বিশ্বকাপে এশিয়ার ৯ সূর্য, ক্রমেই অন্ধকারের যাত্রী ভারত! একনজরে এশীয় দেশগুলির শক্তি-দুর্বলতা
লিওনেল মেসির একটা ঝলক দেখতে চেয়ে এদেশে কোটি কোটি টাকা খরচ হয়। কিন্তু সেই ভারতেই ফুটবলের বেহাল দশা।
এশীয় দেশগুলির মধ্যে জাপান ফিফা ক্রমতালিকায় সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে। ১৮ নম্বরে থাকা জাপানি স্কোয়াডের একাধিক ফুটবলার ইউরোপের নানা লিগে খেলেন। দলের রক্ষণও যথেষ্ট মজবুত, যোগ্যতা অর্জন পর্বে জাপান মাত্র তিন গোল খেয়েছে। তবে বিশ্বকাপের আগে চোট পেয়ে ছিটকে গিয়েছেন মিতোমার মতো স্ট্রাইকাররা। আক্রমণভাগের দুর্বলতাই জাপানিদের ভোগাবে বিশ্বকাপে। তবে প্রথম রাউন্ডের বেড়া পেরিয়ে যেতেই পারে জাপান।
আরও পড়ুন:
আমেরিকার সঙ্গে যুদ্ধের মধ্যেও মার্কিন মুলুকে বিশ্বকাপ খেলতে নামছে ইরান। ভিসা সমস্যা, খেলা নিয়ে দোলাচল, আর্থিক সংকটের মোকাবিলা করতে হচ্ছে মেহদি তারেমিদের। অত্যন্ত অভিজ্ঞ দল নিয়ে ইরান এবারের বিশ্বকাপে নামছে। মাঠের দুই ধার থেকে আক্রমণ শানাতে পারে তারা। তবে যুদ্ধের জেরে সাম্প্রতিক অতীতে প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল থেকে ইরানের খেলোয়াড়রা অনেকটাই দূরে। বিশ্বকাপে কঠিন প্রতিপক্ষদের সামলে পরের রাউন্ডে যাওয়টাই ইরানের চ্যালেঞ্জ।
২০০২ সালে চতুর্থ হওয়ার পর থেকে প্রত্যেকবছরই এশীয় ফুটবলপ্রেমীদের নজরে থাকে দক্ষিণ কোরিয়া। গত বিশ্বকাপে প্রিকোয়ার্টার পর্যন্ত ওঠা দলটির মূল শক্তি কাউন্টার অ্যাটাক। অধিনায়ক সন হিউং মিনের মতো বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় একাই ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারেন। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার অতিরিক্ত ব্যক্তি নির্ভরতাই সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে উঠতে পারে। অপেক্ষাকৃত সহজ গ্রুপে থাকায় পরের রাউন্ডে যেতে তাদের সেরকম সমস্যা হবে না।
এশীয় মহাদেশের প্রতিনিধি হিসাবে ফুটবল বিশ্বকাপ খেলে অস্ট্রেলিয়া। গতবার প্রিকোয়ার্টারে উঠে হইচই ফেলে দিয়েছিলেন জেসন কামিংসরা। এবার হেড কোচ টনি পোপোভিচের নজরদারিতে রক্ষণ শক্তিশালী করে নামছে অজি ব্রিগেড। তবে রাইলি ম্যাকগ্রির মতো আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডারের অভাব বোধ করবে অস্ট্রেলিয়া। স্ট্রাইকার না থাকার সমস্যাও রয়েছে। বিশ্বকাপে এবার বেশ সহজ গ্রুপে রয়েছে অজিরা। দ্বিতীয় রাউন্ডে যেতেই পারে তারা।
আরও পড়ুন:
প্রথমবার বিশ্বকাপের মঞ্চে খেলতে নামছে উজবেকিস্তান। দলের সবচেয়ে বড় ভরসা ম্যাঞ্চেস্টার সিটির ডিফেন্ডার আবদুকোদির। যোগ্যতা অর্জন পর্বে একটাও গোল খায়নি দলের শক্তিশালী রক্ষণ। যুব ফুটবলে সম্প্রতি বেশ সাফল্য পেয়েছে উজবেকিস্তান, সেই ফুটবলাররাও কয়েকজন রয়েছেন বিশ্বকাপ স্কোয়াডে। দলে আক্রমণভাগ সেরকম শক্তিশালী নয়। বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতাও নেই উজবেকিস্তানের। গ্রুপ পর্বের বেড়া টপকানোই তাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
৪০ বছর পর ফের বিশ্বকাপে খেলছে ইরাক। দলে সেঅর্থে কোনও তারকা নেই, সেটাই ইরাকের সবচেয়ে বড় শক্তি। একেবারে চাপমুক্ত হয়ে খেলতে পারবে তারা। কিন্তু বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ফ্রান্স-নরওয়ের মতো প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ইরাকের সাফল্য পাওয়া খুবই কঠিন। ইরাকের লিগের গুণমান ইউরোপীয় প্রতিযোগিতাগুলির থেকে অনেকটাই কম। এছাড়াও কাতার, সৌদি আরব, জর্ডান খেলবে এবারের বিশ্বকাপে। ২০৩৪ বিশ্বকাপ আয়োজনের দায়িত্ব পেয়েছে সৌদি আরব।
বিশ্বকাপের উজ্জ্বল আলোর মধ্যে ভারত পড়ে অন্ধকারে। সম্প্রতি এএফসি জানিয়েছে, ভারতের লিগ চ্যাম্পিয়নরা খেলবে তৃতীয় টিয়ারে। বিশ্বকাপের আগে প্রকাশিত ক্রমতালিকায় ব্লু টাইগার্স নেমে গিয়েছে তিন ধাপ। তাজিকিস্তানের মতো প্রতিপক্ষকেও ভয় পাচ্ছে ভারত। ১৪০ কোটির দেশে ফুটবল নিয়ে প্রবল উৎসাহ রয়েছে। কিন্তু খেলার দুর্দশা এখনও অব্যাহত। অন্ধকার কেটে ভারতীয় ফুটবলে সূর্যোদয় আসবে কবে?