– আমরা ভুল রাস্তায় চলে এসেছি! জিপিএস কাজ করছে না কেন?
– চারপাশে শুধু ঘন জঙ্গল। কোনও নেটওয়ার্ক নেই!
আরও পড়ুন:
– এখানে বেশিক্ষণ থাকা ঠিক হবে না। কেউ আমাদের দেখছে!
ভয় যে কোথায় ওত পেতে বসে থাকে তা কে বলতে পারে! ‘রং টার্ন’ ছবিটা যাঁরা দেখেছেন তাঁরা জানেন, কয়েকজন তরুণ-তরুণী ভুল রাস্তায় চলে যাওয়ায় কত বড় বিপদের সামনে পড়েছিল। ভূতপ্রেত নয়, রক্তমাংসের মানুষেরাই তাঁদের সামনে এসে পড়েছিল মূর্তিমান মৃত্যু হয়ে! কেননা তারা নরখাদক তথা ক্যানিবল। নরমাংস যাদের অতীব প্রিয়! এই ছবিটি এতই জনপ্রিয় হয় যে, পরপর সিক্যুয়েল তৈরি হতে থাকে। এযাবৎ সাতটি ছবি তৈরি হয়েছে। কিন্তু জানেন কি স্রেফ রুপোলি পর্দার মনগড়া গল্প নয়। আসলে এই হাড়হিম ছবির নেপথ্যে রয়েছে ‘বাস্তব ঘটনা’! আর সেই ঘটনা যেন সিনেমাকেও হার মানায়! তবে ‘রং টার্ন’-এর নেপথ্যে থাকা ‘সত্য কাহিনি’ একমাত্র উদাহরণ নয়। ‘হেনরি: পোর্ট্রেট অফ আ সিরিয়াল কিলার’ (১৯৮৬) ছবিতে হেনরি লি লুকাসের প্রভাব কিংবা আলফ্রেড হিচককের ‘সাইকো’ (১৯৬০)-তে এড গেইনের প্রভাবের কথাও কমবেশি সকলেরই জানা। কিন্তু আমরা এখানে যে ‘বাস্তব’ ঘটনার কথা বলব তা কয়েক শতাব্দী প্রাচীন পৃথিবীর কথা!
ষোড়শ শতাব্দীর সনি বিন পরিবার আজও এক ‘ঘৃণ্য’ পরিবার হিসেবে টিকে আছে কিংবদন্তি হয়ে। সনি বিন পরিবারের কাহিনিটি ষোড়শ শতাব্দীর। স্কটল্যান্ডের নরমাংসভোজী এই পরিবার ২৫ বছর ধরে একহাজারের বেশি মানুষকে বন্দি করে হত্যা ও ভক্ষণ করেছে। এই ঘটনাটি যেমন বীভৎস, পরিবারটির বংশপরিচয় ও জীবনধারাও ছিল ঠিক ততটাই বিকৃত ও ভয়াবহ। কথিত আছে, আলেকজান্ডার ‘সনি’ বিন স্কটল্যান্ডের ইস্ট লোথিয়ানে জন্মগ্রহণ করেন। সেখানেই তাঁর স্ত্রী ব্ল্যাক অ্যাগনেস ডগলাসের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়। দু’জন মানুষই ছিলেন অদ্ভুত।

হয়তো সেই কারণেই তাঁদের মন বিনিময় হয়ে গিয়েছিল সহজেই। প্রচলিত প্রথা ও সমাজজীবনের গণ্ডি পেরিয়ে তাঁরা এক অস্বাভাবিক জীবন বেছে নেন। পরিবার-পরিজন ছেড়ে দক্ষিণ-পশ্চিম স্কটল্যান্ডের ব্যালানট্রের কাছে একটি গুহায় থাকতে শুরু করেন। সনি ও অ্যাগনেসের আট ছেলে ও ছয় মেয়ে ছিল। পরবর্তী সময়ে পরিবারের সদস্যদের নিজেদের মধ্যেই যৌন সম্পর্কের ফলে (অজাচার) আরও ৩২ জন নাতি-নাতনির জন্ম হয়। শেষ পর্যন্ত এই পরিবারটি ধরা পড়ে এবং স্কটল্যান্ডের রাজা ষষ্ঠ জেমসের আদেশে তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
ষোড়শ শতাব্দীর সনি বিন পরিবার আজও এক ‘ঘৃণ্য’ পরিবার হিসেবে টিকে আছে কিংবদন্তি হয়ে। সনি বিন পরিবারের কাহিনিটি ষোড়শ শতাব্দীর। স্কটল্যান্ডের নরমাংসভোজী এই পরিবার ২৫ বছর ধরে একহাজারের বেশি মানুষকে বন্দি করে হত্যা ও ভক্ষণ করেছে।
কিন্তু… বলে রাখা যাক, এখানে একটা ‘কিন্তু’ রয়েছে। আদৌ কি এই পরিবারটি ছিল? নাকি সবটাই ‘মিথ’? এই দ্বন্দ্ব রয়েছেই। এমন বীভৎস ও দুঃস্বপ্নের মতো কাহিনি পাঁচশো বছর পরেও ছড়িয়ে রয়েছে। কিন্তু সনি বিন পরিবারের অস্তিত্বের কোনও জোরালো প্রমাণ কিন্তু পাওয়া যায়নি। কোনও ধরনের নথিপত্র মেলেনি। ইতিহাস ঘাঁটলে নরমাংসভোজী এক গোষ্ঠীর সন্ধান প্রথম মেলে অষ্টাদশ শতাব্দীতে। এখানেও একই পরিবারের নিজেদের মধ্যেই যৌন সম্পর্কের কুৎসিত কাহিনি। কিন্তু সেটা সনি বিন পরিবারের কিংবদন্তির সময়কালের দেড়শো বছর পরের কথা। অনেকেরই ধারণা, স্কটদের নেতিবাচকভাবে তুলে ধরার লক্ষ্যে জ্যাকোবাইট বিদ্রোহের সময় স্কটল্যান্ড-বিরোধী অপপ্রচার হিসেবে ছড়ানো হয়েছিল এই কুৎসিত নরমাংসভোজীদের ‘মনগড়া’ কাহিনি।

কিন্তু যদি সবটাই মিথ্যে হয়, তাহলে এই প্রশ্নও তো তোলাই যায় যে এমন এক কাহিনি এমনি এমনি বানিয়ে তোলা হল কেন? কোনও ভিত্তিই কি নেই? অনেকে মনে করেন ক্রিস্টি ক্লিকের ঘটনাই এমন কিংবদন্তির জন্ম দিয়েছিল। কে এই ক্রিস্টি ক্লিক? স্কটল্যান্ডের কসাই-থেকে-ডাকাত হয়ে ওঠা ক্রিস্টির সময়কাল চতুর্দশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে। মনে করা হয়, ১৩৪১ সালে সকলকে আতঙ্কিত করে রেখেছিল এই খুনি। দীর্ঘ দণ্ডের মাথায় লাগানো ধারালো হুক বা ‘ক্লিক’ দিয়েই মানুষ খুন করত- তাই এমন নাম। শোনা যায়, সে নাকি শিকারকে টেনে মাটিতে ফেলে দিয়ে সব লুটেপুটে নিত। তারপর ইচ্ছে হলে কারও কারও মাংসও খেয়ে ফেলত। কিন্তু মজার বিষয় হল, এই ক্রিস্টি ক্লিকও আদপে ছিল কিনা তা নিয়ে ধন্দ রয়েছে। এবং অনেকেই নিশ্চিত, সনি বিনের মতোই এটাও মনগড়া গপ্পোগাছাই।
ইতিহাস ঘাঁটলে নরমাংসভোজী এক গোষ্ঠীর সন্ধান প্রথম মেলে অষ্টাদশ শতাব্দীতে। এখানেও একই পরিবারের নিজেদের মধ্যেই যৌন সম্পর্কের কুৎসিত কাহিনি। কিন্তু সেটা সনি বিন পরিবারের কিংবদন্তির সময়কালের দেড়শো বছর পরের কথা।
তাহলে? সনি বিন সত্যি? নাকি ক্রিস্টি ক্লিক? নাকি সবই? আসলে ভয়ের কেন্দ্রে থাকে একধরনের অবিশ্বাস। আবার সেই সঙ্গেই মিশে থাকে কোনও না কোনও সত্যের স্পর্শ। একেবারে ভিত্তিহীন হলে সেই কাহিনি কে বুনল এই নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। তবে আসল সত্যিটা বোধহয় কোনওদিনই জানা যাবে না। কিন্তু এত বছর পরে সেই গল্পের মৌতাত যেহেতু এতটুকু নষ্ট হয়নি, হলিউড যা নিয়ে ছবি বানায় (বনের মধ্যে হারিয়ে যাওয়া এবং বিকৃত মাংসাশী মানুষের কবলে পড়া), এবং সেই ছবি জনপ্রিয়ও হয়, তাই এটা হলফ করে বলাই যায় আগামিদিনেও টিকে থাকবে সনি বিন পরিবারের হাড়হিম আখ্যান!
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
আরাবুলের গাড়ি লক্ষ্য করে বোমা! কপাল জোরে প্রাণরক্ষা ভাঙড়ের ‘তাজা’ নেতার
-
ওড়িশা উপকূলে ডুবল পানামার পতাকাধারী জাহাজ! ২৪ নাবিকের খোঁজে তল্লাশি
-
রাজস্থানের ৬১১ সরকারি স্কুলের নিজস্ব ভবনই নেই! ‘আরশোলা’দের কর্মসূচির মাঝেই প্রকাশ্যে রিপোর্ট
-
তারাপীঠের পর এবার রামপুরহাটের হোটেলে আগুন, আতঙ্কে হুড়োহুড়ি, ঘটনাস্থলে দমকল
-
মাত্র তিনদিনেই শেষ কাজ! এসআইআরের মতোই জনগণনাতেও নজির সাঁইথিয়ার শিক্ষকের