২৭ আশ্বিন  ১৪২৬  মঙ্গলবার ১৫ অক্টোবর ২০১৯ 

Menu Logo পুজো ২০১৯ মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও বাঁকা কথা ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

অনুত্তমা বন্দ্যেপাধ্যায় (মনোবিদ): জিডি বিড়লায় চার বছরের শিশুই যৌন নির্যাতনের শিকার। অনেকেই এটাকে বিকৃতি বা মানসিক অসুস্থতা হিসেবে দেখছেন। কিন্তু আমি এই শব্দগুলো প্রয়োগ করতে চাই না। কেননা এই শব্দগুলো অপরাধীকেই খানিকটা প্রশ্রয় দিয়ে ফেলে। যেইমাত্র আপনি তাকে মানসিকভাবে অসুস্থ বলবেন, তখনই অন্য একটা জায়গা তৈরি হবে। বলা হবে, সেই অসুস্থতার কারণেই এই ধরনের কাণ্ড ঘটিয়ে ফেলেছে। কিন্তু তা তো নয়। আমি খুব স্পষ্ট করে বলছি, এটা হল ঘৃণ্য অপরাধ। সেক্সুয়াল অফেন্স।

‘দেড় লক্ষ টাকা দিয়ে মেয়েকে নামী স্কুলে ভরতির এই পরিণাম?’ ]

প্রশ্ন হচ্ছে, শিক্ষকরা কী করে এমন কাণ্ড ঘটালেন? আসলে শিক্ষকদের ভাবমূর্তি আমাদের কাছে একরকমভাবে তৈরি হয়ে আছে। আমরা তাই শকড, বিস্মিত হচ্ছি। কিন্তু এখন যাঁরা এই পেশায় আসছেন, তাঁরাও কি সেই একইরকম মূল্যবোধের সঙ্গে সম্পৃক্ত? এ প্রশ্ন করার সময় এবার এসেছে। আমি শিক্ষাজগতের নানা কাজের সঙ্গে যুক্ত। অভিজ্ঞতা বলছে, সব শিক্ষকই শুধু শিক্ষক হবেন বলে এই পেশায় আসেন না। অন্য পেশা থেকে এসেছেন, কিছু সুবিধা পাবেন বলে। বা ভিন্ন কোনও কারণে। শিক্ষক হওয়াই তাঁদের প্রথম ও প্রধান লক্ষ্য নয়। ফলে একজন শিক্ষকের থেকে আমরা যে মূল্যবোধ প্রত্যাশা করি তা এখানে মেলেনি। কেননা তাঁরা তো এই পেশার সঙ্গে একাত্মবোধই করেন না। অর্থাৎ মূল প্রশ্ন হল,  যে কেউ শিক্ষক হতে পারেন কি? এখন এরকম কোনও ব্যক্তির মনোজগত পরীক্ষার অনেক পদ্ধতি আছে। তাতে বোঝা যায়, কেউ একজন শিক্ষক হওয়ার জন্য কতটা উপযুক্ত। কিন্ত এখানে সেই ধরনের পদ্ধতি প্রয়োগের অভাব আছে। ফলে যে কেউ শিক্ষক হচ্ছেন। সে কারণেই সেই মূল্যবোধও নেই, একাত্মতাও নেই। তাই এই ধরনের কাণ্ড ঘটছে।

চকোলেটের লোভ দেখিয়ে শিশুকে যৌন নির্যাতন দুই শিক্ষকের ]

এবার ওই শিক্ষকদের ব্যক্তিগত প্রসঙ্গে আসি। নির্যাতিতার বয়স মোটে চার বছর। ওইটুকু দুধের শিশুও যৌন লালসার হাত থেকে রেহাই পায়নি। প্রশ্ন উঠছে, এরকম একটা বাচ্চার উপর কী করে কেউ যৌন নির্যাতন করতে পারে? এখানে আরও একটা কথা আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই, ৪ হোক বা ৪০, নারীশরীরকে শুধু যৌনতার সামগ্রী হিসেবে দেখার মানসিকতা সামগ্রিকভাবেই বদলাতে হবে। এই যে ঘটনাটি ঘটল, তার মূলে রয়েছে যৌনতার চাহিদা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা। সাধারণত যারা নিজেদের যৌন চাহিদাকে সামলাতে পারে না, তারা যে কোনও সফট টার্গেট খুঁজে বেড়ায়। সেখানে সবথেকে নিরাপদ শিশুরা। তারা কিছু বলতেও পারবে না। কেননা তাদের সঙ্গে ঠিক কী হচ্ছে সে সম্পর্কেই পুরোপুরি অবহিত নয় তারা। তাই চার বছরের শিশুও যৌন নির্যাতনের শিকার হতে পারে। হলও। আমরা শিশুদের ভাল-মন্দ শেখানোর বিষয়ে মন দিই। বাইরের পৃথিবীতে কোনটা খারাপ, সেটা তাদের শেখাই, বোঝাই। কিন্তু পাশাপাশি এই যে যৌন চাহিদা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা, এই যে জঘন্যতম কাণ্ড ঘটিয়ে ফেলা এ বিষয়েও আরও সতর্কতা ও সচেতনতার প্রয়োজন। বড়দের তো বটেই, ছোটদেরও অনেকসময় সেক্সুয়াল কমোডিফাই করা হয়। যেভাবে তাদের উপস্থাপিত করা হয় বিভিন্ন ক্ষেত্রে তা বাঞ্ছনীয় নয়। সামগ্রিকভাবে এই উপস্থাপনাগুলিই সমাজকে ভুল বার্তা দেয়। ফলে যৌনতার ক্ষেত্রে শিশুরা সফট টার্গেট হয়ে ওঠে।

অতীত থেকে শিক্ষা নেয়নি জি ডি বিড়লা স্কুল, ফুঁসছেন অভিভাবকরা ]

আমার বিশ্বাস, আরও বেশি করে চর্চা করলে এই পরিস্থিতি কাটানো সম্ভব। যৌনতার বাণিজ্যকরণ নিয়ে আরও বেশি সচেতন হওয়া দরকার আমাদের প্রত্যেকের। পাশাপাশি আমাকে যে বিষয়টি সবথেকে পীড়া দিয়েছে যে, স্কুল কর্তৃপক্ষ এখানে কোনও নজরদারির ব্যবস্থাই করেনি। এক্ষেত্রে প্রতিটি স্কুল কর্তৃপক্ষকেও আরও সজাগ হতে হবে। সেই সঙ্গে যখন কাউকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ করা হচ্ছে, তখন এটাও যাচাই করে নিতে হবে যে, তিনি আদৌ ভূমিকার জন্য উপযুক্ত কিনা। তবে কোনও বিকৃতি বা অসুস্থতা নয়, যে ঘটনা শহরকে নাড়িয়ে দিল, আমি তাকে ঘৃণ্য অপরাধ ছাড়া আর অন্য কোনওভাবেই দেখতে চাই না।

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং