরা, জ্বর, বমি৷

[খুঁচিয়ে কান পরিষ্কার করছেন? ভবিষ্যতে এই সমস্যাগুলোর জন্য তৈরি থাকুন ]

যে কৃমি স্নায়ুজনিত রোগ (নিউরোপ্লাস্টিক ডিজিজ) ঘটায়-

১. ট্যাপওয়ার্ম: এই কৃমির ক্ষেত্রে মানুষ দুর্ঘটনাক্রমে হোস্ট (অ্যাক্সিডেন্টাল হোস্ট) হয়ে যায়। আসলে এই ট্যাপওয়ার্ম থাকে শূকর বা পর্কের মাংসে। তাই ভাল করে পরিষ্কার না করা এবং অনেকক্ষণ ধরে উচ্চ তাপে রান্না না করা পর্কের মাংসে এই ট্যাপওয়ার্মের লার্ভা জীবিত থাকে তা শরীরে ঢুকে রোগ বাসা বাঁধে। অনেকক্ষেত্রে যারা নিরামিষাশী (ভেজিটেরিয়ান) তাদেরও ট্যাপওয়ার্ম ইনফেকশন দেখা যায়। এর কারণ হল যেখানে সবজি বা ফলের চাষ হয় সেখানে সংক্রমিত শূকরের মলে এই ট্যাপওয়ার্মের শূক বা লার্ভা ছড়িয়ে তা সবজি বা ফলের গায়ে লেগে থাকে। তাই ভাল করে না ধুয়ে ফল, সবজি খেলে বা উচ্চ তাপমাত্রায় ঠিকমতো রান্না না করলে সেই খাদ্যের মাধ্যমে কৃমি শরীরে প্রবেশ করে। এই কৃমি মস্তিষ্কে গেলে তা থেকে নিউরোসিস্টিকসিরোসিস অর্থাৎ মস্তিষ্কে সিস্ট তৈরি হয়। পৃথিবী জুড়ে এটাই মৃগী রোগের অন্যতম কারণ। অধিক সংখ্যক ট্যাপওয়ার্ম মস্তিষ্কে ঢুকলে তা থেকে ব্রেন এডিমা (মস্তিষ্কে অধিক পরিমাণে জল জমে গিয়ে ব্রেন ফুলেফেঁপে ওঠে) হয়ে মৃত্যুও হতে পারে।

২. এচিনোকোক্কাস: এই কৃমির প্রথম হোস্ট হল কুকুর। কুকুরের মল থেকে এই কৃমি গাভী পশু যেমন ভেড়া, শূকর, ছাগল, গরু এদের শরীরে প্রবেশ করে। যাদের থেকে তা মানুষের শরীরেও প্রবেশ করে। এই কৃমি থেকে যে রোগ হয়ে থাকে তা হল হাইডাটিড সিস্ট। যদিও এই কৃমি মূলত লিভারেই সিস্ট তৈরি করে।

[ব্যায়াম বা ডায়েটিং নয়, পর্যাপ্ত ঘুমেই কমতে পারে ভুঁড়ি]

সাবধানতা: পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, উত্তরপ্রদেশের মানুষ খুব কম মাত্রায় পর্কের মাংস খেলেও এঁদের নিউরোপ্লাস্টিক ডিজিজ আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। এর মূল কারণ পূর্ব ভারতে খাওয়ারে পরিচ্ছন্নতার খামতি। তাই জরুরি পারসোনাল হাইজেন, ফুড হাইজেন মেনে চলা। কাঁচা বা রান্না করার আগে ভাল করে সবজি এবং ফল ধুয়ে নেওয়া। রেড মিট (পর্ক) রান্না করার সময় অনেকক্ষণ ধরে উচ্চ তাপমাত্রায় রান্না করা। প্যাকেড খাবার খুব সাবধানে খেতে হবে এবং বেশিদিন পুরনো না খাওয়াই ভাল।

Sangbad Pratidin News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
নিয়মিত খবরে থাকতে লাইক করুন ফেসবুকে ও ফলো করুন টুইটারে

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement