Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ৮ আষাঢ় ১৪৩৩
  • বুধবার
  • ২৪ জুন ২০২৬
Juliane Koepcke

যে মেয়েটা আকাশ থেকে পড়েছিল! অবাক করে আমাজনের নিঃসঙ্গ কিশোরীর কাহিনি

কেমন করে ফের সভ্য সমাজে ফিরেছিল সে, তা এক অবিশ্বাস্য কাহিনি।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ডিসেম্বর ২০, ২০২৫, ১৯:১৮

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ডিসেম্বর ২০, ২০২৫, ১৯:১৮

options
link
যে মেয়েটা আকাশ থেকে পড়েছিল! অবাক করে আমাজনের নিঃসঙ্গ কিশোরীর কাহিনি zoom

বিশ্বদীপ দে: মাঝ আকাশে বজ্রগর্ভ মেঘের মধ্যে ঢুকে পড়া বিমান ভেঙে গিয়েছিল টুকরো টুকরো হয়ে। ১৭ বছরের এক কিশোরী ছাড়া সকলেই মারা গিয়েছিল সেই দুর্ঘটনায়। এদিকে মেয়েটি জ্ঞান ফিরে টের পায় আমাজনের জঙ্গলে সে একাকী! পেরুর জুলিয়ান কোয়েপকের কাহিনি কল্পনাকে কেবল হারায় না। বলা যায়, দশ গোল দেয়!

অথচ জীবনটা তার ছিল মসৃণ। আর পাঁচটা কিশোরীর মতোই। প্রাণীবিজ্ঞানী দম্পতির ঘরে জন্ম। সম্পন্ন অবস্থা। স্কুলের পাট চুকেছে। সামনেই বড়দিন। ক্রিসমাসে মেতে ওঠার এর চেয়ে ভালো পরিস্থিতি আর কী হতে পারে! মায়ের সঙ্গে পেরুর পুকালপাগামী বিমানে উঠেছিল। সেখানেই থাকেন জুলিয়ানের বাবা। কে ভেবেছিল এত সুন্দর একটা দিনের আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে বজ্রগর্ভ মেঘের নিষ্ঠুর ষড়যন্ত্র!

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

পরবর্তী সময়ে এক সাক্ষাৎকারে জুলিয়ান বলেছিলেন, ”দিনটা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ছিল। কেবল উড়ানটা এসেছিল দেরিতে। কিন্তু পেরুতে রোজই এমন দেরি হয় বিমানবন্দরে। মনে পড়ে কত ভিড় ছিল! দেখছিলাম সকলেই পরিবারের সঙ্গে ক্রিসমাস পালন করবে বলে বাড়ি যেতে উন্মুখ হয়ে রয়েছে।” বিমানের জানলার ধারে বসেছিল কিশোরী জুলিয়ান। দেখতে পেয়েছিল বাইরে মেঘ কেমন জমাট বেঁধে রয়েছে! কিন্তু আলাদা করে কোনও বিপদের গন্ধ পায়নি। তার মা কেবল বলেছিলেন, ”ব্যাপারটা ভালো লাগছে না।”

ক্রমে আঁধার ঘনিয়ে এল। মেঘ ক্রমশ ঘোর কৃষ্ণবর্ণ ধারণ করল। আর সেই ঘন মেঘের মধ্যে বিমানটা ঝাঁকুনি খেতে থাকে। ক্রমে পরিস্থিতি একেবারেই ‘হাড়হিম’ হয়ে আসে। কালো ঘন মেঘ আর বিদ্যুচ্চমকের প্রতিকূলতার ভিতরে অসহায় বোধ করতে শুরু করেন যাত্রীরা। আচমকাই একটি বাজ এসে পড়ে প্লেনের মোটরের ওপর। এর পর আর পাইলটের কিছু করার ছিল না। বিমানটি খণ্ডবিখণ্ড হয়ে যায়।

জুলিয়ানের কথায়, ”আমি দেখতে পাচ্ছিলাম নিচে জঙ্গল, যেন সবুজ ব্রকোলি…” প্রায় একদিন অজ্ঞান থাকার পর চেতনা ফিরে পেয়েছিল সেই কিশোরী। ১০ হাজার ফুট নিচে আমাজনের গহীন অরণ্যে একলা এক মেয়ে। অথচ আশপাশে কেউ নেই। ক্রমে তার চোখে পড়ে বিমানের একটি বড় আসনের অংশ। সেখানে পড়ে আছেন চারজন। দেখেই বোঝা যায় আছড়ে পড়ার তীব্রতায় সঙ্গে সঙ্গেই প্রাণ হারিয়েছেন। আস্তে আস্তে পরিষ্কার হয়ে যায়, বিমানের কোনও যাত্রীই আর বেঁচে নেই। এমনকী জুলিয়ানের মা-ও!

কিন্তু শোক করারও সময় ছিল না তাঁর। পরবর্তী সময়ে তিনি জানিয়েছিলেন, ”একটা গোটা দিন আমি ঘুরে বেড়ালাম। হামাগুড়ি দিয়ে চেষ্টা করছিলাম এলাকাটা বুঝতে। একসময় কানে এল একটা শব্দ। সেটাকে অনুসরণ করে খুঁজে পেলাম একটা ছোট্ট কুয়ো। মনে পড়ল বাবা বলেছিল, যদি কখনও জঙ্গলে হারিয়ে যাও আর তারপর জল খুঁজে পাও, সেটাকে অনুসরণ করো।”

বাবার নির্দেশ মেনেই এগিয়ে গিয়েছিলেন জুলিয়ান। পথে এক মৃত যাত্রীর ব্যাগ থেকে ক্যান্ডি পেয়েছিলেন। সেটাই মিটিয়েছিল খিদে। এর মধ্যে একদিন ভেসে এল উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার এবং বিমান ওড়ার শব্দ। কিন্তু অনেক চেষ্টাতেও তাদের নজর কাড়তে পারেনি অসহায় কিশোরী জুলিয়ান। আরও অসহায় হয়ে পড়ে সে। এদিকে আবহাওয়া রীতিমতো ভয়াবহ। দিনের বেলায় গরম। আবার সুয্যি পাটে ডুবলেই নিঃসীম অন্ধকারে শৈত্যের তীব্র কামড়। এদিকে মনে রাখচে হবে জায়গাটা আমাজন। জলে কুমির, ডাঙায় সাপ। কেবল কুমির নয় অবশ্য। জলে ছিল পিরানহাও। এদিকে আছড়ে পড়ে চশমা গিয়েছে ভেঙে। কিন্তু সেই সময় তাঁকে সাহায্য করে মা-বাবার সঙ্গে রিসার্চ স্টেশনে থাকার অভিজ্ঞতা। আমাজনের এই প্রতিকূল পরিবেশ তাঁর কাছে মোটেই অচেনা ছিল না। যন্ত্রণা ও আতঙ্ককে পাত্তা না দিয়ে তাই কেবল মাথায় রাখছিলেন সেখানে টিকে থাকার কায়দাগুলি। কিন্তু আচমকাই আবিষ্কার করেন হাতের ছোট্ট ক্ষততে ডিম পেড়ে গিয়েছে মাছি! সেই ডিম ফেটে বেরনো লার্ভারা কুড়ে কুড়ে খেয়েছে ক্ষতস্থান! প্রথমে মনে হয়েছিল হাতটা এবার পচে যাবে। শেষে নিজের হাতে ঢেলে দেন গ্যাসোলিন। ক্ষতস্থান থেকে বের করে আনেন ৩০টি পোকা!

এভাবে কেটে যায় এগারোটি দিন। সম্পূর্ণ নিরস্ত্র, ক্ষুধার্ত, অসহায় এক কিশোরী। কেবল আশা তার সম্বল। কথায় বলে, আশায় বাঁচে চাষা। অবশেষে সত্যিই মানুষের দেখা পেলেন একদিন। তবে তাঁকে দেখে অবশ্য সেই মানুষগুলি আতঙ্কিতই হয়ে পড়েছিলেন প্রথমে। তার আগে কুয়াশাঘেরা নির্জন জঙ্গলে থাকতে থাকতে ক্ষুধার্ত কিশোরীর মনে হয়েছিল, এবার বেঁচে থাকতে হলে কাউকে খেয়েই বেঁচে থাকতে হবে! অবশেষে মানুষদের সংস্পর্শে এসে জীবনে ফেরা। ক্যানু নৌকায় সাতঘণ্টা নদীপথ পেরিয়ে তারপর বিমান। সেখান থেকে পুকালপা, বাবার কাছে।

সময় পেরিয়ে গেলেও জুলিয়ানের মনে আজও জীবন্ত সেই অভিজ্ঞতা। ১৯৭৪ সালে এই ঘটনা নিয়ে ছবি তৈরি হয়। পরে ১৯৯৮ সালে তৈরি হয় তথ্যচিত্রও। জুলিয়ান নিজে লেখেন একটি বই ‘হোয়েন আই ফেল ফ্রম দ্য স্কাই’। গোটা পৃথিবীতেও তিনি পরিচিত এই নামে। যে মেয়েটা আকাশ থেকে পড়েছিল!

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.