শুধু ভারতের বাজারেই আটকে আছেন কলকাতার বেশিরভাগ বিনিয়োগকারী গ্লোবালাইজেশনের যুগে ইনভেস্টমেন্টের ক্ষেত্রেও যত তাড়াতাড়ি গ্লোবাল হবেন, মুনাফাও তত বেশি হওয়ার সম্ভাবনা। এখন যেসব কোম্পানি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) ইন্ডাস্ট্রিতে প্রথম সারিতে আছে, বিশ্বে যেসব সেমিকন্ডাক্টর টেক জায়ান্ট সংস্থা চিপ তৈরির মূল কারিগর, সেই সব কোম্পানির লাভের এক টুকরো আপনি তো পেতেই পারেন! এক দশক আগে এমন চাইলে বিদেশি ব্রোকারেজ অ্যাকাউন্ট আর জটিল পেপারওয়ার্কের ঝামেলা পোহাতে হত। ‘গিফট সিটি’-র দৌলতে সেই সব ঝক্কি আর নেই।
কী এই গিফট সিটি? গুজরাত ইন্টারন্যাশনাল ফিনান্স টেক-সিটি হল ভারতের প্রথম আন্তর্জাতিক ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেস সেন্টার বা সংক্ষেপে IFSC। এর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা গ্লোবাল ফান্ডে বিনিয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন। নির্দিষ্ট বেশ কিছু প্রকল্পে আজ তাঁরা দু’ভাবে বিনিয়োগ করতে পারেন।
আরও পড়ুন:
- এক, ২৩টি ডেভলপড মার্কেটের ১,২০০-র বেশি গ্লোবাল কোম্পানিতে বিনিয়োগ।
- দুই, ২৪টি নতুন বা উদীয়মান (ইমার্জিং) মার্কেটে ১,১০০-র বেশি কোম্পানিতে বিনিয়োগ।
মনে রাখতে হবে, এর জন্য আলাদাভাবে বিদেশের শেয়ার বেছে নেওয়ার প্রয়োজন নেই, একটি ফান্ডের মাধ্যমেই বৈশ্বিক বৈচিত্র্য অর্জন করা সম্ভব। সম্প্রতি বিনিয়োগ সংক্রান্ত এক আলোচনায় এমনই নানা নতুন বিষয়ের চর্চা হল কলকাতার পার্ক হোটেলে, অঞ্জলি ইনভেস্টমেন্টস আয়োজিত ‘নলেজ সামিট ২০২৬’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে।
দেশের জনপ্রিয় লগ্নি বিশেষজ্ঞদের বক্তব্যে বারবার উঠে এল একটি কথা-বিনিয়োগ ইন্ডাস্ট্রি কীভাবে বদলে যাচ্ছে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের হাত ধরে। কলকাতার বিনিয়োগ সচেতন ও বিনিয়োগে ইচ্ছুক অতিথিদের উদ্দেশে কোটাক অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের ফান্ড ম্যানেজার অর্জুন খান্না জানান, গত কয়েক বছরে শেয়ার বাজার, মিউচুয়াল ফান্ডের জগতে এআই মডেলের ব্যবহার বিনিয়োগকে আরও বেশি সুস্থির করেছে, রিটার্নের পরিমাণ আরও বেশি নিশ্চিত করেছে। বিনিয়োগ এখন অনেক বেশি প্রযুক্তি ও এআই নির্ভর। এজেন্টিক এআই-এর ব্যবহার ইনভেস্টমেন্ট জগতকে আমূল বদলে দিচ্ছে।
অঞ্জলি ইনভেস্টমেন্টসের কর্ণধার, লগ্নি বিশেষজ্ঞ সজল রায়ের ডাকে বিনিয়োগ সচেতনতা সামিটে বক্তব্য রাখেন এবিএসএল এএমসি লিমিটেডের ইক্যুইটি বিশেষজ্ঞ হরিশ কৃযাণ, বন্ধন এএমসির হেড-প্রোডাক্ট ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড সট্র্যাটেজি শীর্ষেন্দু বসু ও লিডারশিপ ট্রেনার-স্পিরিচুয়ালিস্ট ঋষি নন্দা।
সজল রায় বলেন, “পোর্টফোলিওয় শুধু সোনা-রুপো অথবা ভারতীয় শেয়ারবাজারে সম্পদকে না রেখে সুকৌশলে আন্তর্জাতিক বাজারেও বিভিন্ন ক্ষেত্রে বণ্টন করে রাখতে হবে। আমাদের ভূমিকা কখনওই শুধু আর্থিক ফান্ডের সুপারিশ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। আমাদের লক্ষ্য আপনার পরিবারকে সেই সময়েও স্থির থাকতে সাহায্য করা যখন চারপাশের খবরের হেডলাইন খুব বেশি বিভ্রান্তিকর। বিভিন্ন দেশ যখন নানা কারণে অস্থির, মার্কেট যখন ওঠানামা করছে তখন ভারতের প্রকৃত সুযোগগুলিকে আলাদা করে চিনিয়ে দেওয়া আমাদের মিশনের অন্যতম অংশ।”
এই বক্তব্য সমর্থন করে বন্ধনের শীর্ষেন্দু বসু বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতিতে পোর্টফোলিওয়ে ইন্টারন্যাশনাল ডাইভারসিফিকেশন জরুরি। তবে পোর্টফোলিও থেকে কত শতাংশ রিটার্ন পাবেন, তা কোন সময় মার্কেটে বিনিয়োগ করলেন বা টাকা তুলে নিলেন, তার উপর নির্ভরশীল নয়, বরং কতদিন ধরে মার্কেটে ধারাবাহিকভাবে বিনিয়োগ করে চলেছেন সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা কেউ আগাম বলতে পারব না আগামী বছর কোন সেক্টর দারুণ ভাল করবে। তাই সোনা, ডোমেস্টিক ইক্যুইটি, ইন্টারন্যারশনাল ইক্যুইটি, ফিক্সড ইনকামের মতো সেক্টরগুলিতে বুঝে শুনে সম্পদ বণ্টন করে রাখতে হবে।”
মহাভারতের কাহিনী টেনে বিনিয়োগকারীদের অর্জুনের মতো নিজ লক্ষ্যে স্থির থাকার বার্তা দিলেন স্পিরিচুয়ালিস্ট ঋষি নন্দাও। তাঁর দাবি, বিনিয়োগ মার্কেটে সফল হতে হলে ধৈর্য্যশালী হতেই হবে।
সর্বশেষ খবর
-
ফরেস্ট রেঞ্জার-গার্ডদের বেতনবৃদ্ধি, ‘গাছ লাগিয়ে ছবি দিলেই হবে না’, সবুজায়নে কড়া শুভেন্দু
-
বাংলাদেশেই সম্ভব! খাসির মাংস না পেয়ে বিয়ে না করেই চলে গেলেন প্রবাসী পাত্র
-
দেশের ১৪ মুখ্যমন্ত্রী, ৩২৬ সাংসদ ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত! সুপ্রিম কোর্টে রিপোর্ট পেশ
-
অন্নপূর্ণার টাকা পাননি? নাম বাদ যাওয়ার কারণ জানুন এই পদ্ধতিতে, রইল ফের আবেদনের পদ্ধতিও
-
এসিএল ২-তে ‘শক্ত’ গ্রুপে ইস্টবেঙ্গল! প্রতিপক্ষ কেমন? কোন কোন দেশে যেতে হবে?