১১ অগ্রহায়ণ  ১৪২৭  শুক্রবার ২৭ নভেম্বর ২০২০ 

Advertisement

পরীক্ষার ভয়ে ভীত সন্তান? সুরাহার পথ দেখাচ্ছেন গবেষকরা

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: April 18, 2018 7:33 pm|    Updated: July 11, 2018 4:18 pm

An Images

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ছেলে মেয়েকে নিয়ে দুশ্চিন্তার শেষ নেই? সবে পরীক্ষা শেষ হয়ে নতুন ক্লাসে উঠেছে। এরমধ্যেই অর্ধেক দিন মুখভার করে বাড়ি ফেরে। নাহঃ ক্লান্তিতে নয় মোটেও। রীতিমতো রাগে ফুটছে সে। পিঠের ব্যাগটা খুলে সোজা বিছানায় ছুড়ে দিয়ে গটগট করে বাথরুমে ঢুকে পড়ল। প্রায় দিন এমন ঘটছে ? কি হয়েছে, বুঝে উঠতে পারছেন না ? সত্যিই দুশ্চিন্তার বিষয়। কিন্তু কীভাবে ছেলেমেয়েকে বোঝাবেন তাও বুঝতে পারছেন না। কেন না রাগের কারণটাই তো জানা নেই। তবে মন খারাপ করে লাভ নেই। সেরকম হলে একবার স্কুলে গিয়ে দেখতে পারেন, সেখানে কোনও সমস্যা হল কিনা। তবে যেখানেই সমস্যা হোক না কেন রাগ, উত্তেজনা কমাতে একটা তো সমাধানের পথ খুঁজতেই হবে। গবেষকরা বলছেন পরীক্ষাভীতি ও প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকার চাপ পড়ুয়াদের মনে গভীর ভাবে প্রভাব বিস্তার করে। সেই থেকেই মনের মধ্যে তৈরি হয় উত্তেজনা। কখনও মনে হয়, এবারে বোধহয় আশানুরূপ ফল করতে পারব না। কখনও মনে হয় পাশের জন এগিয়ে যাচ্ছে। রাগ, মানসিক যন্ত্রণা, উত্তেজনা সব মিলেমিশে একাকার হয়ে বাচ্চাদের দিশেহারা অবস্থা। তাই বলে কি এই চক্রব্যুহ থেকে মুক্তি নেই? আছে তো। অন্তত তেমনই দিশা দেখাচ্ছেন আমেরিকার টিউলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা।

[ভুঁড়ি বাড়ছে? তাহলে শরীরে বাসা বাঁধছে ভুড়িভরতি রোগও]

স্কুলে পড়ার ফাঁকে যদি একটু আধটু যোগার আয়োজন থাকে তাহলে মন্দ হয় না। এমনিতেই মারাত্মক পড়ার চাপে সবসময় কাঁটা হয়ে থাকে বাচ্চারা। খেলাধুলার সুযোগ পেলে হাঁফ ছেড়ে বাঁচে। এই পরিস্থিতিতে যোগব্যায়াম যেমন শারীরিক ভাবে সুস্থ রাখে। তেমনই মানসিক সুস্থতাকেও সুরক্ষিত করে। যোগব্যায়াম করলে মন ভাল থাকে। আর মন ভাল থাকলেও ক্লাসে পিছিয়ে পড়ার ভয় বাড়ির খুদে সদস্যকে এতটাও কাবু করতে পারে না।  এমনিতেই পরীক্ষাভীতি কাটিয়ে ওঠার কাজে বাচ্চারা বড়দের তুলনায় অনেকটাই এগিয়ে আছে। বয়সজনিত কারণেই স্বভাবসিদ্ধ ভাবে ভয়কে দূরে ফেলে দিব্যি গড়গড়িয়ে পাশ করে উঁচু ক্লাসেও উঠে যাচ্ছে। সেখানে যোগা এই কাজকে অনেকটা সহজ করে দেয়। তবে সব বাচ্চাই কিন্তু ভয়, উত্তেজনাকে জয় করতে পারে না। যোগব্যায়াম করলে যেহেতু মনোসংযোগ বাড়ে, সেহেতু স্বভাবেও ধীর স্থিরতা আসে। এর সূত্র ধরেই পরীক্ষাভীতি, ক্লাসে প্রথম হওয়ার চাপ, উত্তেজনাও বশে চলে আসে। তখন আর বাড়ি ফিরে রাগে মুখভার করা বাচ্চাকে দেখতে হয় না। চাকরিজীবী বাবা মা দেখেন দিব্যি টিভির রিমোর্ট হাতে নিয়ে কার্টুনে ডুবে আছে তাদের আদরের টুবলু। চোখেমুখে সেই চেনা ছটফটানি। কোথাও কোনও চিন্তার লেশ মাত্র নেই। নিশ্চিন্ত হন তাঁরাও।

[আইপিএল উৎসবে লোভনীয় অফারেই হোক পেটপুজো, চলে আসুন শহরের এই সব রেস্তরাঁয়]

গবেষণা বলছে, স্কুলের উদ্যোগে যদি ক্লাসের ফাঁকে যোগব্যায়াম চালু হয়, তাহলে পরীক্ষাভীতি কাটিয়ে বাচ্চারা হাসবে। ২০ জন পড়ুয়ার উপরে এই বিশেষ পরীক্ষা চালানোও হয়েছে। ক্লাসের শেষে যোগব্যায়ামের আয়োজন। যোগার আগে ও পড়ে ওই ২০ জন বাচ্চার মনোবিকাশ বুঝে নেওয়ার চেষ্টাও করা হয়েছে। পরে দেখা গিয়েছে নিজেদের মধ্যে বেশ মজা করছে পড়ুয়ারা। এই দেখে বেশকিছু স্কুলের শিক্ষকরা সপ্তাহে একবারের পরিবর্তে  ক্লাসের প্রতিটি দিনই যোগব্যায়াম বাধ্যতা করাতে সায় দিয়েছেন। কি? তাহলে হল তো সমাধান। অফিস থেকে ফিরে হাসিখুশি বাচ্চাকে দেখতে চাইলে স্কুলে যোগব্যায়াম কিন্তু থাকতেই হবে। বাড়িতেও একটু আধটু ব্যবস্থা করতে পারেন। তবে অবশ্যই যোগ্য প্রশিক্ষক রেখে।

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement