নীল দিগন্ত যেখানে এসে মিশেছে ফিরোজা সাগরে, আর সাদা বালুকাবেলায় আছড়ে পড়ছে রুপোলি ঢেউ— সেই মায়াবী প্রেক্ষাপটেই যেন লেখা হয় ভালোবাসার নতুন গল্প। হানিমুনের জন্য বিশ্বজুড়ে বহু গন্তব্য থাকলেও, নির্জনতা আর রোমাঞ্চের খোঁজে ইদানীং নবদম্পতিদের প্রথম পছন্দ হয়ে উঠেছে ভারতের আপন ভূখণ্ড ‘আন্দামান’। কোলাহলমুক্ত এই দ্বীপপুঞ্জ যেন প্রকৃতির এক ব্যক্তিগত স্বর্গ।
কেন আন্দামান অনন্য? উত্তর লুকিয়ে আছে হ্যাবিলক বা নীল আইল্যান্ডের নির্জনতায়। রাধানগর সৈকতের ধবধবে সাদা বালি কিংবা কালাপাহাড়ের শান্ত পরিবেশ নিভৃত আলাপের জন্য আদর্শ। এখানে ঘড়ির কাঁটা ধীর হয়ে যায়। বিকেলের পড়ন্ত রোদে সমুদ্রের বুকে যখন রক্তিম সূর্যাস্ত নামে, তখন প্রিয়জনের হাত ধরে নির্জন সৈকতে হাঁটার মুহূর্তগুলো চিরস্থায়ী স্মৃতি হয়ে থেকে যায়।
আরও পড়ুন:

তবে প্রেম মানেই তো শুধু মৌনতা নয়, তাতে রোমাঞ্চের ছোঁয়া থাকা চাই! আন্দামান আপনাকে দিচ্ছে সমুদ্রের অতলে ডুব দেওয়ার সুযোগ। স্কুবা ডাইভিং বা স্নরকেলিংয়ের মাধ্যমে রঙিন প্রবাল প্রাচীর আর সামুদ্রিক মাছের সংসার দেখা এক অনন্য অভিজ্ঞতা। যাঁরা একটু অন্যরকম কিছু চান, তাঁদের জন্য রয়েছে সি-ওয়াকিং বা কায়াকিংয়ের রোমাঞ্চ। রাতে সমুদ্রের তীরে ব্যক্তিগত ‘ক্যান্ডেল লাইট ডিনার’ আর রিফ্রেশিং স্পা সেশন হানিমুনকে করে তোলে রাজকীয়।

কলকাতা থেকে মাত্র দুই ঘণ্টার উড়ান দূরত্বে পোর্ট ব্লেয়ার। হাতে সময় থাকলে ৩-৪ দিনের সমুদ্রযাত্রার রোমাঞ্চ নিতে জাহাজেও আসা যায়। পকেটের মাপ অনুযায়ী রয়েছে সাশ্রয়ী হোম-স্টে থেকে শুরু করে বিলাসবহুল রিসোর্ট। ইতিহাসের স্বাদ নিতে সেলুলার জেলের লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো বাড়তি পাওনা। নতুন জীবনে পা রাখা প্রতিটি যুগলের কাছে আন্দামান এখন আর শুধু পর্যটন কেন্দ্র নয়, বরং স্মৃতির অ্যালবামে এক টুকরো রূপকথা।