কলকাতা এবং কলকাতার ফুটবলপাগলদের প্রেমে পড়েছেন বিশ্বজয়ী গোলকিপার এমি মার্টিনেজ। কলকাতায় পা রাখা ইস্তক নানা অনুষ্ঠানে পৌঁছে গিয়েছেন তিনি। কিন্তু তা সত্ত্বেও চোখেমুখে কোনও ক্লান্তি নেই তাঁর।
২৭
মঙ্গলবার দিনভর উত্তর থেকে দক্ষিণে ঘুরেছেন বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টাইন তারকা। বুধবারও সকাল থেকে শুরু হয়ে যায় তাঁর কর্মসূচি। ফুটবলপ্রেমীদের সঙ্গে আবেগে ভাসতে দেখা যায় তাঁকেও।
এদিন শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাবে দিয়েগো মারাদোনার মূর্তিতে মাল্যদান করেন তিনি। কলকাতার বুকে ফুটবলের রাজপুত্রের এহেন মূর্তি দেখে আপ্লুত মার্টিনেজ। তাঁর হাতে ছিল বিশ্বকাপের রেপ্লিকাও।
৪৭
মন্ত্রী সুজিত বসু আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন মার্টিনেজকে। তাঁর আমন্ত্রণে সাড়া দিয়েই পৌঁছে গিয়েছিলেন শ্রীভূমিতে। সেখানে অনুরাগীদের সঙ্গে নিজেই সেলফি তোলেন তারকা গোলকিপার।
৫৭
কাতার ফাইনালে পেনাল্টি শুটআউটে এই মার্টিজেনের হাতই আর্জেন্টিনার বিশ্বজয় নিশ্চিত করেছিল। সোনার গ্লাভসজয়ীকে একেবারে সেই ভূমিকাতেই দেখতে পেলেন শহরবাসী। তেকাঠির নিচে দাঁড়িয়ে আটকে দিলেন গোল।
শুধু তাই নয়, বিশ্বকাপ জয়ের পর সোনার গ্লাভস হাতে তাঁর যে পোজ দেওয়া নিয়ে তুমুল বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, সেই পোজও দিলেন মার্টিনেজ। অর্থাৎ কলকাতার সমর্থকদের জন্য রেখে গেলেন একরাশ স্মৃতি।
৭৭
লাগাতার অনুষ্ঠানে যোগ দিলেও বিন্দুমাত্র বিরক্ত কিংবা ক্লান্ত নন মার্টিনেজ। সেলফি তোলা থেকে বল ও জার্সিতে অটোগ্রাফ দেওয়া- সব আবদারই মেটালেন হাসি মুখে। সঙ্গে জানিয়ে গেলেন, আবার আসবেন কলকাতায়।
ভারতীয় ফুটবলের মক্কা কলকাতা। আর সেই কলকাতায় পা রেখে ফুটবলপ্রেমীদের উন্মাদনা দেখে উচ্ছ্বসিত বিশ্বজয়ী এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। মঙ্গলবারের মতোই বুধবারও শহরের বেশ কিছু জায়গায় যাবেন তিনি। যোগ দেবেন নানা অনুষ্ঠানে।
২৮
সোমবার সন্ধেয় কলকাতায় পৌঁছান আর্জেন্টাইন গোলকিপার। বিমানবন্দর থেকে বেরিয়েই জানিয়েছিলেন, অনেকদিন ধরেই ভারতে আসার স্বপ্ন ছিল। অবশেষে তা পূরণ হয়েছে। এরপর মঙ্গলবার সকাল থেকেই শুরু হয়ে যায় ব্যস্ততা। বাঙালি খাবার খেয়ে শুরু হয় তিলোত্তমা ভ্রমণ।
মিলন মেলা প্রাঙ্গণে 'তাহাদের কথা' অনুষ্ঠানে যোগ দেন মার্টিনেজ। যেখানে ইস্টবেঙ্গলের তরফে সংবর্ধনা জানানো হয় তাঁকে। দেওয়া হয় আজীবন সদস্যপদ। লাল-হলুদ সমর্থকদের মন রাখতে সে ক্লাবের জার্সিও গায়ে চাপান তিনি। যদিও সেই অনুষ্ঠান মঞ্চে দুই প্রধানের পুরনো লোগো অর্থাৎ এটিকে মোহনবাগান এবং এসসি ইস্টবেঙ্গল ব্যবহৃত হওয়ায় বিতর্কও দানা বাঁধে।
৪৮
বিকেলে মার্টিনেজ পৌঁছে গিয়েছিলেন মোহনবাগান মাঠে। তাঁকে দেখতে ভিড় জমিয়েছিলেন অনুরাগীরা। বিশ্বকাপে সোনার গ্লাভসজয়ী তারকাকে সবুজ-মেরুন তেকাঠির নিচে দেখে আবেগে ভাসতে থাকেন সমর্থকরা।
৫৮
গঙ্গাপারের ক্লাবে গিয়ে মোহনবাগান অল স্টার্স ম্যাচ দেখেন মার্টিনেজ। গায়ে চাপান সবুজ-মেরুন জার্সি। এমনকী ভারতের তেরঙ্গাও হাতে তুলে নেন তিনি। ফুটবল সমর্থকদের সঙ্গে এতটাই একাত্ব হয়ে গিয়েছিলেন যে আবারও এ শহরে ফিরবেন বলে কথা দেন। তাও আবার একা নন, মেসিকে সঙ্গে আনবেন বলে জানান মার্টিনেজ।
আজ, বুধবারও একাধিক অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন মার্টিনেজ। শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাবে মারাদোনার মূর্তিতে মাল্যদান করবেন তিনি। এরপর পৌঁছে যাবেন সন্তোষমিত্র স্কয়্যারের অনুষ্ঠানে।
৭৮
বিকেলের দিকে রিষড়া যাওয়ার কথা আর্জেন্টাইন গোলকিপারের। মার্টিনেজকে কলকাতায় আনার নেপথ্য নায়ক শতদ্রু দত্তের বন্ধু বিকাশ সিং ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন। তাঁর পরিবারকে সাহায্যের জন্যই নিয়ে সেখানে যাওয়ার কথা।
৮৮
সন্ধেয় আবার কলকাতায় বাইপাসের ধারের এক পাঁচতারা হোটেলে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন মার্টিনেজ। সবমিলিয়ে আজ দিনভর ব্যস্ততা তাঁর। তাই আপাতত আর্জেন্টাইন তারকায় বুঁদ কলকাতাও।