আজকের দিনে দাঁড়িয়ে অ্যাসেট অ্যালোকেশন করা অত্যন্ত প্রয়োজন। বাজারের ওঠাপড়া থাকবেও। কিন্তু টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যেও যদি সঠিক অ্যাসেট অ্যালোকেশন করা থাকে এবং সময়ে সময়ে তার প্রতি আপনার নিষ্ঠা বজায় থাকে, তাহলে ঝুঁকির দিনেও আপনি থাকবেন সুরক্ষিত, নিশ্চিন্ত। কলমে দীপককুমার দাস
গত ২০২০ সালের মার্চ মাসের কথা মনে করুন। মার্কেটে ছিল অশান্তির চিহ্ন, সামগ্রিকভাবে স্টকের ভ্যালুয়েশন পড়ে গিয়েছিল। তার দশ মাস বাদে, ছবিটা বদলে গিয়েছিল অনেকটাই। আর্থিক ক্ষেত্রে ‘লস রিকভারি’, এবং কয়েকটি বিষয়ে নতুন ‘হাই’, এই দু’টিই ছিল আমাদের প্রাপ্তি। তবে লগ্নির জগতে অন্যতম বড় অসুবিধাটি থেকেই গিয়েছে-যে বিনিয়োগকারীরা আগে ‘র্যালি’-র সুবিধা পেয়েছেন, তাঁরাই মার্কেটে গতি পরিবর্তনের জন্য ঝামেলায় পড়বেন। আর এখানেই আসে অ্যাসেট অ্যালোকেশনের কথা।
যদি আপনার সঠিক অ্যাসেট অ্যালোকেশন করা থাকে এবং আপনি যদি তার প্রতি নিষ্ঠাবান হন, তাহলে আপনার দিনগুলি নির্বিঘ্নে কাটবে। বিভিন্ন অ্যাসেট ক্লাসগুলি যেভাবেই ওঠাপড়া করুক না কেন, আপনার সার্বিক বিনিয়োগের পদ্ধতি যথার্থ থাকার ফলে অসুবিধা হয় না। পোর্টফোলিওর সামগ্রিক ভ্যালুর উপর অতি-প্রবল আঘাত আসবে না।
কেন অ্যাসেট অ্যালোকেশন করা প্রয়োজন?
অ্যাসেট অ্যালোকেশনের মূল উদ্দেশ্য হল-রিটার্নের ভোলাটিলিটি কমিয়ে আনা। জানেনই তো, সব শ্রেণির অ্যাসেট একইভাবে সব সময় বাড়ে-কমে না। স্টক বা ইকুইটির প্রতিক্রিয়ার সঙ্গে ডেট বা ফিক্সড ইনকামের প্রতিক্রিয়া মেলানো যায় না। সাধারণত অর্থনীতিতে যখন ‘এক্সপ্যানশনারি’ ট্রেন্ড চলছে অর্থাৎ সুদের হার কম, মানি সাপ্লাই অঢেল এবং চাহিদা প্রচুর, তখন ইকুইটি মার্কেটে নিবেশ ভাল রিটার্ন দেয়। আবার অন্যদিকে গর্ভমেন্ট সিকিউরিটিস অথবা সরকারি ঋণপত্রের জন্য ‘কন্ট্রাকসন’ ট্রেন্ড অর্থাৎ বাড়তি সুদের হার, মানি সাপ্লাই কমে যাওয়া এবং ডিমান্ড কমে যাওয়া লাভজনক। সুতরাং বোঝা যাচ্ছে, একটি অ্যাসেট ক্লাস হয়তো খারাপ পারফরম্যান্স দেখাচ্ছে, কিন্তু অন্য অ্যাসেট ক্লাসের উন্নতি হচ্ছে। এই কারণেই যে নেগেটিভ ইমপ্যাক্ট হতে পারত আপনার পোর্টফোলিওর উপর, তা হচ্ছে না।
[আরও পড়ুন: আজকের সঞ্চয়ই ভবিষ্যতের ভরসা, বুঝতে হবে সেভিংস-এর গুরুত্ব]
এবার আসি অ্যাসেট অ্যালোকেশনের প্র্যাক্টিক্যাল দিকটিতে। বিভিন্ন অ্যাসেটে যথাযথ লগ্নি করার কথাটি বলতে সোজা হলেও আসলে তা নয়। সাধারণ বিনিয়োগকারীর জন্য তা এক ধরনের চ্যালেঞ্জ। তাই বিভিন্ন ফান্ড হাউসগুলি এই শ্রেণিতে মাল্টি অ্যাসেট অ্যালোকেশন স্কিম এনেছে, যেখানে একটি ফান্ডের মাধ্যমে তিনটি (বা তার বেশি) অ্যাসেট ক্লাসে বিনিয়োগ করা সম্ভব।
যেমন ধরুন ICICI Prudential Multi Asset Fund, যেটির পোর্টফোলিওতে পাবেন এই অ্যাসেটগুলি :
# ইকুইটি
# ডেট
# গোল্ড
# ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ট্রাস্ট
# রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টমেন্ট ট্রাস্ট
মার্কেটের পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এখানে ফান্ড ম্যানেজার অ্যাসেট অ্যালোকশনে ‘রিব্যালেন্সিং’-ও করেন। যে কোনও ইনভেস্টরের জন্য এই পদ্ধতি আদর্শ বলে গণ্য হতে পারে। উন্নতমানের রিস্ক অ্যাডজাস্টেড রিটার্ন এবং অপেক্ষাকৃত কম ভোলাটিলিটির জন্য এই ধরনের কৌশল খুব উপযোগী।
(লেখক মিউচুয়াল ফান্ড ডিস্ট্রিবিউটর)
[আরও পড়ুন: আজকের সঞ্চয়ই ভবিষ্যতের ভরসা, বুঝতে হবে সেভিংস-এর গুরুত্ব]
সর্বশেষ খবর
-
‘সরকারের সঙ্গে আলোচনা ব্যর্থ’, ‘৯৮ শতাংশ’-এর দাবি উড়িয়ে বিধানসভা অভিযানে ঝাড়খণ্ডের পড়ুয়ারা
-
‘অভিনেতা হিসেবেই অনন্তকাল থেকে যেতে চাই’, অনন্ত সিংহর বায়োপিক নিয়ে আড্ডায় জিৎ
-
প্রস্তুতি ম্যাচে ব্যাট করলেও সংশয় কাটল না, শ্রীলঙ্কায় প্রথম টেস্টে খেলবেন গিল? মুখ খুললেন কোচ
-
বিএসএফের বৈঠক নিষ্ফলা, এখনও বাংলাদেশে বন্দি ভারতীয় চাষি
-
বন্যায় কাঁদছে অসম! এখনও ক্ষতিগ্রস্ত লক্ষাধিক মানুষ, ১১ হাজার হেক্টর কৃষিজমি জলমগ্ন, মৃত ১০০