ভালোবাসায় আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে থাকার নামই কি সম্পর্ক? যেকোনও রিলেশনশিপ টিকিয়ে রাখার তাগিদে আমরা কত কিছুই না করি! আপস করি, মেনে নিই, এমনকী দরকারে নিজেদেরকেও পালটে ফেলি। কিন্তু এই মানিয়ে নেওয়ার চক্করে একটা সময় নিজেদের অস্তিত্বটাকেই হারাতে বসি আমরা। একতরফা প্রচেষ্টা আর ক্রমাগত নীরবতার মাশুল গুনে নিজের আমিত্বকে বিসর্জন দেওয়া কখনওই ভালোবাসা হতে পারে না। মনোবিদদের মতে, অনেক সময়ই খুব ধীর গতিতে মানুষ নিজের অজান্তে এই ফাঁদে পা দেয়। সম্পর্ক বাঁচানোর এই ক্লান্তিকর যুদ্ধে আপনিও নিজেকে হারিয়ে ফেলছেন না তো! কীভাবে বুঝবেন?

আরও পড়ুন:
প্রথমত, নিজের মনের কথাটা বলার ইচ্ছে ধীরে ধীরে মরে যায়। কেজো কথা ছাড়া অন্যকিছু পার্টনারের সঙ্গে শেয়ার করার ইচ্ছেটা আপনা থেকেই চলে যায়। শুধু তাই নয়। অশান্তি এড়াতে অনেকেই নিজের মতামত আড়াল করতে শুরু করেন। যে কথা বললে সঙ্গীর মেজাজ বিগড়ে যেতে পারে, সেই সত্যিগুলো চেপে যাওয়াই একসময় অভ্যাসে পরিণত হতে শুরু করে। ক্ষণিকের জন্য অশান্তি হয়তো এড়ানো যায়, কিন্তু বারবার মনের কথা গিলে খেলে নিজের কণ্ঠস্বর একসময় আর নিজেকে চিনতে পারে না!
দ্বিতীয়ত, নিজের প্রিয় সম্পর্কগুলো থেকে দূরত্ব তৈরি হতে শুরু করে। কোনও সম্পর্কে পারস্পরিক সমঝোতা স্বাভাবিক, কিন্তু নিজের প্রিয় মানুষগুলোকে ভুলে যাওয়া স্বাভাবিক নয়। আগে যেসব বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়া বা যেসব শখ আপনাকে আনন্দ দিত, তা যদি সম্পর্কের ভিড়ে হারিয়ে যেতে শুরু করে, তবে তা বিপজ্জনক। যে জীবন কেবল সঙ্গীকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়, সেখানে নিজের স্বকীয়তাই ধীরে ধীরে হারিয়ে যায়।

তৃতীয়ত, আয়নায় দাঁড়িয়ে নিজেকেই অচেনা মনে হওয়া। কোনও নির্দিষ্ট ঘটনা বা বিপর্যয় ছাড়াই অনেক সময় মনজুড়ে এক গভীর শূন্যতা তৈরি হয়। নিজের হাসির ধরন, নিজের উচ্ছ্বাস কিংবা আত্মবিশ্বাস—সবকিছুই যেন ম্লান হতে শুরু করে। নিজের আলাদা সত্তা বলতে কী রইল, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে যদি চোখ আবছা হয়ে আসে, তবে বুঝবেন ভাঙনটা আসলে ভেতরে ভেতরে অনেকদূর ছড়িয়েছে।
চতুর্থত, সারাক্ষণ সঙ্গীর মেজাজ সামলাতেই দিন কেটে যায় কি? ঘরে ঢোকার আগে সঙ্গীর মনের ভাব আন্দাজ করা, কথা বলার আগে হাজারবার ভাবা এবং নিজের সমস্ত অনুভূতিকে দূরে সরিয়ে রেখে কেবল সঙ্গীর মন রাখতে ব্যস্ত থাকা মোটেই সুস্থ সম্পর্কের লক্ষণ নয়। নিজের আবেগ বা ক্লান্তি চেপে রেখে অপরের মেজাজ বজায় রাখা এক ধরনের মানসিক দাসত্ব।

পঞ্চমত, সঙ্গীর অন্যায্য আচরণকে অজুহাতে ঢেকে রাখছেন কি? সঙ্গী আঘাত করলেও ‘ও খুব মানসিক চাপে আছে’ বা ‘আমারই ভুল হয়েছিল’ বলে ভুল ব্যাখ্যা দাঁড় করানো আসলে নিজেকে অপমান করার শামিল। বারবার সহ্য করতে করতে মানুষ নিজের প্রত্যাশা কমিয়ে ফেলে, যা আদতে নিজের অস্তিত্ব মুছে ফেলারই নামান্তর।
যে কোনও সুস্থ সম্পর্ক ভালোবাসার আবাদি গড়ে তোলে। সুস্থতায় বিকশিত হয় সম্পর্কগাছ। তাই ভালোবাসার টানে নিজেকে বিলিয়ে দেওয়ার আগে একবার থামুন। সম্পর্ক বাঁচানো জরুরি ঠিকই, কিন্তু সেই চেষ্টার খেসারত হিসেবে নিজেকে নিশ্চিহ্ন করতে বসা কোনও কাজের কথা নয়।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
কোচবিহারের ৬০৬টি তপশিলি অধ্যুষিত গ্রাম পাবে ১০০ কোটি, আদর্শ গ্রাম প্রকল্পে বিরাট বরাদ্দ কেন্দ্রের
-
ফলো-অন বাঁচানোর যুদ্ধে শ্রীলঙ্কার ‘বন্ধু’ বৃষ্টি, দ্বিতীয় টেস্টে ভারতের অ্যাডভান্টেজেও চিন্তা কোথায়?
-
বাড়িতে ঢুকে আলো নিভিয়ে বিজেপি নেতা ও পরিবারকে মারধর! দলের একাংশই জড়িয়ে? তদন্তে পুলিশ
-
‘ড্রাগনে’র গ্রাসে অরুণাচল! সীমান্ত বিবাদের মাঝেই ৪০০ প্রতিনিধি নিয়ে ভারতে আসছেন জিনপিং
-
৯ বছর সামলেছেন টাটার সাম্রাজ্য, এবার মোদি মন্ত্রিসভায় সেই ক্ষুরধার মস্তিষ্ক?