নির্বাচনের প্রচারে রণবীর থেকে আমির, আল্লু অর্জুন! ভোট এলেই ডিপ ফেকের কবলে মহাতারকারা
ভোটের বাজারে ডিপ ফেক ভিডিওর রমরমা এক চরম উদ্বেগের বিষয়। বলিউড অভিনেতাদের গোটা দেশ একডাকে চেনে। তারই ফায়দা তুলতে তাঁদেরও জড়িয়ে দেওয়া হয়।
২০২৪ সালে রণবীর সিংয়ের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল। সেখানে তাঁকে ক্ষমতাসীন সরকারের নিন্দা করতে দেখা গিয়েছিল সরবে! যা দেখে তাক লেগেছিল অনেকের। মানুষকে 'ন্যায়ের' জন্য ভোট দিতে বলেছিলেন 'ধুরন্ধর' অভিনেতা। লোকসভা নির্বাচন তখন দোরগোড়ায়। বিজেপি বিরোধী রণবীরকে দেখে অনেকেই ভেবেছিলেন, নায়ক বোধহয় বিরোধী শিবিরের সমর্থক।
আরও পড়ুন:
২০২৪ সালে আমির খানও বাদ পড়েননি ডিপ ফেকের চক্কর থেকে। একই ভাবে তাঁরও একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল। সেখানে নির্দিষ্ট একটি রাজনৈতিক দলের হয়ে প্রচার করতে দেখা যায় সুপারস্টারকে। ভিডিওটি ভাইরাল হতেই অনেকে সেটা বিশ্বাস করেও ফেলেন। আবার অনেকে ছিলেন সন্দিহান। কেননা এমন খুল্লমখুল্লা প্রচার আমিরের এতদিনের ভাবমূর্তির সঙ্গে যায় না।
পরে দেখা যায়, সত্যিই এটা ফেক ভিডিও। মুম্বই পুলিশ একটি এফআইআরও দায়ের করে অজ্ঞাতপরিচয়দের বিরুদ্ধে। ভারতীয় দণ্ড বিধির বহু ধারায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ৪১৯ (ছদ্মবেশ), ৪২০ (প্রতারণা) প্রভৃতি বহু ধারাই। আমিরের টিমের তরফে একটি বিবৃতিতে জানানো হয়, 'আমরা পরিষ্কার করে দিতে চাই ৩৫ বছরের কেরিয়ারে কোনও আমির কোনও রাজনৈতিক দলের হয়েই প্রচার করেননি।'
আরও পড়ুন:
একই ভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল অভিনেতা আশুতোষ রানার ভিডিও-ও। তিনিও নাকি নেমে পড়েছেন ভোটপ্রচারে! একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের হয়ে তাঁকে কথা বলতে দেখা যায়। বলাই বাহুল্য, সেটা ছিল ফেক ভিডিও। অভিনেতা এই ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তাঁকে বলতে শোনা যায়, ''আজ আপনার মুখে অন্য কারও মুখ বসিয়ে যে কেউ ভিডিও বানিয়ে দিতে পারে! আর তার ফলে আপনার চরিত্রহনন ঘটতেই পারে।''
'পুষ্পা' হয়ে যতই খলনায়কদের হেলায় উড়িয়ে দিন, প্রতারকদের কবল থেকে নিজেকে বাঁচাতে পারেননি সুপারস্টার আল্লু অর্জুনও। দাবি উঠেছিল, কংগ্রেসের হয়ে নাকি প্রচার শুরু করেছেন তিনি! এক্ষেত্রেও গুঞ্জনের উৎস ছিল একটি ভিডিও। যেখানে হুডখোলা গাড়িতে প্রচার সারতে দেখা গিয়েছিল তাঁদের। নেতার ভঙ্গিতে দেখা যায় আল্লু অর্জুনকে। পরে জানা যায়, এটা ২০২২ সালের ভিডিও। সেটাকেই কায়দা করে ভোটের বলে চালানো হচ্ছিল।
সব মিলিয়ে ভোটের বাজারে ডিপ ফেক ভিডিওর রমরমা এক চরম উদ্বেগের বিষয়। গত বছর বিহার নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশন সমস্ত রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও প্রচারকারীদের সতর্ক করে জানিয়েছিল ডিপফেক ভিডিও তৈরি করে বিকৃত তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকতে। প্রসঙ্গত, এর আগে বছরের শুরুতে দিল্লি বিধানসভা ভোটের আগেও একই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করতে দেখা গিয়েছিল কমিশনকে।