৪ কার্তিক  ১৪২৬  মঙ্গলবার ২২ অক্টোবর ২০১৯ 

Menu Logo পুজো ২০১৯ মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও বাঁকা কথা ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

সি সি ক্যামেরা। এর এক টুকরো ছবি থেকেই ধরা পড়ছে ক্রাইমের সুলুক। পাকড়াও হচ্ছে অপরাধী। জানা যাচ্ছে নানা অপরাধ। সেই ক্যামেরার লেন্স প্রয়োগ নিয়ে কারিকুরি অনেক। সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল-এর অন্তর্তদন্ত। তথ্য তুলে এনেছেন ধীমান রায়

[চোখের সামনে বাইক উধাও, নেপথ্যে কোন চক্র সক্রিয়?]

সিসিটিভিতেও কেরামতি
চিত্র এক : লেডিবার্ড সাইকেলে চড়ে নাচের স্কুলে যাচ্ছে সুচেতনা। সামনের ঝুড়িতে তার হাত ব্যাগ। সেখানেই মোবাইল, পায়ের ঘুঙুর সঙ্গে কিছু টাকা আছে। পিছন থেকে বাইকে চড়ে এল দুই যুবক। পিছনের জন ছোঁ মেরে সেই ব্যাগ নিয়ে চম্পট। চিৎকার করেও লাভ হল সুচেতনতার। সে গেল পাশের থানায়।

[ব্যাঙ্ক ম্যানেজারের নাম করে ফোন, প্রতারকদের থেকে সাবধান]

চিত্র দুই : পুজো সেরে ডালি হাতে ফিরছেন মঞ্জু দেবী। পুজোর ডালির সঙ্গে হাতে ধরা ব্যাগ। তাতে গুরুর দেওয়া মন্ত্রপূত তাবিজ। মোবাইল ফোন, বাড়ির চাবি আর কিছু টাকা। রাস্তায় তেমন ভিড় ছিল না। একটি বাইক এসে দাঁড়াল। ধীরেসুস্থে নেমে এল এক মধ্যবয়সী। হেলমেট পরা। নিমেষে ছোঁ মেরে চলে গেল মোবাইল ভর্তি ব্যাগ।

চিত্র তিন : কলেজ ফেরত সামিমা। মোবাইলে গল্পে মগ্ন। চলন্ত বাইক তুলে নিয়ে গেল মোবাইল ফোনটি। কিছুটা ধাওয়া করল সামিমা। কিন্তু ততক্ষণে চম্পট সেই বাইকআরোহীরা।
এই তিনটি ঘটনা উদাহরণমাত্র। আসলে বিন্দুতে সিন্ধুদর্শন করতে গেলে এটাই যথেষ্ট। তার উপর এখন উৎসবের মরশুম চলছে। বড়দিন-ইংরেজি নববর্ষ পালনের ধুম লেগেছে। পার্ক থেকে রেস্তরাঁ, তিল ধারণের জায়গা নেই। অনেক সময়ই দুষ্কৃতীরা ধরা পড়ে। বেশিরভাগ সময়ই পড়ে না। তবে যারা ধরা পড়ে, সেই ক্ষেত্রে ধরা পড়ার সূত্র অনেকটাই সিসি ক্যামেরা। তাই খুব স্বাভাবিক কারণে সিসি ক্যামেরার এই ছোট্ট লেন্সের ওপরেই প্রশাসনের ভরসা বাড়ছে আরও।

[লণ্ঠন অন্ধকার, অসাধু চক্রের ‘হাতযশে’ কেরোসিনে চলছে বাস]

সিসিটিভি সিস্টেম কী?

ক্লোজ সার্কিট টেলিভিশন ক্যামেরার সংক্ষিপ্ত রূপ হল সিসিটিভি ক্যামেরা। এটি এমন এক ধরনের নিরাপত্তা ক্যামেরা, যেটি বাড়ি বা অফিসের নির্দিষ্ট লোকেশনে সেট করা থাকে এবং এতে বন্দি হওয়া ভিডিও একটি নির্দিষ্ট কেন্দ্রে এক বা একাধিক টেলিভিশন মনিটরে প্রদর্শিত হয়। নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশংকা আছে এমন সব স্থানে যেমন- ব্যাংক এবং শপিংমলে এ ধরনের ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়। যেখানে এমন ক্যামেরা লাগানো হবে সেই এলাকাকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করে সাধারণত ৪টি, ৮টি অথবা ১৬টি ক্যামেরা লাগানো হয়। এরপর ‘সেফ জোনে’ একটি কেন্দ্রীয় মনিটরিং ব্যবস্থা থাকে, যেখানে টেলিভিশন মনিটরের মাধ্যমে একজন মানুষ পুরো এলাকার ওপর নজর রাখতে পারে। ব্যবহারের ভিন্নতার কারণে সিসিটিভি ক্যামেরা বিভিন্ন প্রকারের হয়ে থাকে। যেমন, সাধারণ ক্যামেরা, ডোম ক্যামেরা, হিডেন ক্যামেরা, স্পাই ক্যামেরা, স্পিড ডোম পিটিজেড ক্যামেরা, ডে-নাইট ক্যামেরা, জুম ক্যামেরা, ভেন্ডাল প্রুফ ক্যামেরা এবং আই পি ক্যামেরা। ইনডোর সিসিটিভিগুলোর জন্য খরচ পড়ে ৩,০০০-১৫,০০০ টাকা। আউটডোর সিসিটিভি লাগাতে খরচ করতে হবে ৪৫,০০০ -৫০,০০০ টাকা।

[সরকার পাঠাচ্ছে খাদ্যসামগ্রী, কোন চক্র উধাও করছে রেশনের চাল-গম?]

ডিভিআর  (ডিজিটাল ভিডিও রেকর্ডার)

কোনও বড় অফিস বা মিল-কারখানার নিরাপত্তার জন্য ব্যবহৃত হয় ৮ বা ১৬ চ্যানেলের স্ট্যান্ড অ্যালোন এমবেডেড ডিভিআর (ডিজিটাল ভিডিও রেকর্ডার) এবং বিল্ট-ইন ডিভিডি রাইটার। ক্যামেরার ছবি একই পর্দায় একসঙ্গে দেখা যায় এবং আলাদা আলাদা ভাবে হার্ড ডিস্কে রেকর্ড হয়। এছাড়াও হাই স্পিড ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে বিশ্বের যে কোনও জায়গা থেকে লগ ইন করে লাইভ সিসিটিভি মনিটরিং বা রেকর্ডিং করা যায়। ডিভিআর লাগাতে চাইলে খরচ করত হবে ৩৫,০০০- ৯৫,০০০ টাকা।

অ্যাকসেস কন্ট্রোল

সাধারণত বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের নিরাপত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা কখন অফিসে যাচ্ছে বা কখন বের হচ্ছে সেটি জানার জন্যই মূলত অ্যাকসেস কন্ট্রোল এবং টাইম অ্যাটেনডেন্স সিস্টেম ব্যবহৃত হয়। ডিজিটাল কার্ড, পাসওয়ার্ড অথবা ফিঙ্গারপ্রিন্ট ব্যবহার করে ‘আন-অথরাইজড’ প্রবেশও বন্ধ করা যায়। একেকটি কার্ডে একেক কোড থাকে। কর্মীরা যখন এ কার্ড ‘পাঞ্চ’ করে তখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে এ প্রযুক্তি কর্মীর প্রবেশ সময় রেকর্ড করে রাখে। ওই কর্মী যখন আবার অফিস থেকে বের হবেন তখনও তাকে দরজায় কার্ড স্পর্শ করেই দরজা খুলতে হয়। তখন কর্মীর অফিস ছাড়ার সময়ও প্রযুক্তিটি নিজ থেকে রেকর্ড করে রাখে। অফিসের কর্মচারীদের আসা-যাওয়া মনিটর করার প্রযুক্তি অফিস অ্যাটেনডেন্স ব্যবহারের জন্য খরচ পড়ে ৯০,০০০-২ লাখ টাকা পর্যন্ত।

[পাচারের ছক বদল, অনলাইনে বিক্রি হাতির দাঁত-সাপের বিষ]

বালি নিয়ন্ত্রণে ক্যামেরা

অতি ভরসা ক্যামেরার উপর। পুলিশের সাফল্য দেখে এবার বালিঘাটে ক্যামেরা লাগানোর কথা বলেছে প্রশাসন। যে ক্যামেরা লাগাতে হবে আবার ঘাট মালিকদেরই। এ যেন বিড়ালকে মাছ পাহারায় বসিয়ে নিশ্চিন্ত হতে চাইছে প্রশাসন। ওয়াচ টাওয়ার করে তাদেরই সি সি ক্যামেরা লাগাতে নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। কিন্তু মালিকরা কি তাদের নিজেদের অপরাধের ছবি তুলে ধরবে তাদেরই বসানো ক্যামেরায়?

ক্যামেরা নির্ভর প্রশাসন

জেলা পুলিশ কর্তাদের মতে, শুধু ক্যামেরার ওপর প্রশাসন চলবে না। চলে না। অফিসারদের দক্ষতা থাকা দরকার। ক্যামেরা সূত্র হতে পারে। একমাত্র মাধ্যম নয়।তবু সাম্প্রতিক বেশ কিছু ঘটনার সূত্র দিয়েছে ক্যামেরা। তাই অপরাধ নিয়ন্ত্রনে প্রশাসনের হাতিয়ার কয়েক টুকরো লেন্সের অবিরাম নজরদারি।

[সিরাপের হাত ধরে নেশা, কোড নেমেই সক্রিয় চক্র]

ক্যামেরাতেও হাত

রাস্তায় লাগানো প্রশাসনের সিসি ক্যামেরায় দুষ্কৃতীরা কোনও কারসাজি করতে পারে না। সেটা সম্ভব নয়। তবে বিভিন্ন এটিএম, ব্যাঙ্ক বা আবাসনে লাগানো সিসি ক্যামেরায় দুষ্কৃতীরা সাধারণত তিনভাবে নিজেদেরকে গোপন রাখার চেষ্টা করছে ইদানিংকালে। প্রথমত সিসি ক্যামেরাগুলির মুখে কালো কাপড় বা পিচবোর্ড লাগিয়ে দিয়ে কাজ হাসিল করছে দুষ্কৃতীরা। তাতে ক্যামেরার রেকর্ড করা ভিডিও টেপে কিছুই ধরা পড়ছে না। দ্বিতীয়ত, ক্যামেরার সামনের কাচ ভেঙে দেওয়া। তাতেও অকেজো হয়ে পড়ে সিসিটিভি ক্যামেরা। আর তা যদি করা সম্ভব না হয়, এবং দুষ্কৃতীমূলক কাজ করার পর যদি বোঝা যায় সিসি ক্যামেরা চলছে তাহলে নিজেদের বাঁচাতে দুষ্কৃতীরা অনেকসময় হার্ডডিস্কটিই নিয়ে চম্পট দেয়।

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং