Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
  • রবিবার
  • ৯ আগস্ট ২০২৬

গাদিয়ারার জলভ্রমণে এবার অতিরিক্ত ভেসেল

ছুটির মরশুমে ঘুরে আসতে পারেন আপনিও।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ১, ২০১৯, ২১:২১

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ১, ২০১৯, ২১:২১

options
link
গাদিয়ারার জলভ্রমণে এবার অতিরিক্ত ভেসেল zoom
Advertisement

মনিরুল ইসলাম, গাদিয়াড়া: প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে এমনিতেই গাদিয়াড়া পর্যটকদের টানে। মরশুম তো বটেই, হপ্তা শেষের ছুটি কাটাতেও পর্যটকদের ভিড় জমে সেখানে। এখন পর্যটনের মরশুমে রোজই সেখানে প্রায় কয়েক হাজার পর্যটক হাজির হচ্ছেন। উপচে পড়ছে পর্যটকের ভিড়।

ভাগীরথী ও রূপনারায়ণ নদের মিলনস্থল গাদিয়াড়া। শুধু তাই নয়, হাওড়া, পূর্ব মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার তিন জেলা এখানে নিকটাত্মীয়। ভোরের আলো ফুটলেই মুখ দেখাদেখি হয় তিন জেলার। সামান্য কিছু টাকা খরচ করলেই লঞ্চে তিন জেলা ভ্রমণের হাতছানি। ফলে বিভিন্ন জেলার পর্যটকরা সৌন্দর্যের রূপ, রস আস্বাদনে ছুটে আসছেন এখানে। পর্যটকদের সুবিধার্থে হুগলি নদী জলপথ পরিবহণ সমবায় সমিতি এখানে আরও একটি অতিরিক্ত লঞ্চের ব্যবস্থা করেছে। লঞ্চ ছাড়ার সময়ও কমিয়েছে প্রায় মিনিট পনেরো। সর্বোপরি একটি ভেসেল সম্প্রতি এখানে চালু করেছে পরিবহণ দফতর। সেই ভেসেলে করে পর্যটকদের ঘোরানো হচ্ছে জলপথে। ভেসেলে চেপে নদীপথে ঘুরে বেড়ানোটা তাদের আলাদা মজা এনে দিচ্ছে বলেই দাবি পর্যটকদের। নিরাপদে ভেসেলে চেপে নদীপথে বেড়াতে পেরে রীতিমতো উচ্ছ্বসিত পর্যটকরা। ঘাটের দায়িত্বে থাকা উত্তম রায়চৌধুরী জানান, অন্য সময় প্রায় মিনিট চল্লিশ ছাড়া লঞ্চ পরিষেবা দেওয়া হয়। এখন পর্যটনের মরশুম হওয়ায় একটি লঞ্চ বাড়ানো হয়েছে। লঞ্চ ছাড়ার সময় কমিয়ে ২৫ মিনিট করা হয়েছে। তাছাড়া বিশেষ ব্যবস্থা হিসাবে পর্যটকদের ভেসেলে করে নিরাপদে নদীপথে বেড়ানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে বেশ খুশি পর্যটকরাও। তবে যাতে কোনও দুর্ঘটনা না ঘটে যে জন্য যথাযথ ব্যবস্থা করেছে প্রশাসন। ঘাটের নিজস্ব কর্মী ছাড়াও রয়েছে পুলিশ ও সিভিক ভলান্টিয়ার। রয়েছে জলসাথী। তারা ভিড় নিয়ন্ত্রণ করছে। ভেসেলেও থাকছে প্রশাসনের লোকেরা। ব্যবস্থা রয়েছে সিসিটিভির।

Advertisement

পর্যটকদের জন্য গাদিয়াড়ায় রয়েছে সরকারি জায়গা। সেখানে চড়ুইভাতি করছেন পর্যটকরা। পর্যটকরা যাতে এলাকা দূষিত না করেন সে জন্য মাঠের মধ্যেই করা হয়েছে ভ্যাটের ব্যবস্থা। দ্রুত মাঠ সাফাই করে দিচ্ছেন কর্মীরা। প্লাস্টিক ব্যবহার বন্ধ করার জন্য সচেতনতামূলক প্ল্যাকার্ড টাঙানো রয়েছে সেখানে। অভিযোগ, সেই আহ্বান যথাযথভাবে মানা হচ্ছে না। মাঠের ভ্যাটের মধ্যে স্তূপাকারে রয়েছে প্লাস্টিকের থালা, গ্লাস। ডাঁই করা মদের বোতল। এর জন্য পর্যটকরা ও স্থানীয়রা দায়ী করছেন নজরদারির অভাবকেই। রাত্রিবাসের জন্য রয়েছে সরকারি লজ। রয়েছে বেসরকারি লজও। সরকারি লজকে ঢেলে সাজাচ্ছে পর্যটন দফতর। নতুন লজ তৈরি করা হচ্ছে। গাদিয়াড়া বাসস্ট্যান্ড থেকে লজ পর্যন্ত রাস্তা ২৫ ফুট চওড়া করা হচ্ছে পরিবহণ দফতরের আর্থিক সহায়তায়। তৈরি হচ্ছে আধুনিক মানের বাসস্ট্যান্ড। অভিযোগ, রাস্তাটি লঞ্চঘাট পর্যন্ত করা হচ্ছে না। ফলে গাড়ি নিয়ে লঞ্চঘাটে আসতে সমস্যায় পড়ছেন পর্যটকরা। তাঁদের দাবি রাস্তটি লঞ্চঘাট পর্যন্ত চওড়া করা হোক। তবে পার্কিং ফি অনেকটা বেশি বলেই অভিযোগ পর্যটকদের। সাঁতরাগাছি থেকে গাদিয়াড়া বেড়াতে এসেছিলেন চৈতি দাস। তিনি বলেন, “আগেও এসেছি গাদিয়াড়া। তবে এখন বেশ ভাল লাগছে। উন্নতিও হচ্ছে। তবে স্পেশাল মজা ভেসেলে চেপে নদীতে ভ্রমণ। জলপথ ও স্থলপথে গাদিয়াড়ায় আসা যায়।”

হাওড়া বা খড়গপুর থেকে ট্রেনে বাগনান বা উলুবেড়িয়া স্টেশনে নামতে হয়। সেখান থেকে বাস, অটোতে চেপে আসা যায় গাদিয়াড়ায়। বাগনান থেকে ৩৩ কিলোমিটার আর উলুবেড়িয়া থেকে প্রায় ৩৬ কিলোমিটার রাস্তা মাত্র। আবার জলপথে দক্ষিণ ২৪ পরগনার নূরপুর থেকে ও পূর্ব মেদিনীপুরের গেঁওখালি থেকে লঞ্চে করে সরাসরি গাদিয়াড়ায় আসা যায়।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.