Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • শুক্রবার
  • ৫ জুন ২০২৬
cancer patient last wish

ক্যানসার আক্রান্ত বাবার শেষ ইচ্ছে, হাসপাতালেই বসল মেয়ের বিয়ের আসর

চিকিৎসকদের উদ্যোগে হাসপাতালে আংটি বদল মেয়ে জামাইয়ের

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২০, ১৩:১৬

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২০, ১৩:১৬

options
link
ক্যানসার আক্রান্ত বাবার শেষ ইচ্ছে, হাসপাতালেই বসল মেয়ের বিয়ের আসর zoom

অভিরূপ দাস: হাসপাতাল থেকে আর বাড়ি ফেরা হবে না। যে কোন সময় চলে যেতে হবে পৃথিবী ছেড়ে। নিভু নিভু জীবনদীপ। আপনার শেষ ইচ্ছে কি? চিকিৎসকদের এহেন প্রশ্নে প্রৌঢ় জানিয়েছিলেন, মেয়ের বিয়েটা যদি দেখে যেতে পারি। রোগীর শরীরের যা অবস্থা, খারাপ খবর আসতে পারে যেকোনও মুহূর্তে। বুঝতে পেরেছিল ডক্টরদের টিম। আর দেরি করেননি। ডাকা হল রেজিস্টার। হাসপাতালেই নিমন্ত্রণ করা হল আত্মীয়স্বজনদের। এনগেজমেন্ট-এর সোনার আংটি থেকে গোলাপের মালা সব হাজির। হাসপাতালে ক্যানসার আক্রান্তের ঘরের পাশেই বসিয়ে দেওয়া হল বিয়ের মণ্ডপ। বিছানায় শুয়ে মৃত্যুপথযাত্রী বাবা সন্দীপ সরকার সাক্ষী থাকলেন মেয়ে দিওতিমার সাতপাকের।

২০১১ সাল থেকে জিভের ক্যানসারে আক্রান্ত বরানগরের সন্দীপ সরকার। সে সময় তার অস্ত্রোপচার হয়েছিল। বেশ কয়েক বছর ভালোই ছিলেন। ছ’বছর পর ফের সমস্যা। বায়োপসি করে চিকিৎসকরা এবার জানতে পারেন ফুসফুস পর্যন্ত ছড়িয়ে গিয়েছে ক্যানসার। এবার তা আরও ভয়ঙ্কর রূপে। চতুর্থ পর্যায়ে। রোগী কিছুই খেতে পারছেন না। ক্রমশ ওজন কমে যাচ্ছিল। সাধারণত চতুর্থ পর্যায়ের এই ক্যানসারে রোগী ১ বছরের বেশি বাঁচে না। বাড়িতে কান্নাকাটি পড়ে যায়। সন্দীপবাবু জানান, একমাত্র মেয়ের বিয়ে হয়নি। তা না দেখেই চলে যাবো? শুরু হয় অসুখের বিরুদ্ধে চিকিৎসকদের একজোট লড়াই।

Advertisement

দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়তে থাকা ক্যানসারকে কীভাবে রোধ করা যায়, আটকানো যেতে পারে নিশ্চিত মৃত্যুকে? দীর্ঘ বৈঠকের পর চিকিৎসকরা কথা দিয়েছিলেন, ইমিউনোথেরাপি দিয়ে ওনাকে আরও ৩ বছর পর্যন্ত বাঁচিয়ে রাখবেনই। সেই তিন বছরের সময়সীমা শেষ হয়েছে এই ফেব্রুয়ারিতেই। অসুখের বিরুদ্ধে লড়তে লড়তে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন সন্দীপবাবুও। অগুনতি কেমো নিয়ে নিয়ে সব চুল পড়ে গিয়েছে। কঙ্কালসার চেহাড়া। হাসপাতালের মেডিক্যাল অঙ্কোলজি বিভাগের ডা. বিবেক আগরওয়ালা, ডা. চন্দ্রকান্ত এমভি বুঝতে পারছিলেন আর নয়। সরকারিভাবে মেয়ের বিয়ের তারিখ ছিল ১৬ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু মাঝের এই কদিনও সন্দীপবাবু না বাঁচতে পারেন। এমনই তাঁর শরীরের দশা। অগত্যা শেষ ইচ্ছে মেনে হাসপাতালেই বিয়ের আসরের পরিকল্পনা করল হাওড়ার নারায়ণা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল। চোখে জল নিয়ে দিওতিমা জানালো, জানি বাবা যে কোনওদিন চলে যাবে। কিন্তু আমার নতুন জীবন শুরুতে তাঁর আর্শীবাদ আমার কাছে সবচেয়ে দামি। 

[আরও পড়ুন: রূপান্তরকামীদের জন্য খুলল বিশেষ ওয়ার্ড, নজির বালুরঘাট সদর হাসপাতালের]

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.