Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৪ জুন ২০২৬

জেনে নিন কীভাবে মুক্তি পাবেন ধূমপানের নেশা থেকে?

বুধবার ‘অ্যান্টি টোব্যাকো ডে' থেকেই শুরু করুন সিগারেট ছাড়ার অভ্যেস।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ১১, ২০১৮, ১২:৪৩

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ১১, ২০১৮, ১২:৪৩

options
link
জেনে নিন কীভাবে মুক্তি পাবেন ধূমপানের নেশা থেকে? zoom

অনেক হয়েছে সিগারেট খাওয়া৷ এবার ছাড়ুন৷ পিষে মারুন৷ বুধবার ‘অ্যান্টি টোব্যাকো ডে’৷ এবার থেকে সিগারেট-ফ্রি জীবন কাটান৷ কিন্তু কীভাবে সম্ভব? জিনিয়া সরকারকে সেটাই জানালেন অ্যাপোলো গ্লেনিগলস হসপিটালের বিশিষ্ট পালমোনোলজিস্ট ডা. সুস্মিতা রায়চৌধুরি ও সাইকিয়াট্রিস্ট জয়রঞ্জন রাম

প্রতি বছর ৭০ লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হয় তামাকজাত দ্রব্য সেবনের জন্য৷ যার শীর্ষে ধূমপান৷ ২০৩০ সসালের মধ্যে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ৮০ লাখের বেশি৷ এমনটাই দাবি করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা ‘হু’৷ রোজকার জীবনে বেড়ে চলা মানসিক চাপ, দ্বন্দ্ব, প্রতিযোগিতা থেকে নিমেষে বেরিয়ে আসার পথ হিসাবে বেশিরভাগই টান দেন সিগারেটে৷ বয়স কিংবা লিঙ্গ উপেক্ষা করে এই পথে এখন সবাই চলছে৷ কেউ না বুঝেই নিজের ক্ষতি করে, কেউ আবার জেনেও বেরিয়ে আসতে পারে না৷ তবে সর্বনাশ থেকে বাঁচতে মনের জোর চাই৷

Advertisement

[বাড়ি চেয়ে বিজেপি বিধায়কের হাতে চরম অপমানিত হলেন মহিলা]

সুখটানে অসুখ: ধূমপান সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে ফুসফসে৷ যা থেকে শ্বাসকষ্ট, অ্যাজমার সমস্যা খুব বেড়ে যায়৷ মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয় হার্টও৷ ধূমপান হার্ট রেট বাড়ায়, রক্তচাপ বৃদ্ধি করে, পেশির মধ্যে রক্ত, অক্সিজেন ঠিক মতো পৌঁছয় না৷ যে কোনও বয়সিদের মধ্যে হার্ট অ্যাটাকের একটি বড় কারণ ধূমপান৷ বর্তমানে ক্যানসারের সবচেয়ে বড় কারণ ধূমপান৷ টানা ২০ বছরের বেশি সময় দিনে ১-২টি করে সিগারেট খেলে ফুসফুস ক্যানসার হওয়ার সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা থাকে৷ দীর্ঘদিন ধূমপানের জন্য সিওপিডি, ক্রনিক ব্রংকাইটিস-এর সমস্যা দেখা দেয়৷‌ অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় ধূমপান করলে সদ্যোজাতর সঠিক বৃ‌দ্ধি হয় না৷ শিশুর নিউমোনিয়া, অ্যাজমা, ইনফেকশন হওয়ার সম্ভাবনা দ্বিগুণ বেড়ে যায়৷ বেশি ধূমপান করলে খিদে কমে, পেটে আলসার হতে পারে৷ ধূমপানের অভ্যাস মারাত্মক ক্ষতি করে অল্পবয়সিদের৷ মানসিক অবসাদ বাড়তে থাকে৷ খিদে কমায় ওজন কমে, ঘনঘন কাশি, শ্বাসকষ্ট হয়৷ সাইনাসের সমস্যা দেখা যায়৷ ঋতুস্রাব স্বাভাবিক হয় না৷

[সাম্প্রদায়িক হিংসা ছড়ালে দু’পক্ষকেই শাস্তি, পুলিশকে বার্তা মমতার]

সর্বনাশা: সিগারেট বা তামাকের নিকোটিন সরাসরি মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলে৷ মস্তিষ্কের ডোপামিন (স্নায়ু উদ্দীপক) কেমিক্যালকে বেশি মাত্রায় উদ্দীপিত করে৷ এই কেমিক্যাল অনুভূতি, আবেগ, মোটিভেশন, সুখ বুঝতে সাহায্য করে৷ ধূমপানের মাধ্যমে নিকোটিন রক্তে মেশে৷ যতক্ষণ নিকোটিন শরীরে বা রক্তে বেশি থাকে ততক্ষণ ব্রেন উদ্দীপিত থাকে৷ মন ভাল হয়, চাপ কমে৷ সেই কারণে ধূমপান থেকে মানসিক তৃপ্তি পাওয়া যায়৷ তবে নিকোটিন শরীরে খুব কম সময় পর্যন্ত স্থায়ী হয়৷ ফলে একবার ধূমপান করার পর যখনই তার প্রভাব শরীর থেকে কমতে থাকে তখন আবার ধূমপান করার ইচ্ছা জাগে৷ এই ভাবেই আস্তে আস্তে ধূমপানে আসক্তি বাড়ে৷ নিকোটিন মন ভাল করলেও এরসঙ্গে আরও অনেক বিষাক্ত কেমিক্যাল শরীরে প্রবেশ করিয়ে দেয়, যা থেকে একাধিক অঙ্গের মারাত্মক ক্ষতি হয়৷

[উচ্চমাধ্যমিকে সসম্মানে উত্তীর্ণ মা-ছেলে, পাশ করতে পারলেন না বাবা]

ঝুঁকির প্যাসিভ স্মোকিং: যে ধূমপান করবে তার যেমন ক্ষতি তেমনই ক্ষতি চারপাশে থাকা মানুষদেরও৷ বিশেষ করে শিশুদের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়৷ প্রেগন্যান্ট মহিলাদের সামনে ধূমপান শুরু করলে সদ্যোজাতের ওজন খুব কম হয়৷ বড়দের ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে৷ সেকেন্ড হ্যান্ড স্মোকিং থেকে ফুসফুস ইনফেকশন, সর্দি, শ্বাসকষ্ট হয়৷ বিষাক্ত কেমিক্যাল শরীরে প্রবেশের মাত্রা সবচেয়ে বেশি সেকেন্ড হ্যান্ড স্মোকিং-এ৷ যা হার্টের অসুখের সম্ভাবনা বাড়ায়৷ হতে পারে হার্ট অ্যাটাক, হার্ট ফেল, স্ট্রোক৷

[দেশে ধর্ষণের সমস্যার নয়া সমাধান বাতলালেন অক্ষয় কুমার]

আসক্তি থেকে মুক্তি:

  • বন্ধু কিংবা সহকর্মী যতই একটা সিগারেট খেতে অনুরোধ করুক শুনবেন না৷ সহকর্মীকেও ধূমপান ছাড়ার জন্য বোঝান৷ যদি ধূমপান না করে কোনওভাবেই থাকতে না পারেন তা হলে চেষ্টা করুন যাঁরা ধূমপান করে না তাদের সঙ্গে সময় কাটাতে৷
  • অবসর সময়ে বই পড়ে, গান শুনে ও হাঁটতে গিয়ে নিজেকে ব্যস্ত রাখুন৷
  • মুখ ও হাত ব্যস্ত রাখতে মুখে চুইংগাম রাখুন, হেলদি স্ন্যাক্স খান৷ ভিডিও গেম খেলুন৷
  • খাওয়া শেষ হলে তাড়াতাড়ি টেবিল ছেড়ে উঠুন৷ তারপর নিজের যে কাজ করতে সবচেয়ে বেশি ভাল লাগে সেই কাজ করুন৷ তবে সিগারেট নয়৷
  • যে পরিমাণে চা-কফি খাওয়ার অভ্যাস রয়েছে তা দ্রুত কমান৷ যে কাপে ও যে জায়গায় গিয়ে চা খান সেটা বদলান৷ নতুন অভ্যাস শুরু করুন৷
  • গাড়িতে ধূমপান কখনওই নয়৷ গাড়ি অ্যাসট্রেতে নোট রাখুন, “স্মোকিং ইজ ইনজ্যুরিয়াস টু হেলথ৷”
  • পার্টিতে গেলে স্মোকিং জোন থেকে দূরে থাকুন৷ ইচ্ছে ও মনের জোরকে বেশি গুরুত্ব দিন৷
  • সিগারেট না খেয়ে নিকোটিন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি করলে উপকার বেশি৷ এতে শরীরে নিকোটিনের চাহিদাও মেটে ও সিগারেটের প্রতি আসক্তিও কমে৷

যোগাযোগ: ০৩৩ ৬০৬০ ১০৬৬

আরও জানতে ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.