Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • রবিবার
  • ৭ জুন ২০২৬

হাত বাড়লেই সবুজের রাজ্য, মন ভাল করার রসদ জঙ্গলমহলে

পুরুলিয়ার এই অচেনা রূপ আগে দেখেছেন কি?

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৯, ১৫:৫২

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৯, ১৫:৫২

options
link
হাত বাড়লেই সবুজের রাজ্য, মন ভাল করার রসদ জঙ্গলমহলে zoom

সুমিত বিশ্বাস, পুরুলিয়া: ঘন কুয়াশাঘেরা কালিম্পং দেখা। ভরা জঙ্গলের ডুয়ার্স কিংবা মন্দারমণির সমুদ্রতট বা সুন্দরবনও আপনার দেখা। শীতের খামখেয়ালিপনা চললেও এমন বেড়ু বেড়ু মরশুমে না বেড়ালেও যে নয়। আজ টোটোতে আপনাদের জন্য থাকল একটি অচেনা জায়গার ঠিকানা। পুরুলিয়ার বাঘমুন্ডি পাহাড়ের খয়রাবেড়া।

TOTO-KHAERBERA.jpg-2

Advertisement

[মহাপ্রভুর লীলাক্ষেত্রে অসংখ্য দেবালয়, ভক্তিভাবে ভরপুর দেনুড়]

বেশ কয়েক বছর আগেও এক সময় অযোধ্যা পাহাড়ের সাইট সিয়িং হিসাবে পরিচিত ছিল খয়রাবেড়া। কিছুক্ষণের জন্য কাটিয়ে চলে যেতেন পর্যটকরা। কিন্তু বছর খানেক হল ছবিটা বদলেছে। পরিকাঠামো গড়ার পাশাপাশি তৈরি হয়েছে কটেজ। এ গেল খয়রাবেড়ার মাথা গোঁজার ঠিকানার কথা। আপনি তাহলে কী দেখবেন? প্রশ্নটা উলটো দিক দিয়ে করলে বলা যায় কী দেখবেন না। এক কথায় বলা যায় আমাজনের রোমাঞ্চের থেকেও কোনও অংশে কম যায় না।

TOTO-BAGHMUNDI

[মাঝ ডিসেম্বরে শীত শীত ভাব, এই ফাঁকে চুপিসারে চলুন ‘চুপি’]

মন টানার কী কী রসদ রয়েছে খয়রাবেড়ায়? এখনকার চিরসবুজ ঘন অরণ্য প্রথমেই আপনার চোখ টেনে নেবে। শাল, পিয়াল, পলাশ, মহুয়া, কুসুমের জঙ্গলে হারিয়ে যাওয়ার সবরকম হাতছানি রয়েছে। চোখের সামনে পাবেন বিস্তৃত জলরাশি। যা দেখলে আপনার বোটিং করতে ইচ্ছে হবে। নৌকা নিয়ে যত খুশি ঘুরতে পারবেন। ব়্যাফটিংয়েরও সুবিধা রয়েছে। নৌকাবিহার শেষে একটু জঙ্গলের দিকে এগোলে দেখবেন আপনার জন্য অনেক বিস্ময় অপেক্ষা করছে। ঘন জঙ্গলের মধ্যে ঢুকলে হয়তো দেখতে পাবেন সামনে থেকে ছুটে গেল হরিণ। ওই এলাকায় রয়েছে বেশ কিছু টিলা। সেখানে একটু জিরিয়ে নিতে পারেন। সেই ফাঁকে হয়তো কোনও বুনো খরগোশ আপনার পা ঘেঁষে চলে যেতে পারে। শিয়াল, হায়না বা বন মোরগের ডাক কানে আসাটাও অস্বাভাবিক নয়। দিনভর ঘুরপাক খেয়ে যখন কটেজে ফিরলেন তখনও রয়েছে চমক। কপাল ভাল থাকলে কটেজে বসেই দেখতে পাবেন হাতির পাল। হাতের নাগালেই তাদের গর্জন, আস্ফালন চাক্ষুষ করার সুযোগ এসে যেতে পারে।

TOTO-BAGHMUNDI.jpg-2

[মাছের সঙ্গেই দিন-রাত, পর্যটনের অন্য স্বাদ ফিশ ট্যুরিজমে]

প্রকৃতির সঙ্গে বন্ধুত্ব হল। চোখের খিদে তাতে হয়তো মিটল, কিন্তু পেটের খিদের কী হবে। সেই ব্যবস্থাও রয়েছে কটেজগুলিতে। গরম গরম দেশি মুরগির ঝোল, ভাত আর নানারকম পদ রয়েছে। আর কটেজের লোকজনকে বললে ছৌ শিল্পীদের নাচও দেখতে পারবেন। সময়টা যদি শুক্লপক্ষ বা পূর্ণিমা হয় তাহলে কথাই নেই। ঝকঝকে চাঁদের আলোয় খয়েরবেড়ার জলাধার যেন মায়াবী রূপ পায়। রাতে কটেজে থাকতেই হবে এমন কথা নেই। অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের থাকার জন্য রয়েছে ছোট ছোট টেন্ট। মূলত অ্যাডেভঞ্চার ট্যুরিজমের জন্য পরিচিত হলেও সাধারণ পর্যটকদের জন্য খয়রাবেড়ার দরজা খোলা।

[সমুদ্রপাড়ে তাঁবুতে রাত্রিবাস, এমন দিঘা কখনও দেখেছেন?]

পুরুলিয়া শহর থেকে খয়রাবেড়ার যাওয়া যায়। বাঘমুন্ডি থেকে হয়ে যেতে হয়। পুরুলিয়া থেকে প্রায় ৩ ঘণ্টার পথ। এই পর্যটন কেন্দ্রে যাওয়ার পথে পড়ে বলরামপুর। সেই রাস্তায় রয়েছে মাঠা বনাঞ্চল, পাখি পাহাড়। এক ফাঁকে এই জায়গাগুলোও দেখে নিতে পারেন। আর এই পথেই পড়বে মুখোশের গ্রাম চড়িদা। পছন্দমতো কেনাকাটা করতে পারেন। ছবির মতো সুন্দর জায়গা পুরোপুরি পরিবেশ বান্ধব এলাকা। পলিথিন ফেলা যাবে না। তবে এখানে বেড়ানোর বাজনা কিছুটা বেশি। রাত পিছু খরচ পড়বে প্রায় ৫ হাজার টাকা। পড়ুয়াদের জন্য বেশ খানিকটা ছাড় রয়েছে। বছর শেষে এক ফাঁকে দুই দিন এক রাতের জন্য আপনার উড়ু উড়ু ডিঙি নোঙর করতে পারেন ‘আনটাচ’ খয়রাবেড়ায়।

ছবি: অমিত সিং দেও

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.