৭ ভাদ্র  ১৪২৬  রবিবার ২৫ আগস্ট ২০১৯ 

Menu Logo মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও বাঁকা কথা ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

আসছে শীত। ফুটবে নানা মরশুমি ফুল। কিন্তু জায়গা আর জমির বড়ই অভাব। কারণ, ছোট্ট বাড়ি কিংবা ফ্ল্যাট। তাই এক টুকরো জমির জন্য আর সাধের বাগানের জন্য ভরসা বারান্দা কিংবা ছাদ। তাই কীভাবে তৈরি হবে সেই শখের বাগান। আর ফ্ল্যাটের বারান্দা সাজবে মরশুমি ফুলে। তারই হদিশ দিচ্ছেন মানসী দাস মণ্ডল

বাঞ্ছারামের সেই বাগানের কথা মনে আছে নিশ্চয়ই – সেই রকম একটা বাগানে শখ কার না হয়! আজকের দিনে বাধ সাধে জায়গায়। শহরতলির ফ্ল্যাট বা বাড়ির পরিসরে বারান্দার জন্য বরাদ্দ জায়গাটুকু সত্যিই কম। কিন্তু তাতে কী? তার জন্য ইচ্ছে পূরণে খামতি থাকবে কেন? হোক না একচিলতে বারান্দা, কিছু প্ল্যানিং এই হতে পারে আপনার সাধ ও সাথে মেলবন্ধন-বারান্দায় বাগান।

[ঘরোয়া পদ্ধতিতে যত্নে রাখুন কস্টিউম জুয়েলারি]

যা করণীয়
সকালের চা থেকে অফিস ফেরত ক্লান্তি – অবসরযাপনের প্রিয় সঙ্গী এই বারান্দা। যদিও পৃথিবীটা ছোট হতে হতে বারান্দা এখন ব্যালকনির রূপ নিয়েছে। একটু ম্যানেজমেন্ট এর সাহায্যে এখানেই বানিয়ে ফেলুন সাধের বাগান। আপনার ব্যালকনির জায়গা অনুযায়ী কিনে ফেলুন কিছু সুন্দর টব। এখন বাজারে বেশ সুন্দর টব পাওয়া যায় – দেখতে একদম অন্যরকম। হস্তশিল্প মেলাতেও এই ধরনের টব পেয়ে যাবেন। স্পেস ম্যানেজমেন্ট করতে হ্যাঙ্গিং টবও নিতে পারেন – যা আপনার ব্যালকনির রেলিঙে ঝুলিয়ে দিতে পারেন। এছাড়া অনলাইনে প্লাস্টিকের কালারফুল, ফ্যান্সি সুন্দর টবও পেয়ে যাবেন। ছোট ব্যালকনির কার্নিশে আয়রনের পট হোল্ডার রেখে তাতেও টব বসাতে পারেন। সারাদিনে অন্তত দু’ঘণ্টা রোদ যাতে গাছ পায় সেদিকে খেয়াল রাখবেন। না হলে টব সরিয়ে কমপক্ষে এক দিন অন্তর গাছ রোদে দিন। মনে রাখবেন, যে কোনও গাছের প্রাথমিক শর্ত হল রোদ ও জল। মাঝে মাঝে সার দেওয়ার সাথে সাথে টবের মাটি আলগা করে দিন। সেক্ষেত্রে কেমিক্যাল ফার্টিলাইজার এর কথা না ভেবে ন্যাচারাল শাক সবজির খোসাকেও বেছে নিতে পারেন। মাঝে মাঝে গাছের পাতা ও ডাল প্রয়োজন অনুযায়ী ট্রিম করে নেবেন। তবে ট্রিমিং এর সঠিক সময় বসন্তকাল। এতে গাছ উচ্চতায় কম বেড়ে ঘন হবে। অনলাইনে কিনে নিতে পারেন বাহারি প্ল্যান্ট ট্রিমার। ডাল ট্রিম করার সাথে সাথে পোকায় খাওয়া পাতা ও ডাল অবশ্যই কেটে ফেলবেন – না হলে তা অন্য গাছে ছড়িয়ে পড়বে। পাতা ফ্রেশ রাখার জন্য জলের সাথে এপসম সল্ট মিশিয়ে স্প্রে করুন। লতানে কিছু পাতাবাহার গাছ লাগাতে পারেন। জায়গাও লাগে কম, দেখতেও খুব সুন্দর।

[অগোছালো আলমারি বলে দিতে পারে আপনার মনের কথা]

ঘাসের আগায়
নীল আকাশের নিচে বিস্তৃত সবুজ ঘাস যেন একটা অনুভূতি। এখন এই অনুভূতি ও হতে পারে চিরন্তন, আপনারই বাড়ির বারান্দায়। স্বল্প কিছু ব্যবস্থাপনায় বানিয়ে ফেলুন লন। আপনার প্রয়োজন মতো সঠিক মাপে গ্যালভানাইজড কন্টেনারে হাফ থেকে এক ইঞ্চি উঁচু করে বিছিয়ে দিন নুড়ি পাথর, এতে জল ড্রেনেজ এর সুবিধা হবে। এর ওপর দুই থেকে চার ইঞ্চি সার মেশানো মাটি বিছিয়ে দিন। এর ওপর ভেজা মাটিতে ছড়িয়ে দিন ইচ্ছেমতো ঘাসের বীজ। সেগুলো হাত দিয়ে খানিকটা চেপে দিন। প্রথম দিকে এতে জল দিতে হবে প্রতিদিন এবং অবশ্যই সারাদিনে কমপক্ষে দু’ঘণ্টা রোদ ভীষণ জরুরি। বারান্দায় যদি পর্যাপ্ত রোদ না আসে অন্য জায়গায় কন্টেনার রোদে বসিয়ে দিন। মোটামুটি এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যেই চারা বেরিয়ে আসবে। ইচ্ছেমতো সপ্তাহে একবার করে গ্রাস কাটার সিজার দিয়ে ট্রিম করে নিন আর উপভোগ করুন সবুজ ঘাসের সতেজতা।

যে গাছ লাগাতে পারেন
সাধারণত এমন কিছু গাছ লাগান যার মেইনটেন্যান্স কম এবং খুব কম পরিশ্রমেই বেড়ে উঠতে পারে। এক্ষেত্রে সবার আগে উঠে আসে গাঁদার কথা। খুব পরিচিত হলেও এর সৌন্দর্য কিন্তু এড়িয়ে যাওয়ার নয়। খুব ছোট টবের মধ্যে সুন্দরভাবে বেড়ে ওঠে বেগোনিয়া। এর অতিরিক্ত রোদ ও জলের প্রয়োজন নেই। প্যানসিও ছোট টবে সুন্দর বেড়ে ওঠে। তবে অতিরিক্ত রোদ না হলেও অতিরিক্ত জল কিন্তু এর প্রয়োজন। পাতাবাহার এর মধ্যে স্নেক প্ল্যান্ট ও অ্যালোভেরা, মানিপ্লান্ট, সিঙ্গোনিয়াম, স্পাইডার প্ল্যান্ট আপনার বাগানকে সমৃদ্ধ করে তুলবে। এছাড়া রংবেরঙের পিটুনিয়া, ক্রিপিং রোজও লাগাতে পারেন।

[গৃহস্থালির উপকরণেও এবার ঠাঁই পাচ্ছে পটের আঁকিবুকি]

প্রয়োজনীয় টিপস
১. গাছের যত্ন করতে গিয়ে দেখা যায় প্রায়ই বিভিন্ন পোকামাকড় এর জন্য গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। হাফ লিটার জলে সাধারণ কোনও হ্যান্ডওয়াশ কয়েক ফোঁটা গুলে গাছের পাতা ও ডাল ভাল করে ধুয়ে দিন। একদিনেই উপকার পাবেন।

২. গাছের যত্নে সার ভীষণ প্রয়োজন। বাজার চলতি রাসায়নিক সার না কিনে তৈরি করে নিন প্রাকৃতিক সার। প্রতিদিনের ফেলে দেওয়া মরশুমি সবজির খোসা, সাথে কলার খোসা মিক্সিতে জল দিয়ে পেস্ট করে নিন। জলের সাথে এই পেস্ট ১০:১ অনুপাতে মিশিয়ে দশ দিন অন্তর গাছের গোড়ায় দিন। উপকার পাবেন।

[কলার খোসা ফেলে দিচ্ছেন? ব্যবহারিক গুণ জানলে অবাক হবেন আপনি]

প্রয়োজনীয় তথ্য তো পেলেন, যেটা বাকি থাকল সেটা আপনার পরিশ্রম আর সময়। আর সামনে যখন শীত, তখন এখন থেকেই প্ল্যানিং শুরু করে দিন বাগানের। দেখবেন সামান্য পরিচর্যায় আপনার বারান্দায় রোদ্দুর…  থুড়ি বাগান।

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং