১১ বৈশাখ  ১৪২৬  বৃহস্পতিবার ২৫ এপ্রিল ২০১৯ 

Menu Logo নির্বাচন ‘১৯ মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও #IPL12 ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

উপায় বাতলাচ্ছেন ডা. রাজা ধর

ঘুমের মধ্যে নাক কে না ডাকেন, বলুন তো? অল্প-বিস্তর সমস্যাটা প্রায় সবারই থাকে। নামটা সকলের জানা না হলেও, এ রোগের পোশাকি নাম স্লিপ অ্যাপনিয়া। তা বলে নাক যাঁরা ডাকেন, সবারই যে স্লিপ অ্যাপনিয়া রয়েছে, তা তো আর বলা যায় না। তবে, শতকরা ১০০ জনের মধ্যে ২৫ জনের ক্ষেত্রে তো বটেই!

ঠিক কী কারণে হয়:
শ্বাসনালির উপরের অংশের সঙ্কোচন, নাকের মাঝখানের হাড় বাঁকা হলে নাক ডাকার সমস্যা হয়৷ যাঁদের স্লিপ অ্যাপনিয়া রয়েছে, তাঁদের শ্বাসনালির নিচ পর্যন্ত বিভিন্ন স্থান সঙ্কুচিত হয়ে ঘুমের মধ্যে বন্ধ হয়ে যায়। এই বিভিন্ন স্থান সঙ্কোচনের উপর নির্ভর করে স্লিপ অ্যাপনিয়াকে ভাগ করা হয় তিন শ্রেণিতে৷ সেন্ট্রাল স্লিপ অ্যাপনিয়া, অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া, মিক্সড স্লিপ অ্যাপনিয়া৷

ঘুমের সময় মস্তিষ্ক শ্বাস নেওয়ার জন্য শ্বাসপেশিকে নির্দেশ দেয়৷ যখন ব্রেন থেকে সেই নির্দেশ ঠিকভাবে শ্বাসপেশিতে পৌঁছয় না, তখন হয় সেন্ট্রাল স্লিপ অ্যাপনিয়া৷ যখন মস্তিষ্ক সিগন্যাল পাঠায় পেশিতে, পেশিও চায় নিশ্বাস নিতে, কিন্তু শ্বাসনালিতে বাধা পেয়ে পর্যাপ্ত বায়ু আসতে পারে না, তখন হয় অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া৷ আর, সেন্ট্রাল স্লিপ অ্যাপনিয়া ও অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া, দু’টিই যখন একসঙ্গে থাকে তখন সেই সমস্যাকে বলা হবে মিক্সড স্লিপ অ্যাপনিয়া৷

হলে কী হয়:
স্লিপ অ্যাপনিয়ায় আক্রান্ত হলে ঘুমিয়ে অথবা জেগে থাকা অবস্থায় মৃত্যুও হতে পারে৷ এক্ষেত্রে শ্বাসনালির বিভিন্ন স্থানে ব্লক থাকায় প্রয়োজনীয় অক্সিজেন হৃদয়ে পৌঁছতে না পারায় প্রথমে হার্ট ও পরে ব্রেনে অক্সিজেনের মাত্রা কমে গিয়ে মৃত্যু হয়৷
রাতে উপযুক্ত অক্সিজেনের অভাবে বেশিরভাগ অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হয়৷ ব্রেন ড্যামেজ, হার্ট ড্যামেজ হয়ে স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাক হয়৷
হৃদস্পন্দনের হার ঠিক না থাকায় হাই ব্লাডপ্রেশার, ডায়াবেটিসের সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়৷
এই সমস্যা মহিলাদের তুলনায় পুরুষদের বেশি হয়৷ যাঁদের স্লিপ অ্যাপনিয়া আছে এবং ধূমপান করেন তাঁদের রিস্ক আরও বেশি৷
স্লিপ অ্যাপনিয়া থাকলে সাধারণত ঘুমের মধ্যে কথা বলা, হেঁটে বেড়ানো, হাত-পা ছোড়ার মতো, অ্যাবনরমাল স্লিপ বিহেভিয়ার দেখা যায়৷
রাতে ঠিকভাবে ঘুম না হওয়ায় দিনে ঘুম পায়, ব্রেনের ক্ষতি হয়, স্মরণশক্তি কমে ও মনঃসংযোগের অভাব ঘটে। এমনকী তাড়াতাড়ি রাগ ও বিরক্তির উদ্রেক হওয়া ও কাজে মন না থাকায় চাকরি খোয়ানোর সম্ভাবনা থাকে অনেক বেশি৷
এই সমস্যা থাকলে মাথা যন্ত্রণা হয়, মাথা ভার লাগে সারাক্ষণ, সেক্সুয়াল ডিসফাংশন দেখা যায়৷

কাদের এই সমস্যা বেশি?
যাঁদের ওজন বেশি, তাঁদের স্লিপ অ্যাপনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা সাধারণত ৭০ শতাংশ৷
অনূর্ধ্ব পঞ্চাশের মহিলাদের চেয়ে পুরুষদের অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়ার সম্ভাবনা বেশি৷
বয়স ৫০ পেরোলে পুরুষ কিংবা মহিলা, দুইয়েরই এই সমস্যা হতে পারে৷
আগে স্ট্রোক হয়েছে এমন রোগীদের মধ্যে ৬০ শতাংশ ও হার্টের রোগীদের ৩০-৫০ শতাংশ স্লিপ অ্যাপনিয়া হওয়ার সম্ভাবনা থাকে৷

সমস্যার সমাধান
স্লিপ অ্যাপনিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের দুই ধরনের চিকিৎসা করা হয়৷ সার্জিক্যাল ও নন সার্জিক্যাল৷
সার্জারি করে শ্বাসনালির একটি স্থানের ব্লকেজ খুলে দেওয়া যায়৷
স্লিপ অ্যাপনিয়ার সমস্যায় শ্বাসনালির একটি জায়গায় নয়, অনেকগুলি জায়গাতেই ব্লক থাকে৷ এক্ষেত্রে CPAP (Continuous Positive Airway Pressure) সবচেয়ে ভাল কাজ করে৷ CPAP শ্বাসনালিকে ঘুমের সময় কতটা খুলে রাখা দরকার সেটা বুঝে শ্বাসনালিকে খুলে রাখে৷ এই যন্ত্র নিজে থেকেই বুঝতে পারে ঘুমের গভীরতা অনুযায়ী শ্বাস-প্রশ্বাসের প্রয়োজনে শ্বাসনালি উন্মুক্ত রাখতে কতটা প্রেশার দরকার৷
বাচ্চাদের ক্ষেত্রে স্লিপ অ্যাপনিয়া দেখা যায় টনসিলের সমস্যা থাকলে৷ সেক্ষেত্রে অপারেশন করে সমস্যা মেটানো যায়৷

এই রোগ ও তার প্রতিকার সম্বন্ধে আরও জানতে ক্লিক করুন epaper.sangbadpratidin.in/ বা ডাক্তারবাবুকে ফোন করুন এই নম্বরে- 9051606454

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং