৫ কার্তিক  ১৪২৬  বুধবার ২৩ অক্টোবর ২০১৯ 

Menu Logo পুজো ২০১৯ মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও বাঁকা কথা ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

বাজার চলতি কিছু পেইনকিলার বাতিল হওয়ার দোরগোড়ায়। সুপ্রিম কোর্টের তৈরি চিকিৎসকদের কমিশন আবেদন জানিয়েছে, প্যারাসিটামল-সহ বেশ কিছু পেইনকিলার বাজার থেকে তুলে নেওয়া হোক। এমন পরিস্থিতিতে কাজে আসতে পারে ঘরোয়া টোটকা। এই নিয়েই আলোচনায় ডায়েটিশিয়ান মিতালি পালোধি। তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন তিতাস

দৈনন্দিন জীবনে কাজের চাপ, স্ট্রেস, শারীরিক খাটনি ও অন্যান্য নানা কারণেই মহিলারা ভিন্ন ধরনের ব্যথা অনুভব করেন। কখনও তা গাঁটে, কখনও কোমর, মাথা অথবা পিরিয়ডের সময় পেটে ক্র‌্যাম্প। চটজলদি আরাম পাওয়ার জন্য এখন সবাই পেনকিলারের ওপর নির্ভরশীল। এই পেনকিলার, তা সে কম ডোজের হোক বা চড়া- দীর্ঘদিন ব্যবহারে শরীরের নানান ক্ষতিসাধন করে এবং সমস্যাও নির্মূল হয় না, ধামাচাপা পড়ে যায় সাময়িকভাবে। বরং নিত্যদিনের নানা ব্যথার থেকে মুক্তি পাওয়ার একটি নিরাপদ উপায় আমাদের আশেপাশের প্রাকৃতিক উপাদান। তেমনই কিছু সাধারণ সমস্যা ও প্রাকৃতিক উপায়ে তার সমাধান।

বর্ষায় সুস্থ থাকতে মেনে চলুন বিশেষ ডায়েট প্ল্যান ]

আর্থারাইটিস

আর্থারাইটিসের সমস্যা এখন ঘরে ঘরে। এই সমস্যায় ব্যথা হওয়ার পাশাপাশি, ত্বক লালচে হয়ে যেতে পারে, ব্যথার অংশে ফোলাভাবও দেখা দিতে পারে। আর্থারাইটিস অর্থাৎ বাতের রুগীরা নিয়মিত খাবারে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড যুক্ত মাছ- যেমন, ইলিশ, পমফ্রেট, টুনা, পাবদা, রুই, সার্ডিন জাতীয় মাছ খান। মাছের পরিবর্তে কড লিভার অয়েল ক্যাপসুল খাওয়া যেতে পারে। আখরোট ওমেগা থ্রি-তে ভরপুর। নিয়মিত ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার বাতের ব্যথা ও ইনফ্লামেশন কমাতে সহায়ক। এছাড়া নিয়মিত এক থেকে দু’কোয়া রসুন আর্থারাইটিসের ব্যথা কমাতে সহায়ক। গ্রিন টি, ব্ল্যাক টি ও হোয়াইট টি-তে থাকা পলিফেনল্‌সে রয়েছে অ্যান্টি-ইনফ্লামেটারি প্রপার্টি, যা বাতের ব্যথায় কার্যকরী। ফ্রায়েড ও প্রসেসড খাবার- যেমন, বিস্কুট, চিজ, মাখন, ক্যান্‌ড খাবার, চিনি, ময়দা, অ্যালকোহল, অতিরিক্ত নুন বা নুন চড়া খাবার- যেমন, চিপ্‌স, ডালমুট, চানাচুর এড়িয়ে চলুন। নিয়মিত টাটকা আদা খেলেও অস্টিওআর্থারাইটিস ও রিউমাটয়েড অার্থারাইটিসে আরাম পাওয়া যায়। লাল লঙ্কা প্রাকৃতিক পেন রিলিভার হিসেবে কাজ করে আর্থারাইটিসে।

পেটখারাপ বা বদহজম বা পেটব্যথা

পেটের ইনফেকশন থেকে পেটব্যথা হলে আদা জলে ফুটিয়ে খাওয়া যেতে পারে। আদা ব্যথা কমানোর পাশাপাশি হজমেও সহায়ক। আদায় থাকা অ্যান্টি-ইনফ্লামেটারি কম্পাউন্ড জিঞ্জারোল ব্যথা উপশমে সহায়ক।

ডায়াবেটিস

ডায়াবেটিক নিউরোপ্যাথির কারণে অনেকেই ব্যথা অনুভব করেন। এর প্রধান কারণ ক্রনিক ডায়াবেটিস। এই ব্যথায় লাল লঙ্কা খাওয়া অত্যন্ত উপকারী।

শরীরের পক্ষে বিপজ্জনক, পেইনকিলার-সহ ৩৪৩টি ওষুধ বাতিলের সুপারিশ ]

গেঁটে বাত

গেঁটে বাত অর্থাৎ গাউটের জন্য চেরি ফল খাওয়া অত্যন্ত উপকারী। নিয়মিত চেরির জুস খেলে মাস্‌ল পেন হওয়ার সম্ভাবনা কমে। নিয়মিত আদা খেলেও গেঁটে বাতে উপকার পাওয়া যায়।

কোমর বা পিঠ ব্যথা

কোমর ও পিটের ব্যথায় রসুন খুব উপকারী। রসুনে থাকা সেলেনিয়াম ব্যথা কমাতে সহায়ক। নিয়মিত ভাতের পাতে দু’কোয়া কাঁচা রসুন খান। ২ চা চামচ থেঁতো করা রসুন ও অল্প হলুদ মিশিয়ে একগ্লাস জলের সঙ্গে খেয়ে নিন। দিনে ২ বার খেলে উপকার পাবেন। একমুঠো তুলসী এক কাপ জলে ফোটান। তাতে ৩ থেকে ৪ কোয়া রসুন দিন। জল ফুটে অর্ধেক হয়ে এলে ছেঁকে মিশ্রণটি ১ থেকে ২ বার খান দিনে।

আঘাত লেগে গা ব্যথা

হঠাৎ করে পড়ে গিয়ে হাতে-পায়ে ব্যথা হলে এক চা চামচ হলুদ গরম দুধে মিশিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যায়। হলুদে থাকা কারকিউমিন ইনফ্লামেশন কমাতে সহায়ক, সঙ্গে ক্যানসার প্রতিরোধক।

অতিরিক্ত খাটনির জন্য গা ব্যথা

২ ইঞ্চি আদা, ১ কাপ জল ও অল্প মধু ফুটিয়ে চায়ের মতো খেলে উপকার পাওয়া যায়। রাতে শোয়ার আগে ১ চা চামচ হলুদ, ১ গ্লাস দুধ ও অল্প মধু মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে। ১ চা চামচ রোজমেরি ১ কাপ জলে ফুটিয়ে খাওয়া যেতে পারে। দিনে তিনবার এটি খেতে হবে নিয়মিত।

মাথাব্যথা

মাথাব্যথা নানান কারণে হতে পারে। টেনশন, স্ট্রেস যেমন মাথাব্যথার কারণ, আবার দীর্ঘদিন কম্পিউটার স্ক্রিনে কাজ করা, চোখের পাওয়ার বাড়া-কমা, মাইগ্রেন, সাইনাস, ঠান্ডা লাগা থেকেও হতে পারে মাথাব্যথা। দেড় কাপ জলে ২ চা চামচ তাজা কুরনো আদা ফেলে ৫ মিনিট ফুটিয়ে তাতে প্রয়োজনে অল্প মধু মিশিয়ে দিয়ে ৩ বার খাওয়া যেতে পারে। ঠান্ডা লাগা থেকে মাথাব্যথা, মাইগ্রেনের ব্যথায় উপকারী এই চা। ১ চা চামচ পুদিনাপাতা ১ কাপ জলে ফুটিয়ে নিন। দিনে ৪ থেকে ৫ বার খান। অ্যাংজাইটি বা গ্যাস থেকে হওয়া মাথাব্যথা কমাতে সহায়ক পিপারমিন্ট টি। একমুঠো তুলসীপাতা জলে ফুটিয়ে খান। মাইগ্রেনের মাথাব্যথায় বিশেষভাবে কার্যকরী এই চা। মাথাব্যথায় দুধ চা ও কফি এড়িয়ে যান, পরিবর্তে উপরোক্ত হার্বাল টি বা কনকশন খান।

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং