বারাণসীর অলিগলিতে লুকিয়ে রয়েছে নানা স্বাদের খাবারের ঠিকানা। কচুরী, লস্যি, দই, রাবড়ি এসব তো রয়েছেই, এর সঙ্গেই রয়েছে মরশুমি বেশ কিছু জনপ্রিয় খাবারও। বারাণসীর রূপ, রস, গন্ধ উপভোগ করার পাশাপাশি এখানকার খাবারের টানেও আসেন বহু পর্যটক। সেই জনপ্রিয় খাবারের তালিকায় রয়েছে মালাইয়ো,চাট, ঠান্ডাই ছাড়াও ‘পালঙ্ক তোড়’ মিষ্টি’ (Palang Tod Sweet)। যা মেলে মূলত ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
অর্থাৎ দীপাবলী থেক দোল উৎসব পর্যন্ত পাওয়া যায় বারাণসীর বিশেষ এই ‘পালঙ্ক তোড়’ মিষ্টি। যার দাম ১০০০-১৫০০ পর্যন্ত হয়। কী এমন মিষ্টি যে তার এত দাম? কখনও কি চেখে দেখেন? জানেন কি কীভাবে এই মিষ্টি তৈরি হয়? কী এর বিশেষত্ব? আধুনিক গ্যাস ওভেন বা বিদ্যুৎচালিত কোনও ওভেন নয় বরং পুরনো সেই উনুন ও ঘুঁটের আচেই তৈরি হয় বারাণসীর এই ‘পালঙ্ক তোড়’ নামক মিষ্টি। যা তৈরি হতে সময় লাগে কমপক্ষে ১২ ঘণ্টা। কম আঁচে দীর্ঘক্ষণ ধরে দুধ জ্বাল দিয়েই মূলত এই মিষ্টি তৈরি হয়। তাতে দেওয়া হয় মালাই, কেশর ও এলাচের মতো উপকরণ। দুধ জ্বাল দিয়ে মিষ্টি তৈরি হয়ে এলে তাতে আরও স্বাদ বাড়াতে দেওয়া হয় পেস্তা ও আমন্ড গুঁড়ো।
আরও পড়ুন:

কম আঁচে দীর্ঘক্ষণ ধরে দুধ জ্বাল দিয়েই মূলত এই মিষ্টি তৈরি হয়। তাতে দেওয়া হয় মালাই, কেশর ও এলাচের মতো উপকরণ। দুধ জ্বাল দিয়ে মিষ্টি তৈরি হয়ে এলে তাতে আরও স্বাদ বাড়াতে দেওয়া হয় পেস্তা ও আমন্ড গুঁড়ো।
বলে রাখা ভালো, উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন গ্রামে বিয়েতে নবদম্পতিকে এই মিষ্টি খাওয়ানোর বিশেষ প্রচলন আছে। বলা হয় এই মিষ্টিতে যে ধরণের উপকরণ ব্যবহৃত হয় তাতে এই মিষ্টি খেলে শরীরের দুর্বলতা দূর হয়। একইসঙ্গে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে এই মিষ্টির এত দাম কেন? সেক্ষেত্রে বলতে হয়, এক তো এই ‘পালঙ্ক তোড়’ মিষ্টি একদিকে যেমন মরশুমি মিষ্টি, তেমনই এতে ব্যবহৃত প্রতিটি উপাদানও ভীষণই দামি। সঙ্গে রয়েছে একটা দীর্ঘ সময়ের শ্রম। যা বারাণসীর বিশেষ এই মিষ্টিতে সুস্বাদু করে তোলে। তাই এই দোলের মরশুমে বারাণসী গেলে রাবড়ি, লস্যির পাশাপাশি ‘পালঙ্ক তোড়’ মিষ্টি খেতে ভুলবেন না যেন।