ডায়বেটিস আতঙ্কে বন্ধ মিষ্টির পাট? এই ৪ হেলদি ডেজার্ট খেলেও কমবে রক্তশর্করা!
ডায়বেটিক রোগীর কাছে স্বাস্থ্যকর মিষ্টিমুখের গুরুত্ব অপরিসীম। যে মানুষ চেয়েও এমন কিছু খেতে পারছে না, জীবনের বেশিরভাগটাই ভরে গিয়েছে ওষুধ আর ঘন ঘন ইনসুলিন ইনজেকশনে, তার কাছে আশার আলো এই স্বাস্থ্যকর উপায়ে তৈরি ডেজার্ট।
খেজুর-বাদামের লাড্ডু – খেজুর এমনিতেই মিষ্টি। স্মুদি অথবা শেক-এ চিনি-গুড়ের জায়গায় খেজুর মেশানোর পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদরা। শুকনো খোলায় আমন্ড, কাজু ভেজে গুঁড়িয়ে নিন। একই খোলায় বীজ ছারানো খেজুর নেড়ে নিন নরম হওয়া পর্যন্ত। সবের একসঙ্গে চটকে মাখুন, ছিটিয়ে দিন দারুচিনি গুঁড়ো। হাতেই তৈরি করুন লাড্ডু। এতে প্রভূত পরিমাণে হেলদি ফ্যাট ও প্রোটিন থাকে, ফলে শরীরের পক্ষে অত্যন্ত উপযোগী।
আরও পড়ুন:
ডার্ক চকোলেট-পিনাট বাইট – ডার্ক চকোলেটের কয়েক টুকরো গলিয়ে নিন। মেশান আমন্ড অথবা কাঠবাদামের কুচি। চিনির কোনও প্রয়োজনই নেই! পার্চমেন্ট পেপার বিছিয়ে তাতে এই মিশ্রণ ঢেলে দিন কুকির আকারে। শুকিয়ে গেলেই মুখরোচক ‘বাইট’ তৈরি। ডার্ক চকোলেট অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর। কর্মশক্তি পাওয়া যায় এতে। বাদামে আবার রয়েছে পর্যাপ্ত ফ্যাট ও প্রোটিন। ফলের শরীরের মিষ্টি খাওয়ার চাহিদা পূরণ হয়।
গাজর-নারকেলের হালুয়া – গাজরে থাকে প্রাকৃতিক মিষ্টত্ব, ফলে হালুয়া তৈরির জন্য এর চাইতে ভালো উপাদান হতেই পারে না। দুটো গাজর ঘষে নিয়ে, সৌতে করে নিতে হয় ঘিয়ে। অর্ধেক কাপ দুধ ঢেলে, সমস্তটা নাড়াতে হবে আলতো হাতে। ঘন হয়ে গেলে, ছড়িয়ে দেওয়া যায় নারকেলের কুচি, দারুচিনি পাউদার ও বাদামের কুচি। গাজরে থাকে বিটামিন এ, সি, পটাশিয়াম ও বিটা-ক্যারোটিন।
আপেলের ক্ষীর – খোসাসমেত আপেল ঘষে নিতে হবে। পাত্রে দুধ গরম করে, এলাচ-দারুচিনি গুঁড়ো মিশিয়ে, এক পর্যায়ে মেশাতে হবে আপেলও। ঘন হয়ে এলে, নামিয়ে উপরে আমন্ড ও পেস্তা কুচি ছড়িয়ে দেওয়া যায়। আপেলে ‘পেকটিন’ নামের এক সল্যুবেল ফাইবার থাকে, যা রক্তে শর্করার প্রভাব নিয়ন্ত্রণ করে। তাছাড়া এতে গালিসেমিক ইনডেক্স একেবারেই কম। রয়েছে কোয়েরসেটিন ও ফ্লোরিজিনের মতো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। রক্তশর্করা নিয়ন্ত্রণে সবই কার্যকরী।
আরও পড়ুন:
ডায়বেটিক রোগীর কাছে এই স্বাস্থ্যকর মিষ্টিমুখের গুরুত্ব অপরিসীম। সুস্থ মানুষের কাছে এমনভাবে তৈরি মিষ্টি স্বাদের খাবার খানিক অদ্ভুত বলে মনে হলেও, যে মানুষ চেয়েও এমন কিছু খেতে পারছে না, যার জীবনের বেশিরভাগটাই ভরে গিয়েছে ওষুধ আর ঘন ঘন ইনসুলিন ইনজেকশনে, তার কাছে আশার আলো নিয়ে আসে এই স্বাস্থ্যকর উপায়ে তৈরি ডেজার্ট। ফিরিয়ে দেয় বাঁচার আনন্দ।