Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
  • রবিবার
  • ৯ আগস্ট ২০২৬
Liquid Dishwash

কেমিক্যালে ভরা ডিশওয়াশিং লিকুইডে ঝকঝকে হচ্ছে বাসন, আপনার পরিবার নিরাপদ তো?

বিজ্ঞাপনী চমক। আর তাতেই মজে ঘরকন্না। রান্নাঘরের বাসনপত্র তকতকে রাখা চাই। উপায়? ডিশওয়াশিং লিকুইড। মাসকাবারির ফর্দে যা না থাকলেই নয়। অপরিচ্ছন্ন বাসন কি আবার লোকসমাজে ব্যবহার করা যায় নাকি? তাই তো ঝকঝকে তকতকে রাখতে মরিয়া প্রয়াস। এক ফোঁটা লিকুইড সাবানের জাদুতেই আজকাল কেল্লাফতে! কিন্তু বাসনপত্র চমকাতে গিয়ে কোথাও বোধয় আমরা নিজেদের ক্ষতি করে ফেলছি। কীভাবে জানেন কি?

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ৩০, ২০২৬, ২১:০৬

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ৩০, ২০২৬, ২১:০৬

options
link
কেমিক্যালে ভরা ডিশওয়াশিং লিকুইডে ঝকঝকে হচ্ছে বাসন, আপনার পরিবার নিরাপদ তো? zoom
ডিশওয়াশিং লিকুইড আসলে এক প্রকার মারণফাঁদ। ছবি: সংগৃহীত
Advertisement

বিজ্ঞাপনী চমক। আর তাতেই মজে ঘরকন্না। রান্নাঘরের বাসনপত্র তকতকে রাখা চাই। উপায়? ডিশওয়াশিং লিকুইড (Dishwashing Liquid)। মাসকাবারির ফর্দে যা না থাকলেই নয়। অপরিচ্ছন্ন বাসন কি আবার লোকসমাজে ব্যবহার করা যায় নাকি? তাই তো ঝকঝকে তকতকে রাখতে মরিয়া প্রয়াস। এক ফোঁটা লিকুইড সাবানের জাদুতেই আজকাল কেল্লাফতে! কিন্তু বাসনপত্র চমকাতে গিয়ে কোথাও বোধয় আমরা নিজেদের ক্ষতি করে ফেলছি। থালা-বাসন পরিষ্কার করার আধুনিক ডিশওয়াশিং লিকুইড আসলে এক প্রকার মারণফাঁদ। অসতর্কভাবে এর ব্যবহার ডেকে আনতে পারে মারাত্মক শারীরিক জটিলতা। কিন্তু কীভাবে? তা জানেন কি?

প্রতীকী ছবি

আগের দিনে মা-ঠাকুমারা উনুনের ছাই দিয়ে ঘষে ঘষে বাসন মাজতেন। সেদিন এখন অতীত। উনুনের জায়গা নিয়েছে আধুনিক গ্যাস ওভেন। আর ছাইয়ের বদলে রান্নাঘরে জাঁকিয়ে বসেছে সুগন্ধী ডিশওয়াশিং লিকুইড। আসলে এই লিকুইড তৈরি হয় ‘সারফ্যাক্ট্যান্ট’ নামক এক ধরনের রাসায়নিক দিয়ে। বাসন মাজার পর আমরা যতই জল দিয়ে ধুই না কেন, বাসনের গায়ে এই সাবানের এক অদৃশ্য পাতলা আস্তরণ থেকেই যায়। বিশেষ করে প্লাস্টিক বা মেলামাইনের বাসনে এই স্তর অত্যন্ত শক্ত হয়ে বসে যায়। যখনই সেই বাসনে গরম খাবার পরিবেশন করা হয়, তাপের সংস্পর্শে এসে রাসায়নিকগুলো খাবারের সঙ্গে মিশতে থাকে। যা সরাসরি পৌঁছে যায় আমাদের পাকস্থলীতে।

Advertisement

বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, এই লিকুইডগুলোতে ‘সোডিয়াম লরিল সালফেট’-এর মতো বিষাক্ত রাসায়নিক থাকে। এটি নিয়মিত ভাবে শরীরে প্রবেশ করতে থাকলে গ্যাস্ট্রাইটিস, আলসার এবং অন্ত্রের নানা দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা তৈরি হয়। এছাড়া লিকুইডে ‘থ্যালেটস’ নামক যে সুগন্ধী ব্যবহার করা হয়, তা মেয়েদের শরীরে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে। ফলে হরমোনজনিত নানা জটিল রোগের সম্ভাবনা বাড়তে থাকে। লিকুইড সাবানে ব্যবহৃত রাসায়নিকের প্রভাবে হজমের সমস্যা থেকে শুরু করে লিভারের ক্ষতি হওয়াও বিচিত্র নয়। ফলে, একপ্রকার জেনে শুনেই বিপদ বয়ে চলেছি আমরা প্রত্যেকে।

প্রতীকী ছবি

আমরা পুরোপুরি হয়তো লিকুইড সাবান ব্যবহার বন্ধ করতে পারব না। তার প্রয়োজনও অবশ্য নেই। কারণ সামান্য কিছু বদল আনলেই এই সমস্যা থেকে খানিক রেহাই পাওয়া সম্ভব। প্রথমত, সরাসরি এই লিকুইড সাবান বাসনে ঢালবেন না। এক কাপ জল নিন। তাতে কয়েক ফোঁটা লিকুইড মিশিয়ে নিন। তা দিয়েই বাসন মাজুন। তাছাড়া জল ধোয়ার পর যাতে বাসনে কোনও আঠালো আস্তরণ না থাকে সেদিকে নজর রাখুন। বিশেষ করে প্লাসিকের পাত্র বারবার জল দিয়ে ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে।

সবচেয়ে ভালো হয় যদি লিকুইড সাবানের বদলে লেবু ও ভিনিগার ব্যবহার করেন। এতে বাসনের তেলচিটে ভাব দূর হবে। এছাড়া বেকিং সোডা ব্যবহার করেও বাসনের কালচে দাগ তোলা যায় সহজেই। এমনকী গ্রামবাংলার রিঠা ফল ভিজিয়ে রেখে তা দিয়েও বাসন ঝকঝকে করে তোলা যায়। তাই, বিকল্প যখন হাতের কাছেই রয়েছে, সেখানে স্বাস্থ্যঝুঁকি নেওয়ার দরকাটাই বা কী!

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.