BREAKING NEWS

১৬ ফাল্গুন  ১৪২৬  শনিবার ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ 

বর্ষবরণে পার্টির প্ল্যান করছেন? এই জায়গাগুলিতে ঢুঁ মারতেই পারেন

Published by: Bishakha Pal |    Posted: December 30, 2019 7:35 pm|    Updated: December 30, 2019 7:35 pm

An Images

অভিরূপ দাস: ডিসেম্বরের ৩১। সে তো স্রেফ একটা দিন নয়, বিদায় নেওয়া একটা গোটা বছর আর একটা নতুন শুরুর মাহেন্দ্রক্ষণ। ঘড়িতে তখন রাত ১১টা ৫৯। আর মাত্র এক মিনিট। ৩৬৫ দিনের প্রতিটা মুহূর্তের রাগ-হাসি-কান্না-বিরহ স্মৃতির মণিকোঠায় চলে যাবে। পরে থাকবে শুধু অ্যালবামটা। বাঙালি উদযাপনপ্রিয়। ছোটপিসির জন্মদিন হোক বা বান্ধবীর স্কলারশিপ ওয়াইনের গ্লাস উপচে পড়ে মজলিশি জমায়েতে। “উল্লাস” বলে প্রিয় মানুষটার বাহুবন্ধনে ঠাই নেয় ফূর্তিবাজ। একটা গোটা বছরকে তারা যে এমনি এমনি যেতে দেবে না সে তো স্বাভাবিক। এই তো সেই দিন। অফিসের টেনশন, কলেজের চাপ, পরের বছর মেয়ের বোর্ড পরীক্ষা যেদিন ভুলে যেতে হয়। লার্জার দেন লাইফ চুমুক দিতে হবে সুরার গ্লাসে। নাচতে নাচতে ক্লান্ত হয়ে গেলেও পায়ের নড়াচড়া থামবে না। বেলি ডান্সের নতুন ব্যাকরণ আবিষ্কার হবে প্রতিটি ডিস্কোথেকে।

তাঁদের জন্যেও
যাঁরা বছরের কোনওদিন পার্টি করেন না। সন্ধে সাতটার মধ্যে বাড়ি এসে মেগাসিরিয়াল দেখেন তাঁরাও বছর শেষে রাতে প্যাঁচার মতো উড়ে বেড়ান পার্কস্ট্রিটে। চারআনার সুরা খেয়ে বারোআনা ঝামেলা পাকান বন্ধুদের সঙ্গে। তবে নতুন বছর আসতেই আবার মিলমিশ। আবার সেই পুরনো অফিস, রোজকার হেঁটে যাওয়া সেই চেনা রাস্তা। সকালে দুধ আনা, বাড়ির ফেরার পথে আনাজপাতির দরদাম। শুধু কয়েকটা মুহূর্তের জন্য বোহেমিয়ান হওয়ার লোভে ইন্টারনেট বা কাগজ খুলে সকলেই দেখছেন কোথায় কী হচ্ছে। আগে কলকাতার পার্ক স্ট্রিটের পাব-ডিস্কো কিংবা কোনও অভিজাত ক্লাবে এই বর্ষবরণের উৎসব হত। তাতে শুধুমাত্র ওইসব ক্লাবের সদস্যরাই মাততে পারতেন। এখন ব্যাপারটা তা নয়। ক্লাব, ডিস্কো ছাড়াও শহরের প্রায় সর্বত্র ব্যাঙ্কোয়েট হল, শপিং মল, অ্যামিউজমেন্ট পার্কগুলি পার্টি আয়োজন করছে। কোথাও সারা রাত হুল্লোড় তো কোথাও সাইকেডেলিক আলো খেলে যাবে শরীরী বিভঙ্গে। এখন একে অপরকে টেক্কা দেওয়া এই পার্টিগুলোতে দু ফুট জায়গা পেতে দড়ি টানাটানি শুরু হয়ে গিয়েছে। রাস্তায় পার্টির হোর্ডিং পড়তে না পড়তেই অনলাইনে সেগুলোর বুকিংও অনেকদিন আগেই সেরে ফেলেছেন পার্টি হপাররা। তবে যারা এখনও পাস জোগাড় করেননি। তারা জেনে নিন শহরের কোথায় কী হচ্ছে ৩১ এর মঙ্গলবার।

PARTY

নদীর মাঝখানে বছর শেষ
পুরনো ক্যালেন্ডার খুলে ফেলার সময় হয়ে গিয়েছে। বছরের শেষ দিন। শপিং মল, রাতের পার্টি বা সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে সেলফি তোলার ভিড়। সেলফি তুলতে চান নদীর মাঝখানে, ক্রুজে ভাসতে ভাসতে? মিলেনিয়াম পার্ক থেকে ছাড়বে এই ক্রুজ। সন্ধে সাতটার সময় তা ছেড়ে আবার পাড়ে ঠেকবে রাত ১ টায়। নদীবক্ষেই চলবে বছর শেষের খানাপিনা। খরচ জন প্রতি ৩৩৩৩ টাকা। এই মধ্যেই রয়েছে সন্ধের স্ন্যাক্স, রাতের বুফে ডিনার, ড্রিঙ্কস, লাইভ ডি জে মিউজিক শোনার খরচ। এখনও পাস জোগাড় করেননি? অবিলম্বে ফোন করুন ৯৬৪৭৮৮৩৫৬১ নম্বরে। ‘দ্য অসপিসিয়াস’ ক্রুজ যখন গঙ্গার বুক চিড়ে এগিয়ে তাতে জায়গা পেতে ইতিমধ্যেই হুড়োহুড়ি পড়ে গিয়েছে।

পার্কের বলরুমে
শহরের অন্যতম অভিজাত হোটেল দ্য পার্ক। এখানকার রেস্তোরা ‘দ্য ব্রিজ’ এর রান্না তারিফ করেননি এমন সেলিব্রিটি খুঁজে পাওয়া ভার। খোদ অমিতাভ বচ্চনও শহরে এসে একাধিকবার চেখে দেখেছেন তাদের রান্না। সেই পার্ক হোটেল বছর শেষের সেলিব্রেশনে রেখেছে তাদের খ্যাতনামা শেফদের তৈরি করা লা জবাব কিছু রান্না। কী থাকছে মেনুতে? তার চেয়ে বলা সহজ কী থাকছে না। কাঁকড়া, দৈত্যাকার চিংড়ি তো আছেই রয়েছে সামুদ্রিক নানান মাছের লোভনীয় পদ। স্রেফ স্যালাডই রয়েছে চোদ্দ রকমের। রোমানিয়ান স্যালাড, হ্যাম স্যালাড, স্পিনাচ স্যালাড, গ্রিন স্যালাড, অলিভ স্যালাড এমন কত কিছু পাওয়া যাবে বছর শেষে ঢু মারলে। পার্কের এই মেনু কোনওভাবেই চিত্রগুপ্তের খাতার দৈর্ঘ্য প্রস্থের তুলনায় কম নয়। লম্বা মেনুতে রয়েছে বেকন, সরষে মাছ, তন্দুরি আলু, ডাল যুগলবন্দি, মাসরুম সুপ, চিকেন শর্মা, কলকাতা স্টাইল মাটন বিরিয়ানি, অমৃতসরের চিংড়ি কষা, রোস্টেড চিকেন, দম বিরিয়ানি, পনীর কি ভুলে, ফ্রেস স্ট্রবেরি, ব্লুবেরি। রেগুলার ডিনার টিকিটের খরচ পরবে ১৯৯৫ টাকা। এরসঙ্গে আনলিমিটেড সুরা খেতে চাইলে খরচ হবে ২৪৯৫ টাকা। ছ’ থেকে ১২ বছরের বাচ্চাদের জন্য টিকিটের খরচ ৮৯৫ টাকা। ডিসেম্বরের ৩১ এ সন্ধে সাড়ে সাতটা থেকে শুরু খানাপিনার পার্টি। যদি বছর শেষে মিস করেন চিন্তা নেই, ১ জানুয়ারি সেলিব্রেট করতে পারেন পার্ক হোটেলে। বছরের প্রথম দিন একই মেনুতে পার্টি শুরু বিকেল সাড়ে তিনটেতে।

জাতীয় সড়কে পার্টি
চমকে যাচ্ছেন!! উলুবেড়িয়া বীরশিবপুরে ছ’নম্বর জাতীয় সড়কের উপর আমেয়া রিসর্টে এবার বছর শেষের হুল্লোড় পার্টি। রাত আটটা থেকে শুরু এই নৈশ উদযাপন। রয়েছে স্ট্যাগ টিকিট। এই টিকিট কিনলে আলাদা করে পার্টিতে আর কোনও কিছুর দাম দিতে হবে না। রয়েছে অভিষেক মণ্ডলের লাইভ মিউজিক। ডিজে। বাড়িতে বাচ্চা রয়েছে? তাকে এমন পার্টিতে নিয়ে যাবেন কি না ভাবছেন? চোখ বন্ধ করে চলে আসুন আমেয়া রিসর্টে। এখানে ডেডিকেটেড কিড জোন রয়েছে। আপনি যখন সুরার গ্লাসে তুফান তুলবেন বাড়ির খুদে সদস্যটিও খেলবে নিজের মনে।

লবণহ্রদে উল্লাস
সল্টলেকের বাসিন্দা। বছর শেষ উদযাপন করতে চান বাড়ির কাছেই কিন্তু মনের মতো জায়গা পাচ্ছেন না। চলে আসুন হোটেল দে শোভরাণীতে। ভিন্টেজ থিমে নিউ ইয়ার পার্টি হবে এই ফাইভ স্টার হোটেলে। রয়েছে অফুরন্ত খাওয়া দাওয়া, ড্রিঙ্কস, সারপ্রাইজ গ্রিফ্ট, বলিউড মিউজিকের তালে তালে নাচ। টিকিট বুক করতে হলে ০৩৩৬৬০৪৩০০০ নম্বরে ফোন ঘোরাতে হবে। বছর শেষের দিতে রাত আটটা থেকে শুরু পার্টি। চলবে পরের দিন ভোর রাত ১টা পর্যন্ত। বাড়ির খুদে সদস্যকে নিয়ে যেতে টিকিটের খরচ ১৯৯৯ টাকা। জন প্রতি টিকিট ২৯৯৯ টাকা। এই টাকায় মিলবে আনলিমিটেড খাবার, ড্রিঙ্কস, প্রিয় বান্ধবীর সঙ্গে যেতে চাইলে সংগ্রহ করুন কাপল টিকিট। তার দাম ৪৯৯৯। শহর কাঁপানো ডি জে রয় তার রেট্রো মিউজিকের সম্ভার নিয়ে হাজির থাকবেন এখানে।

আগুন নিয়ে খেলা
বান্ধবীকে নিয়ে গেলেন একত্রিশের পার্টিতে। তারপর সেখানে যদি আচমকাই হাতে উঠে আসে সেরা যুগলের পুরস্কার। এমনটা হতে পারে যশোর রোডের ডায়মন্ড প্লাজায় ‘চিয়ার ২০২০’ পার্টিতে। বছর শেষের রাতে সন্ধে ছ’টা থেকে শুরু পার্টি। ভোর রাত দুটো পর্যন্ত চলবে পার্টি। এই পার্টির মূল আকর্ষণ ফায়ার জাগলার্স। আগুন নিয়ে লোফালুফি দেখতে পাবেন এখানে। রয়েছে লাইভ ডান্সার, অফুরন্ত খাবার।

নির্লজ্জের পার্টি
চমকে যাওয়ার কিছু নেই। শহরের ইকো পার্কে বছর শেষের উদযাপনের নাম এমনই। ‘বেশরম।’ ইকো পার্কের জাপানিজ ফরেস্টে বসছে এই পার্টির আসর। বলা হচ্ছে এখানে ডি জে মিউজিক এমনই ছন্দে বাজবে আপনি না চাইলেও আপনার পা নেচে উঠবে। অ্যালকোহল এবং নন অ্যালকোহলিক দু’ধরনের ড্রিঙ্কসই থাকবে। রয়েছে হুকা, সুস্বাদু নানা স্টার্টার। যুগলের টিকিট ১২৯৯। জন প্রতি টিকিট কাটতে খরচ হবে ৬৯৯ টাকা। এই টাকাতেই মিলবে আনলিমিটেড স্টার্টার, হুকা খাওয়ার সুযোগ।

গ্র‌্যান্ড ক্যাসিনো
পূর্ব কলকাতার হায়াত রিজেন্সিতে বসছে গ্র‌্যান্ড ক্যাসিনো। অর্থাৎ কি না ক্যাসিনো থিম পার্টি। ৩১ ডিসেম্বর সন্ধে সাতটা থেকে শুরু হবে পার্টি। চলবে ১ জানুয়ারি ভোর রাত ১টা পর্যন্ত। রয়েছে বুফে ডিনার, হরেক কিসিমের স্টার্টার। রয়েছে ডি জে রহমানের গ্রুভি মিউজিক। পাঁচ বছরের নিচে বয়স হলে এ পার্টিতে প্রবেশ নিষেধ। তার উপর বয়স হলেই টিকিটের দাম ২৭৫০ টাকা। আর বড়দের জন্য রয়েছে স্ট্যাগ টিকিট। তার দাম ৫৫০০ টাকা। আনলিমিটেড খাবার এবং অ্যালকোহল মিলবে এই পার্টিতে।

An Images
An Images
An Images An Images