প্রত্যেক বাঙালির রান্নাঘরেই খুঁজলে কমবেশি পাওয়া যাবে এমন কিছু নিত্য ব্যবহার্য সামগ্রী, যা অজান্তেই ক্ষতি করে গৃহস্থের শরীরে। আমরা মনে করি, কেবল খাবার জিনিস টাটকা হলেই তা স্বাস্থ্যের পক্ষে উপযোগী। কিন্তু এই অতিসাধারণ কিচেন গ্যাজেটের সংস্পর্শে এসে মুহূর্তেও স্বাস্থ্যকর খাবারও ক্ষতিকারক হয়ে ওঠে। চোখে দেখা যায় না, এমন কেমিক্যাল, ব্যাকটেরিয়া ও আণুবীক্ষণিক ফাঙ্গাস প্রাত্যহিক মিশে যায় খাবারের জিনিসে, অথচ না জেনে এরপরেও একই গ্যাজেট ব্যবহার করে চলি আমরা।

আরও পড়ুন:
নন-স্টিক প্যান
এ ধরনের প্যান অতিরিক্ত গরম করলে তা থেকে বিষাক্ত ধোঁয়া নির্গত হতে পারে এবং স্ক্র্যাচ পড়ে গেলে, ক্ষতিকারক রাসায়নিক যেমন পিএফওএ (PFOA) এবং পিএফএএস (PFAS) খাবারে মিশতে পারে। এই রাসায়নিকগুলো হরমোনের ভারসাম্যহীনতা ও দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার জন্য দায়ী।
স্বাস্থ্যকর বিকল্প: স্টেইনলেস স্টিল, কাস্ট আয়রন, কাচ বা সিরামিকের রান্নার পাত্র ব্যবহার করলে এমন ক্ষতি হয় না।
অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল
টক বা অ্যাসিডিক খাবার অত্যন্ত উত্তপ্ত অবস্থায় অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলে মোড়ালে, ক্ষতিকারক ধাতব উপাদান খাবারে মিশে যেতে পারে। দীর্ঘদিন চললে স্নায়বিক সমস্যা ও অ্যালঝাইমার্সের ঝুঁকি বাড়ে। এছাড়াও এটি পচনশীল নয়, তাই কেবল স্বাস্থ্য নয়, পরিবেশের জন্যও ক্ষতিকর।
স্বাস্থ্যকর বিকল্প: বেকিংয়ের জন্য অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলের বদলে পার্চমেন্ট পেপার এবং খাবার গরম করতে কাচ বা সিলিকনের পাত্র ব্যবহার করুন।
প্লাস্টিকের খাবারের পাত্র
পুরোনো বা নিম্নমানের প্লাস্টিক পাত্র থেকে বিপিএ (BPA), বিপিএস (BPS) এবং থ্যালেটসের (phthalates) মতো ক্ষতিকারক রাসায়নিক নির্গত হতে পারে, বিশেষ করে যখন সেগুলোতে মাইক্রোওয়েভে খাবার গরম করা হয় অথবা তৈলাক্ত, টক ও গরম খাবারের সংস্পর্শে আসে। এতে হরমোনের ক্ষতি হয়, প্রজনন ক্ষমতা প্রভাবিত হয় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে দেয়। কালো প্লাস্টিক প্রায়শই রিসাইকেল করা ইলেকট্রনিক বর্জ্য থেকে তৈরি হয়, অতএব বিষাক্ত হতে পারে।
স্বাস্থ্যকর বিকল্প: কাচ, সিরামিক বা স্টেইনলেস স্টিলের পাত্র। প্লাস্টিক পাত্রে ‘মাইক্রোওয়েভ সেফ’ লেখা থাকলেও সেটিতে খাবার গরম না করাই ভালো।

প্লাস্টিকের চপিং বোর্ড
প্লাস্টিকের চপিং বোর্ড সময়ের সঙ্গে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে খাবারে মাইক্রোপ্লাস্টিক ছড়াতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কাটিং বোর্ড থেকে নির্গত মাইক্রোপ্লাস্টিক খাবারে মিশে গিয়ে শরীরে প্রদাহ সৃষ্টি করে।
স্বাস্থ্যকর বিকল্প: কাঠের চপিং বোর্ড ব্যবহার কয়া যায়।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
নেতাজি কি যুদ্ধাপরাধী! ঠিক কী বলেছিলেন নেহরু? ‘অনন্ত’ বিতর্কের মাঝে ব্যাখ্যা গবেষকদের
-
ভারতীয় ব্যবসা মহোৎসবে উজ্জ্বল পশ্চিমবঙ্গ, ক্ষুদ্র শিল্পে বিপুল বিনিয়োগের সম্ভাবনা
-
স্বাধীনতা দিবসে দিনভর চলবে কম মেট্রো, কখন পাবেন প্রথম ও শেষ পরিষেবা?
-
ব্রাজিল ম্যাচকেই অগ্রাধিকার, এশিয়ান কাপ থেকে নাম তুলে নিল ভারত
-
‘কে অধিকার দিয়েছে জীবন নিয়ে খেলার?’ বেআইনি নির্মাণ কাণ্ডে ২৭ জনকে ব্ল্যাকলিস্টের হুঁশিয়ারি অগ্নিমিত্রার