উসখুস মন। সারা দিন বৃষ্টি। জানলার কাচে ঝুঁকে থাকে মেঘ। শ্রাবণের এমন মেঘলা দিনে প্রিয় ‘বান্ধবী’র কথা মনে পড়ছে বারবার? ফোন হাতে তুলেও পিছিয়ে আসছেন? নাকি একবার ফোন করাই যায় তাকে? এমন আলো-আঁধারি সংশয়ে চোখ পড়ল ক্যালেন্ডারের পাতায়। আজ ১লা আগস্ট! অদ্ভুত সমাপতন। গোটা বিশ্বজুড়ে উদযাপিত হচ্ছে ‘জাতীয় গার্লফ্রেন্ড দিবস’। কিন্তু আজকের দিনটাই কেন? ভালোবাসা উদযাপনের আঙিনায় মনের মানুষ কীভাবে জায়গা করে নিল?

আরও পড়ুন:
নেপথ্যে কোন কাহিনি?
সে এক ভারি মিষ্টি ইতিহাস। এই উদযাপনের বয়স খুব বেশি নয়। একুশ শতকের সূচনাতেই এর সূত্রপাত। ২০০২ সালে লেখিকা ক্যাথলিন লাইং এবং এলিজাবেথ বাটারফিল্ড তাঁদের ‘গার্লফ্রেন্ডস গেটঅ্যাওয়ে’ বইটির প্রকাশ উপলক্ষে ১ আগস্ট দিনটিকে বিশেষ সম্মান জানানোর বার্তা দেন। পরবর্তীতে ২০০৪ সালে অ্যালিসা সাভারিনো হাইস্মিথ নারী-বন্ধুত্বের উদযাপনের মাধ্যম হিসেবে এই দিনটিকে বিশ্বমঞ্চে জনপ্রিয় করে তোলেন। দেখতে দেখতে তা আন্তর্জাতিক সীমানা পেরিয়ে মন জয় করে নেয় গোটা বিশ্বের।
শুধুই কি প্রেমের সম্পর্ক?
‘গার্লফ্রেন্ড’ শব্দটির ব্যাপ্তি কেবল প্রেমিকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। নারী সঙ্গ সমৃদ্ধ করে একজন পুরুষকে। যে বান্ধবী কঠিন পরিস্থিতিতে হাতের মুঠো শক্ত করে ধরে থাকতে জানে, মধ্যরাতে বিরতিহীন গল্পে মনের ভার নামায়—তাঁর প্রতি ভালোবাসা জানানোর দিন এটি। মনস্তাত্ত্বিকদের মতে, জীবনের নানা ঘাত-প্রতিঘাতে এই প্রগাঢ় সমানুভূতি মানসিক সুস্থতার বড় রসদ। ইংরেজিতে বলা হয়, “A sweet friendship refreshes the soul.” আত্মাকে সতেজ রাখার এই শক্তি লুকিয়ে থাকে এমনই সম্পর্কের মাঝে।

প্রেমিকার অভিমান ভাঙাবেন কীভাবে?
- অহংকার ভুলে নিজের ভুল স্বীকার করুন এবং সত্যি অনুশোচনা নিয়ে ‘সরি’ বলুন।
- কোনও অজুহাত না দিয়ে তাঁর কথা মন দিয়ে শুনুন এবং পূর্ণ মনোযোগ দিন।
- তাঁর পছন্দের একগুচ্ছ ফুল বা ছোট কোনও উপহার দিয়ে ভালোবাসার সারপ্রাইজ দিন।
- ডিজিটাল মেসেজের বদলে নিজের হাতে লেখা একটি মিষ্টি অনুভূতির চিঠি পাঠান।
- আপনাদের সম্পর্কের পুরোনো সুন্দর কোনও স্মৃতি বা মিষ্টি ছবি শেয়ার করুন।
- তাঁর প্রিয় কোনও খাবার নিজের হাতে বানিয়ে কিংবা অর্ডার করে খাওয়ান।
- অহেতুক তর্ক না করে তাঁকে কিছুটা সময় দিন, যাতে অভিমান গলে চিনি হয়।
কীভাবে উদ্যাপন করবেন?
কোনও নির্দিষ্ট নিয়ম নেই। নিজের মতো করে দিনটি উদ্যাপন করুন। ভালোবাসার মানুষকে একটা ফোন করুন। মান-অভিমান কাটিয়ে উঠুন। কিংবা কোনও ক্যাফেতে গিয়ে মুখোমুখি বসুন। নদীর স্বচ্ছ ভাষার মতো ভালোবাসাকে উচ্চারণ করুন। সম্মান করুন আপনার প্রিয় বান্ধবীকে। সম্পর্কের সুন্দর মুহূর্তগুলো মনে মনে উদ্যাপন করুন।

আজকের ব্যস্ত জীবনে এমন একটা দিন জীবনের চলার পথে বাড়তি অক্সিজেন জোগায় বইকি! তাই ‘বান্ধবী দিবস’ গালভরা কোনও দিন নয়, বরং বন্ধন উদযাপনের এ এক মায়াবী অনুঘটক।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
ভুয়ো চিকিৎসকের চিকিৎসায় শিশুর মৃত্যু! বদলের বাংলায় আস্ত হাসপাতাল বন্ধ করল সরকার
-
রুশ তেল কেনায় ১০০ শতাংশ শুল্ক-খাঁড়া! ভারতের উপর চাপ বাড়িয়ে মার্কিন কংগ্রেসে পাশ বিল
-
মুসলিম হয়েও গণেশ পুজো জাহির ইকবালের! স্বামীকে কটাক্ষের হাত থেকে বাঁচাতে কী করলেন সোনাক্ষী?
-
টিম ইন্ডিয়ায় জায়গা হচ্ছে না, মনখারাপে বাবার কোলে বৈভব! ‘বাচ্চা’কে নিয়ে কী বললেন সঞ্জীব?
-
‘সংসদেও একসঙ্গে থাকব না’, জোট প্রস্তাব খারিজ হতেই কংগ্রেসের জন্য ‘দরজা বন্ধ’ করলেন মমতা