প্রেমিক বা প্রেমিকার সঙ্গে এক সময় কোনও ঝগড়াই হত না। একসঙ্গে বিদেশ ভ্রমণে যাবেন, সুবিশাল অ্যাপার্টমেন্ট কিনবেন, নিজেদের গাড়িও থাকবে বাড়ির গ্যারেজে— এমন কত প্ল্যান বানিয়েছেন। অথচ আজকাল কথায় কথায় সংঘাত লেগেই থাকে। পরস্পরের প্রতি অভিযোগ জমছে দুজনের মনেই। বিচ্ছেদ ছাড়া আর কি অন্য উপায় নেই কোনও?

আরও পড়ুন:
প্রেমের সম্পর্কের শুরুতে যে ‘হানিমুন পিরিয়ড’ থাকে, তা একসময় ফিকে হয়ে যাওয়াই স্বাভাবিক। কিন্তু রিলেশনশিপ এক্সপার্টরা জানাচ্ছেন, চাইলে এই মিষ্টি-মধুর সময় দীর্ঘায়িত করা যেতে পারে। তার জন্য কাজে লাগাতে হবে এক বিশেষ পদ্ধতি। এই মন্ত্রের নাম ‘ইকিগাই’— যা জাপানি দর্শনের এক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। বছর কয়েক আগে হেক্টর গার্সিয়া ও ফ্রান্সেস্ক মিরালেস রচিত ‘ইকিগাই: দ্য জাপানিজ সিক্রেট টু আ লং অ্যান্ড হ্যাপি লাইফ’ নামের বইটি বেস্টসেলারও হয়।
বইয়ের নামে যা বলা, ‘ইকিগাই’ পদ্ধতি আদতে তাই। নির্ঝঞ্ঝাট জীবনযাপনের উপায় খুঁজে পাওয়াই এই নীতির মূলমন্ত্র। সম্পর্ক বিশারদরা বলছেন, প্রেমের ক্ষেত্রেও কাজে লাগানো যায় তা। ভবিষ্যতের বড়সড় যত পরিকল্পনা কিছুক্ষণের জন্য সরিয়ে রেখে, ছোট ছোট সমস্যা সমাধানে জোর দিতে বলা হয়েছে এতে।
- সম্পর্কের উদ্দেশ্য খুঁজুন – কেন একসঙ্গে থাকার কথা ভেবেছিলেন? সম্পর্কটির কারণে দুজনের জীবনে কী কী ভালো ঘটেছে, তার তালিকা করুন।
- পরস্পরের মূল্যবোধকে প্রশ্ন করুন – সম্মান, সততা, স্বাধীনতা, পরিবারের প্রাধান্য, চাকরিজীবন— এ সমস্ত নিয়ে দুজনের যা মতামত, তা কি মেলে? কোন কোন ক্ষেত্রে মেলে না? সেইসব ক্ষেত্রে কি কোনও একজনের পক্ষে অন্যজনের মূল্যবোধ মেনে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে?
- কাজ হাত দিন একসঙ্গে – এমন কোন কাজ আছে, যা দুজনে মিলে করলে ভারী আনন্দ হয়? তা সে ঘর গুছানো হোক, বিকেলে হাঁটতে যাওয়া, অথবা রান্না করা। ছোটখাটো কাজের দায়িত্ব ভাগ করে নিন। পরস্পরকে সাহায্য করুন।
- সম্পর্ক কেবল আবেগ নয় – যে কোনও সম্পর্কের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশই আবেগ। আবেগই তো এক মানুষকে অন্যজনের প্রতি আকৃষ্ট করে, প্রত্যাশার জন্ম দেয়। কিন্তু কেবলমাত্র আবেগে সম্পর্ক টেকানো যায় না। তাই জোর করেই জীবনের যা-কিছু কঠিন, তা সে দায়িত্ব-কর্তব্য যাই হোক না কেন, আলোচনা করুন দুজনে।

‘ইকিগাই’ মানলেই বিবাদ মিটবে, বাড়বে প্রেম। - নিয়মিত খোঁজ নিন পরস্পরের – রোজ দেখা হয়, কথা হয় তবু ‘কেমন আছো’-র মতো সাধারণ প্রশ্নই করতে ভুলে যাই আমরা। সময় নিয়ে উলটোদিকের মানুষটির কাছে জানতে চান সে কেমন আছে। সময় দিন সম্পর্কটিকে।
ব্যক্তিজীবনে শান্তি বজায় না রাখতে পারলে, বৃহৎ ক্ষেত্রেও তা রাখা সম্ভব নয়। তাই সম্পর্কে যে কোনও ধরনের সমস্যা দেখা গেলেই, আগে প্রশ্ন করুন নিজেকে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
অন্ধকারে আলোর রেখা! প্রীতি ম্যাচ ৩৬ ধাপ উপরে থাকা তাজিকিস্তানের বিরুদ্ধে ড্র ভারতের
-
সুজিত বসুর পর উজ্জ্বল বিশ্বাস, গ্রেপ্তার আরও এক প্রাক্তন মন্ত্রী, এবার ত্রাণচুরির অভিযোগ
-
রাজস্থানে বেআইনি বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ! ঝলসে মৃত অন্তত ৭
-
নীল-সাদা অতীত, নবান্নে এবার ‘রং দে তু মোহে গেরুয়া’
-
ভুরি ভুরি দুর্নীতি টাকিতে! হাই কোর্টে মামলা করে দাবি তৃণমূল কাউন্সিলরের