আইফোন কেনার নাছোড়বান্দা দাবি। আর দাবিপূরণ না হওয়ায় পাহাড়ের খাদে ঝাঁপ সন্তানের। চোখের সামনে সন্তানকে পড়ে যেতে দেখে নিজেকে সামলে রাখতে পারেননি বাবা। তিনিও ঝাঁপ দেন। স্বামী এবং সন্তানকে দেখে পাহাড়ের খাদে ঝাঁপিয়ে পড়েন মা-ও। নিমেষে শেষ গোটা পরিবার। মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগরের ঘটনায় শোরগোল সর্বত্র। মাত্র উনিশ বছর বয়সি কুণাল চাঁদওয়াড়ে কেন এমন সিদ্ধান্ত নিলেন? কী করা উচিত আজকের জেন জি অভিভাবকদের? জেনে নিন কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

আরও পড়ুন:
মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, কুণালের এই আচরণের পোশাকি নাম ‘ইমপালস কন্ট্রোল ডিজঅর্ডার’। এই মনোভাবের জন্য চরম সিদ্ধান্ত নিতে পারেন তিনি। আসলে একটা সময়ে যৌথ পরিবারে বড় হত শিশুরা। তখন তারা খেলাধূলার সুযোগ পেত। আর এখন সব পরিবারই বাবা-মা কেন্দ্রীক। আবার বাবা-মায়েরা চাকরিরত। সারাদিন পরিচারিকার কাছে থাকে খুদে। একাকীত্বে ভোগে তারা। আবার সন্তানকে সময় দিতে না পারার হতাশায় আত্মগ্লানিতে ভোগেন বহু অভিভাবক। তাই অনেক সময় যা চাইছে সন্তানকে তা কিনে দেন বাবা-মায়েরা। একসময় সেই দাবিপূরণ না হলে তার মনে হয় জীবন যেন শেষ হয়ে গেল। সে প্রবণতা থেকে চরম সিদ্ধান্ত নিতে পারে বয়ঃসন্ধির সন্তান।
ভয়ংকর এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে তাই সন্তানকে বড় করে তোলার ক্ষেত্রে কিছুটা সাবধানী হওয়া প্রয়োজন বলেই মত প্য়ারেন্টিং বিশেষজ্ঞদের। এই ঘটনার নেপথ্যে তিনটি কারণ থাকতে পারে বলেই মনে করেন প্যারেন্টিং বিশেষজ্ঞ পায়েল ঘোষ। সেগুলি হল: প্রথমত, চাইলেই দিয়ে দেওয়া। দ্বিতীয় কারণ, বন্ধুর আছে বলেই চাই। তৃতীয়ত, বস্তুবাদী হয়ে ওঠার প্রবণতা।
সন্তানের সমস্ত বায়না মেনে নেওয়া:
অনেক বাবা-মা ভাবেন, আমি ছোটবেলায় পাইনি। তাই সন্তানের যেন কোনও কিছুতে খামতি না থাকে। সন্তানের বায়না একেবারে ছোটবেলায় চিপসের প্যাকেট থেকে শুরু হয়। ধীরে ধীরে বায়না বাড়তে থাকে। একসময় তা আকাশছোঁয়া হয়ে যায়। তখন সন্তানের দাবিপূরণ করতে না পারলেই বিপদ। সন্তানদের সঙ্গে বাবা-মায়ের সংঘাত শুরু হয়। কখনও কখনও তার পরিণতি প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে।
সন্তানের সঙ্গে সম্পর্কের দূরত্ব:
এখন বেশিরভাগ বাবা-মা কর্মরত। তাঁরা দিনভর ব্যস্ত। অল্প সময় সন্তানকে কাছে পান। সেই সময়ে সাধারণত খাওয়াদাওয়া, পড়াশোনা নিয়ে কথা হয় তার সঙ্গে। আদতে কেমন দিন কাটছে বয়ঃসন্ধির সন্তানের, তা অজানাই থেকে যাচ্ছে বাবা-মায়ের। কিংবা বন্ধুকে দেখে তার মধ্যে অপ্রাপ্তিজনিত হতাশা তৈরি হচ্ছে কিনা, তা-ও জানতে পারছেন না অভিভাবকেরা। আর এই দূরত্বের ফলে পরিবারের অন্দরে দানা বাঁধছে সমস্যা। কিশোর সন্তান সেই হতাশা সামাল দিতে না পেরে শুধুমাত্র আবেগের বশে বহুক্ষেত্রে চরম সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে।

অতিরিক্ত কেনাকাটির অভ্যাস:
বর্তমানে বেশিরভাগ মানুষ ভীষণরকম বস্তুবাদী হয়ে যাচ্ছেন। প্রয়োজন ছাড়াই জিনিসপত্র কেনাকাটি করেন বহু বাবা-মা। তা সে অনলাইন হোক কিংবা অফলাইন। অনেক সময় ঋণ নিয়ে জিনিসপত্র কেনাকাটির উদাহরণও কম নেই। তার ফলে অযথা মানসিক চাপ তৈরি হচ্ছে। আর এই অভ্যাস নিজের অজান্তেই সন্তানের উপর কুপ্রভাব ফেলছে। তার ফলে অনেক সময় বড়সড় বিপদ ঘটছে।
অভিভাবকদের পরামর্শ:
- ছোট থেকে সন্তানের সমস্ত দাবিপূরণ করবেন না।
- কোনও জিনিস পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে শেখান।
- প্রয়োজনে অপ্রাপ্তির যন্ত্রণা অনুভব করতে দিন। তাতে আখেরে তার লাভই হবে।
- বয়ঃসন্ধির সন্তানের সঙ্গে প্রতিদিন কথা বলুন। সে কারও ব্যঙ্গোক্তির শিকার নাকি অপ্রাপ্তিজনিত মানসিক অবসাদে ভুগছে, তা জানার চেষ্টা করুন।
- অতিরিক্ত জিনিস কেনাকাটি করবেন না।
- সন্তানের সঙ্গে সহজভাবে কথা বলুন। সন্তানের সঙ্গে আপনার যাতে দূরত্ব তৈরি না হয়, সেদিকে বিশেষভাবে খেয়াল রাখুন।
- সন্তানের আত্মসম্মানবোধ তৈরি করুন। বয়ঃসন্ধির সন্তানকে প্রয়োজনে সংসারের আয়-ব্যয়, বাজেট নিয়ে কথা বলুন।
- অযথা বিলাসিতা করবেন না। নিজেও সহজভাবে জীবন কাটান। সন্তানকেও সহজভাবে জীবন কাটাতে শেখান।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
মন্দারমণির উত্তাল সমুদ্রে বড় অঘটন, স্নানে নেমে মৃত ১, খোঁজ নেই আরও এক পর্যটকের
-
বিমানবন্দরের ধাঁচে গড়ে উঠবে হাওড়া স্টেশন, থাকবে আধুনিক সুবিধা! পরিদর্শনে মন্ত্রী
-
আরাবুলের গাড়ি লক্ষ্য করে বোমা! কপাল জোরে প্রাণরক্ষা ভাঙড়ের ‘তাজা’ নেতার
-
ওড়িশা উপকূলে ডুবল পানামার পতাকাধারী জাহাজ! ২৪ নাবিকের খোঁজে তল্লাশি
-
রাজস্থানের ৬১১ সরকারি স্কুলের নিজস্ব ভবনই নেই! ‘আরশোলা’দের কর্মসূচির মাঝেই প্রকাশ্যে রিপোর্ট