২ কার্তিক  ১৪২৬  রবিবার ২০ অক্টোবর ২০১৯ 

Menu Logo পুজো ২০১৯ মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও বাঁকা কথা ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

দেবব্রত মণ্ডল, সজনেখালি: শীতের আমেজ শুরু হতেই ভিড় বাড়তে শুরু করেছে সুন্দরবনের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে। পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরাও আশা করছেন ভাল ব্যবসার। আর দূরদূরান্ত থেকে আসা পর্যটকদের নিরাপত্তা দিতে সতর্ক পুলিশ। প্রকৃতি যেন নিজের হাতে সাজিয়েছে সুন্দরবনের পরিবেশ৷ মন ভরে এসব উপভোগ করতে শীতের মরশুমের শুরুতেই ভিড় করছেন ভিনরাজ্যের পর্যটকরা। পৃথিবী বিখ্যাত রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার দেখতে সুন্দরবন কার্যত মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।

[এবার শীতে আপনার গন্তব্য হোক ‘লাজুক’ কুমাই]

বিচিত্র গাছগাছালি আর বনের মধ্যে বন্যপ্রাণীর আনাগোনা সঙ্গে ম্যানগ্রোভের শ্বাসমূলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে অভিভূত পর্যটকরা। এতদিন প্রকৃতির এই বিপুল ঐশ্বর্য থাকলেও সেখানে পৌঁছনোর পর্যাপ্ত পরিকাঠামো ছিল না। বিগত ক’বছরে একাধিকবার মুখ্যমন্ত্রী নিজে সুন্দরবনে এসে সেই পরিকাঠামোর ঘাটতি দেখে নয়া পরিষেবা চালুর নির্দেশ দিয়েছেন। আর সুন্দরবন উন্নয়ন দপ্তর এবং রাজ্য প্রশাসন দরাজ হাতে হোটেল, রেস্তরাঁ থেকে শুরু করে জলযানের বিস্তর ব্যবস্থা করেছে। বস্তুত এই কারণেই এখন নিশ্চিন্তে নোনা জলে ঘেরা বাংলার এই বিরল জঙ্গলে পা রাখছেন বিদেশি পর্যটকরাও।

[রামায়ণের পর ‘পঞ্জ তখত এক্সপ্রেস’, শিখ তীর্থযাত্রীদের জন্য রেলের নয়া ট্রেন]

অবশ্য পুজোর সময় থেকে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আসা শুরু হয়েছে সুন্দরবনে। বিদেশি পর্যটকদের সংখ্যাটাই এক্ষেত্রে বেশি বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। বিদেশ থেকে আগত পর্যটকদের একাংশের বক্তব্য, রণথম্বোর বা গরুমারার অভয়ারণ্য বহুবার দেখেছি। এ সবই স্থলভূমিতে। কিন্তু বঙ্গোপসাগরে নোনাজলে ঘেরা ম্যানগ্রোভ অরণ্য সুন্দরবনের সৌন্দর্য অতুলনীয়। এবং এই সৌন্দর্য এখনও আমাদের কাছে পুরোপুরি উন্মোচিত হয়নি। সুন্দরী, গরান, গেওয়া, হেঁতালের পাশাপাশি রয়্যাল বেঙ্গল এবং হরিণের আকর্ষণ উপেক্ষা করা কোনও পর্যটকের পক্ষেই সম্ভব নয়। পর্যটকদের এমন আবেগকেই ব্যবসার কাজে লাগাতে শুরু হয়েছে অনলাইন বুকিং। পর্যটক টানতে ছোট-বড় সমস্ত ব্যবসায়ীই আকর্ষণীয় প্যাকেজ নিয়ে আসছেন। অবশ্য চলতি বছর পর্যটন কর কিছুটা বেড়ে যাওয়ায় তার প্রভাব চলতি মরশুমের পর্যটনে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তাঁদের কথায়, গত বছর সুন্দরবন ভ্রমণের জন্য মাথাপিছু খরচ ছিল ২ দিন ১ রাতের জন্য প্রায় আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা। এবার সেই খরচ বেড়ে হয়েছে প্রায় সাড়ে তিন থেকে চার হাজার টাকা। ব্যবসায়ীরা আরও জানান, আগে সুন্দরবন ভ্রমণের জন্য পর্যটন কর ছিল ৬০ টাকা, গত সেপ্টেম্বর মাস থেকে তা বেড়ে হয়েছে ১০০ টাকা। গাইড-সহ বেড়েছে ভুটভুটির ভাড়াও। ফলে সুন্দরবন ভ্রমণের ক্ষেত্রে প্যাকেজ খরচ গতবারের তুলনায় বেড়ে ৮-১০ হাজার টাকা হয়েছে বলে জানাচ্ছেন ট্যুর অপারেটররা।

[রামায়ণের পর ‘পঞ্জ তখত এক্সপ্রেস’, শিখ তীর্থযাত্রীদের জন্য রেলের নয়া ট্রেন]

বনদপ্তর অবশ্য ব্যবসায়ীদের আশঙ্কাকে উড়িয়ে দিয়ে জানিয়েছে, এখন সারা বছর পর্যটকরা সুন্দরবন ঘুরতে আসেন। শীত সবে পড়তে শুরু করেছে। এ মরশুমেও ভালই ভিড় হবে। দপ্তরের এক আধিকারিকের কথায়, বেশ কয়েক বছর পর সুন্দরবনে ভ্রমণ কর সামান্য কিছু বাড়ানো হয়েছে। যা নিয়ে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। বরং সুন্দরবন থেকে রণথম্বোর, জিম করবেট-সহ অন্যান্য টাইগার রিজার্ভ এলাকা ঘুরতে গেলে তার খরচ অনেক বেশি। সুন্দরবনে পর্যটন কর থেকে যে রাজস্ব আদায় হয় তার ২৫ শতাংশ টাকা এলাকার মানুষের উন্নয়নের স্বার্থে কাজে লাগানো হয় বলেই জানিয়েছেন তিনি। ব্যাঘ্র প্রকল্প দপ্তরের এফডি নীলাঞ্জন মল্লিক বলেন, পর্যটন কর নিয়ে সমস্যা হচ্ছে বলে আমাকে কেউ কোনও অভিযোগ করেনি। এমনটা হওয়ার কথাও নয়। চার মাস আগে থেকে সবাইকে নোটিস দিয়ে জানিয়ে খুবই সামান্য কর বাড়ানো হয়েছে। যা নিয়ে তেমন কোনও সমস্যা হওয়ার কথা নয়।

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং