৪ আশ্বিন  ১৪২৬  রবিবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ 

Menu Logo পুজো ২০১৯ মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও বাঁকা কথা ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

রাজ্যের বিভিন্ন শহর ও শহরতলিতে ছড়িয়ে আছে স্বল্প পরিচিত কিন্তু মাহাত্ম্যপূর্ণ কালীমন্দির৷ পুজোর ভ্রমণে চলুন এমনই কিছু মন্দিরে৷ লিখছেন সোমনাথ লাহা

সিদ্ধেশ্বরী কালী, শান্তিপুর:
কলকাতা পত্তনের বহু পূর্বে শান্তিপুর ছিল বর্ধিষ্ণু জনপদ৷ তখন শান্তিপুর দিয়ে প্রবাহিত হত সুরধুনী গঙ্গা৷ আর সেই গঙ্গার পাড়ে একটি কুটিরে বাস করতেন সাত্ত্বিক গোপীনাথ সার্বভৌম৷ তিনি পাঠ দিতেন বালক নিমাইকে৷ এক রাতে গোপীনাথ মায়ের স্বপ্নাদেশ পান৷ স্বপ্নাদেশে তিনি জানতে পারেন বিগ্রহ তৈরি করতে হবে তাঁরই পত্নীকে৷ মায়ের নির্দেশে বাড়ির পঞ্চমুণ্ডির আসনে গোপীনাথ প্রতিষ্ঠা করেন মা চাঁদুনিকে৷ মায়ের এহেন নাম নিয়ে নানা মুনির নানা মত রয়েছে৷ কারও মতে চাঁদুনি নামটি এসেছে চাঁদনি থেকে৷ চাঁদনি মানে জ্যোৎস্না৷ তবে সঠিক তথ্য আজও অজ্ঞাত৷ দুর্গাপুজোর শেষে দুর্গা দেউলেই শুরু হয় মায়ের কাঠামো গড়া৷ পারিবারিক রীতি অনুযায়ী বংশের বড় বউ কাঠামোতে প্রথম মাটি দিয়ে এর শুভারম্ভ করেন৷ প্রতি অমাবস্যায় মায়ের কাঠামো শক্তিরূপে পুজো করা হয়৷ কালীপুজোর দিন মা চাঁদুনিকে দুর্গাদেউল থেকে বাতাস করতে করতে কালীমন্দিরে আনা হয়৷ মাতৃ অঙ্গ তখন ঢেকে থাকে বহুমূল্য নানা গয়নায়৷ আজও কুলোপুরোহিতের উপস্থিতিতে মুখোপাধ্যায় পরিবারের সন্তানরাই মায়ের পুজো করেন৷ একসময় এখানে মোষবলি হত৷ এখন তা না হলেও পাঁঠাবলি হয়৷ শান্তিপুর স্টেশন থেকে মন্দিরের দূরত্ব প্রায় দু’কিমি৷ রিকশা পাওয়া যায়৷

কমলাকান্তের কালী, বর্ধমান, চান্নাগ্রাম:
এখনও বর্ধমান জেলার চান্না গ্রামের ঈশান কোণে দেখতে পাওয়া যায় সাধক কমলাকান্তের সিদ্ধপীঠ বিশালাক্ষীর প্রাচীন মন্দির ও কুণ্ড৷ মন্দিরের পিছনে নির্জন স্থানে রয়েছে পঞ্চমুণ্ডির সিাসন৷ স্থানটি বর্ধমানের খানা রেলওয়ে জংশন থেকে মাত্র চার কিমি উত্তরে৷ বর্ধমান স্টেশন থেকে গুসকরাগামী বাসে দে পাড়া অথবা হলদি বাসস্টপে নেমে সেখান থেকে ভ্যান রিকশায় মাত্র তিন কিমি৷ মন্দিরে প্রবেশের প্রথমেই পড়ে ভৈরবনাথ তলা৷ তারপরই ছোট পাকা মন্দির৷ সাদামাটা মন্দিরের গর্ভগৃহের মাঝখানে পাঁচটি মূর্তি রয়েছে মেঝে লাগোয়া৷ বাঁদিক থেকে স্ত্রীলোচনা, কোটরাক্ষা, গুরুপাক্ষ, বিশালাক্ষী ও কুটিলাক্ষ৷ এঁরা সকলেই দক্ষিণাকালী ধ্যানে নিত্যপূজিতা হন৷ আষাঢ় মাসে শুক্লপক্ষের নবমী তিথিতে বিশেষ পুজো করা হয়৷ তখন তিনটি দোলনা সহযোগে মূর্তিগুলিকে নিয়ে গ্রাম পরিক্রমা করানো হয়৷ সে সময় সবার হাতে থাকে জ্বলন্ত মশাল৷ এখানে কারও অসুখ বিসুখ হলে মায়ের থানে ধরণা ও পুজো দেয়৷ মায়ের কৃপায় তাতেই সকলে সুস্থ হয়ে যায়৷

রটন্তী কালী, গুসকরা:
গুসকরা স্টেশন থেকে মন্দিরের দূরত্ব বেশি নয়৷ এ পথে রিকশা যাতায়াত করে৷ গুসকরা শ্মশানঘাটের বিপরীতে এই একদালান মন্দির৷ এটিই গুসকরার রটন্তী কালীমন্দির৷ এখনও চোংদার বংশীয় (চট্টগ্রাম থেকে আসা চোংদার পরিবার) লোকেরাই মায়ের পুজো করেন৷ মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা হয়েছিল আনুমানিক তিনশো বছর আগে৷ প্রথম এই মন্দিরের প্রতিষ্ঠা হয়েছিল রতনেশ্বর নামক এক সিদ্ধ তান্ত্রিকের হাতে৷ তার সমাধিক্ষেত্র রয়েছে মন্দিরের উত্তর দিকে৷ সিদ্ধ তান্ত্রিকের দেহরক্ষার পরেই দেবীপুজোর ভার পড়ে চোংদার বংশের উপর৷ গর্ভগৃহের পঞ্চমুণ্ডির আসনের উপর উঁচু বেদিতে মা রটন্তী শিবের বুকের উপর দাঁড়িয়ে৷ দেবী চতুর্ভুজা৷ শবাসনা৷ প্রসন্নতা ও কারুণ্যে ভরা মায়ের এমন মুখ খুব কমই দেখা যায়৷ মায়ের মূর্তি গড়া হয় খড় দিয়েই, কোনও মাটির প্রলেপ ছাড়াই৷ প্রতিবছর মাঘ মাসের রটন্তী চতুর্দশীতে মাটি দিয়ে মায়ের বিগ্রহ নির্মাণ করা হয়৷ সে সময় পুজো হয় সাতদিন ধরে৷ পুজোর পরেই মা বিসর্জিতা হন পাশের কুনু নদীতে৷ বিসর্জিতা মায়ের গা থেকে মাটি ধুয়ে যাওয়ার পর কাঠামোটি আনা হয় মন্দিরে৷ সেখানে মাটি দিয়ে শুধুমাত্র দেবী বিগ্রহ ও মহাদেবের মুখমণ্ডল তৈরির পর কাঠামোর বাকি অংশ কাপড় পরিয়ে সারা বছর পুজো করা হয়৷ কালীপুজো ছাড়াও দীপাবলি কালীপুজো হয় ঘটা করে৷ ছাগবলি হয় দুশো থেকে আড়াইশো৷

সিদ্ধেশ্বরী শঙ্করীমাতা, আন্দুল:
আন্দুল স্টেশন থেকে রিকশায় মিনিট দশেক ও বাসস্ট্যান্ড থেকে মিনিট ছয়েক গেলেই রাস্তার পাশের এই চারচালা মন্দির। রাস্তার অন্য প্রান্তে নাটমন্দির৷ শোনা যায় সাধকপ্রবর ভৈরবীচরণ বিদ্যাসাগর কাশীর ঘাটে মায়ের প্রস্তরময়ী মূর্তিটি পেয়ে ১১৭৮ সালে মন্দির নির্মাণ করেন৷ বেশ উঁচু ভিতের উপরই মন্দির৷ রাস্তা থেকে মাকে দেখা যায়৷ মন্দিরের ডানপাশে একটি দরজা রয়েছে৷ সেই পথেই কয়েকটি সিঁড়ি পেরিয়ে মন্দিরের চাতালে উঠতে হয়৷ গর্ভগৃহে একটি পাথরের বেদিতে কাঠের সিংহাসনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন মা সিদ্ধেশ্বরী৷ মায়ের মাথাভরা কালো কুঞ্চিত কেশরাশির উপর রুপোর মুকুট৷ নাকে নথ, ত্রিনয়নী মায়ের তিনটি চোখই সোনার৷ হাতে গলায় নানা সোনার গহনা৷ বসন পরে শবরূপী শ্বেতপাথরের শিবের উপর দাঁড়িয়ে মা সিদ্ধেশ্বরী৷ প্রতিদিন মাকে অন্নভোগ দেওয়া হয়৷ প্রতিবছর কালীপুজোয় ছাগবলি দেওয়া হয়৷ এছাড়া মানত বলিও হয়৷

মা ভবতারিণী, ডোমজুড়:
হাওড়া জেলার ডোমজুড়ে নানা গ্রামের পথে রাস্তার বাঁ পাশে এই মন্দিরটি৷ পঞ্চরত্নবিশিষ্ট কমলা রঙের মন্দিরটির মধ্যরত্ন অধিকতর উঁচু৷ মন্দিরের ছাদ থেকে প্রায় ৩০ ফুট উঁচু৷ চূড়ার উপর রয়েছে তিনটি ঘট, তার উপর একটি ত্রিশূল ও সর্বোপরি ওম শব্দটি৷ চূড়াগুলি দেখতে উত্থিত রকেটের মতো৷ চূড়ার উপর রয়েছে একটি করে ধাতুর পতাকা৷ একেকটি ছড়াতে চারটি করে কুলঙ্গির মতো একটি করে মূর্তি প্রতিষ্ঠিত৷ এমন চূড়াযুক্ত মন্দির সচরাচর দেখা যায় না৷ রাস্তার পরে একচিলতে সবুজ মাঠের পরেই মন্দির৷ একটিমাত্র ঘর৷ সেটিতেই মার অবস্থান৷ চারদিকে ৮ ফুট চওড়া বারান্দা৷ একেকদিকে চারটি করে মোট ১৬টি থামের উপর মন্দিরের বারান্দা নির্মিত৷ এক ফুট উঁচু বেদিতে মা দক্ষিণাকালী বসন পরিহিতা হয়ে মহাদেবের উপর দণ্ডায়মান৷ এঁকেই ভবতারিণী নামে পুজো করা হয়৷ মায়ের মাথায় সোনার চূড়া৷ নাকে নথ, বাঁদিকে নিচের হাতে নরমুণ্ড থাকলেও ঊর্ধ্ব হাতে ত্রিশূল নেই৷ ডানদিকের হাতগুলি অভয় ও বরাভয় মুদ্রায় রয়েছে৷ মায়ের পুজো করেন ভক্ত বাবা নামে এক সাধক৷ স্থানীয়রা এটিকে ভক্তবাবার মন্দির বলেন৷ শনি-মঙ্গলবার খুব ভিড় হয় মন্দিরে৷

ডাকাত কালী, শিমলাগড়:
কালীভক্ত ডাকাতদের ডাকাতি করতে যাওয়ার আগে মা কালীর পুজো করা, নরবলি ও পশুবলি দেওয়া, এমনকী ডাকাতির অর্থ গরিব মানুষদের মধ্যে বিলিয়ে দেওয়ার কাহিনি সমকালীন সংবাদপত্র ও প্রাচীন গ্র‌ন্থে প্রকাশিত হয়েছে৷ এরকমই হুগলি জেলার বিখ্যাত ডাকাত কালী আছে শিমলাগড়ের জিটি রোডের ধারে৷ সূত্রের খবর, এই কালীবাড়ি আনুমানিক ৮০০ বছরের পুরনো৷ গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড নির্মাণের পূর্বে গভীর জঙ্গলে ঢাকা এই কালীকে ডাকাতরাই পুজো করত৷ এমনকী নরবলিও দেওয়া হত এখানে৷ পরবর্তী সময়ে কালীসাধক দুর্গাদাস শিরোমণি এখানে মন্দির স্থাপন করে মায়ের নিত্যপুজো শুরু করেন৷ শ্বেতপাথরের বেদির উপর প্রায় পাঁচ ফুট উঁচু মায়ের বিগ্রহের মাথায় রয়েছে সোনার মুকুট৷ হাতে ও গলায় স্বর্ণালংকার৷ গলায় রক্তজবার মালা৷ এক চূড়াবিশিষ্ট মন্দিরটির চূড়ার রংটি হলুদ হলেও শিমলাগড়ের কালীমন্দিরটি রক্ত জবার মতো লাল৷ কার্তিক মাসের কালীপুজোর দিনই মন্দিরের প্রধান উৎসব অনুষ্ঠিত হয়৷

ত্রিপুরসুন্দরী, বোড়াল:
বর্তমান মন্দিরটি নতুন হলেও পুরনো মন্দিরের উপরই নির্মিত হয়েছে৷ মন্দিরটিকে কালীঘাটের কালীমন্দিরের সমসাময়িক বলেই মনে করা হয়৷ মন্দিরের দেবীমূর্তিটি অষ্টধাতুর৷ যে আসনটিতে দেবী দণ্ডায়মান সেই আসনটিতে পাঁচটি খুর বা পায়া আছে৷ এই খুরগুলি হল ব্রহ্মা, বিষ্ণু, রুদ্র, ঈশ্বর ও সদাশিবের প্রতীক৷ এঁদের মাথার উপর যোগনিদ্রায় শায়িত আছেন মহাকাল৷ মহাকালের নাভিপদ্ম থেকে যে মহাপদ্ম উঠেছে তার উপর দেবী অধিষ্ঠিতা৷ তিন ফুট উঁচু আয়তাকার বেদির উপর ৬০ ফুট উঁচু মন্দিরটি নির্মিত৷ দেবী মন্দিরের পশ্চিম পাড়ে অবস্থান করেন ত্রিপুরসুন্দরী দেবীর ভৈরব শ্রীশ্রীপঞ্চাননদেব৷ যোগনিদ্রায় শায়িত মহাকালের উপর দণ্ডায়মান শ্রীশ্রীত্রিপুরসুন্দরী দেবী চতুর্ভুজা ও ত্রিনয়নী৷ অসুরনাশিনী বরাভয় প্রদায়িনী৷ শোনা যায় প্রাচীনকালে গড়িয়া ও দেবীমন্দিরের মধ্যবর্তী স্থানে বন্দর থাকায় ছোট ছোট জাহাজ ও নৌকা করে যাত্রীরা বন্দরে নেমে দেবীপূজা সেরে তবেই বহির্বাণিজ্যে বা যথাস্থানে যেতেন৷ এমনকী, বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজাও এই মন্দিরে এসে মায়ের পুজো দিয়ে রাত্রিযাপন করতেন৷ শোনা যায় অলৌকিক নানা ঘটনার কথাও৷ মায়ের আবদার মেটাতে শাঁখারির শাঁখা পরানোর কথা৷ প্রাচীন এই মন্দিরে যেতে হলে নামতে হবে গড়িয়া বাসস্ট্যান্ড বা কাজি নজরুল মেট্রো স্টেশনে৷ সেখান থেকে রিকশায় দেড় কিলোমিটার৷

শিরীষতলার কালী, বসিরহাট:
উত্তর ২৪ পরগনার বারাসত টাকি রোডে বসিরহাটে এই মন্দিরটির অবস্থান৷ গ্রামের নাম শিরীষতলা৷ হাসনাবাদ লোকালে বসিরহাটে নেমেও এই মন্দিরে আসা যায়৷ প্রায় ১৫০ বছরের পুরনো এই মন্দিরটি বেশ বড়৷ মন্দিরটির উচ্চতা প্রায় ৬০ ফুট৷ নবরত্ন মন্দিরটিও বেশ উঁচু৷ পাঁচটি রত্নের উপর ত্রিশূল ও চারটি রত্নের উপর ডাব প্রোথিত৷ প্রতিটি রত্নের মধ্যখানে রয়েছেন দেবদেবী৷ সম্পূর্ণ মন্দিরটি গড়া শ্বেতপাথর দিয়ে৷ প্রায় ১০ বছর আগে মন্দিরটির সংস্কার করেন শিরীষতলা নিবাসী যতীন্দ্রনাথ ভদ্র ও তাঁর পুত্ররা৷ মন্দিরের ভিত উঁচুতে থাকার জন্য ১০টি সিঁড়ির ধাপ অতিক্রম করে তবেই মায়ের দর্শন করতে হয়৷ মূল মন্দিরের মাঝখানে শ্যামাকালী দুই ধাপ বেদির উপর শায়িত শিবের নাভির উপর দণ্ডায়মান৷ লাল রঙের শাড়ি পরিহিতা দেবী কালিকার চার হাতে রয়েছে খড়্গ, চাঁদমালা, নরমুণ্ড ও অপর দু’টি হাত অভয় এবং বরাভয় মুদ্রা৷ নাকে নথ, গলায় জবা আর গাঁদাফুলের মালা৷ গর্ভমন্দিরের বাঁদিকে শিবের মন্দির আর ডানদিকে গ্রহরাজ শনির মন্দির৷ মাকে নিত্যপুজো করা হয়৷ সন্ধ্যারতির সময় মাতৃমন্দিরে বহু ভক্ত সমাগম হয়৷

ডাকাত কালী, ত্রিবেণী:
বাঁশবেড়িয়া পুরসভার অন্তর্গত ত্রিবেণীর এই মন্দিরটিকে ঘিরে জড়িয়ে রয়েছে স্থানীয় মানুষের ভাবাবেগ৷ কথিত আছে রঘু ডাকাত ও বিশে ডাকাতের সঙ্গে আরও এক ডাকাত ডাকাতি করতে যাওয়ার আগে এই মন্দিরে পুজো দিত৷ এমনকী স্থানীয় সপ্তগ্রাম বন্দরে জাহাজ করে যেসব যাত্রীরা আসতেন ডাকাতরা তাঁদের ধনসম্পদ লুঠ করে সেই টাকার কিছুটা অংশ গরিবদের মধ্যে বিতরণ করত৷ এখানে তারা নরবলিও দিত৷ শোনা যায় একবার ডাকাতরা বলি দেওয়ার জন্য সাধক রামপ্রসাদকেও এখানে নিয়ে আসে৷ কিন্তু তাঁর কণ্ঠের সুমধুর গানে ও কালীর কৃপায় তারা ঘুমিয়ে পড়ে৷ এখানে চতুর্ভুজা কালিকার ঊর্ধ্ব বাম হস্তে খড়্গর পরিবর্তে রয়েছে তরবারি ও অন্যান্য হাতগুলিতে রয়েছে দেবী কালিকার মতোই নানা প্রহরণ৷ দেবী জোড় পায়ে শবরূপী শিবের হৃদপদ্মে দণ্ডায়মান৷ মায়ের মুখোমুখি মন্দির অঙ্গনে স্থাপিত শিবলিঙ্গ৷ রয়েছে জটাজাল বিস্তৃত প্রাচীন বটবৃক্ষ৷ ভক্তজনের কামনা-বাসনার কয়েক হাজার ইটের টুকরো ঝুলিবৃক্ষের সারা গায়ে তাবিজের মতো বাঁধা৷ ২০১৪-র ১৩ ফেব্রুয়ারি বিধায়ক তহবিলের ১৫ লক্ষ টাকায় পুনরায় নতুন রূপ পেয়েছে মন্দিরটি৷

মা সিদ্ধেশ্বরী, পোলবা:
হুগলির পোলবার মা সিদ্ধেশ্বরীর নাম প্রসিদ্ধ৷ কয়েকশো বছরের প্রাচীন এই মন্দিরটি খুব সাদামাঠা দালানরীতির৷ মন্দিরটি ভগ্নপ্রায় হওয়ায় ১৮৮৯ সালে বাংলা ১২৯৬ সালে স্থানীয় অধিবাসী তারিণীচরণ দত্ত এটির পুনর্নির্মাণ করেন৷ শোনা যায়, তারিণীচরণ একটি পুকুর সংস্কারকালে গুপ্তযুগের একটি বাসুদেবের বিগ্রহ উদ্ধার করে এই মন্দিরে প্রতিষ্ঠা করেন৷ সেই থেকে সিদ্ধেশ্বরীর পাশাপাশি বাসুদেবের পুজোও হয়ে চলেছে এখানে৷ গর্ভবেদির উপর মা সিদ্ধেশ্বরী শিবের উপর দণ্ডায়মান৷ এই বিগ্রহটির বৈশিষ্ট্য হল সাধারণত শিব শায়িত থাকেন মায়ের ডানদিকে৷ কিন্তু পোলবার সিদ্ধেশ্বরীর ভৈরব টানটান হয়ে শুয়ে মায়ের বাঁদিকে মাথা রেখে৷ দুটি সাপ ফণা তুলে আছে শিবের কাছে৷ বসনপরা চতুর্ভুজা মায়ের চোখগুলি ফালা ফালা৷ নাকে নথ৷ কপালে টিকলি, মাথায় মুকুট, গায়ের রং নিকষ কালো৷ বিশেষ উৎসবে ও অমাবস্যায় মায়ের মহাসমারোহে পুজো হয়৷ হাওড়া-বর্ধমান মেন রেলপথে ব্যান্ডেল স্টেশন বা মগরায় নেমে এই মন্দিরে যাওয়া যায়৷

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং