২২ হাজার কোটির ঋণ ‘মকুব’, অসাধ্যসাধন প্রাক্তন সাংসদের! একনজরে সুভাষের ভাঙাগড়ার কাহিনি
তাহলে কি অদূর ভবিষ্যতে বিজয় মালিয়াদের ঋণও এইভাবে মকুব হয়ে যাবে? আমজনতার মনে প্রশ্ন।
কে এই সুভাষ চন্দ্র? একটা সময় তিনি ছিলেন দেশের একেবারে প্রথম সারির ব্যবসায়ী। এসেল গ্রুপের অন্যতম শীর্ষ কর্তা ছিলেন। তারপর প্রতিষ্ঠা করেন জি মিডিয়া। দেশের মিডিয়া ব্যবসায় প্রথম সারিতে উঠে আসে সুভাষের জি গ্রুপ। সাফল্যের সঙ্গে সঙ্গেই বিপুল অঙ্কের ঋণ নিতে শুরু করেন সুভাষ। তবে নিজের নামে নয়, ঋণ নেওয়া হত মূলত এসেল গ্রুপের নামে। ঋণের গ্যারান্টর থাকতেন সুভাষ নিজেই।
আরও পড়ুন:
এইভাবেই এসেল গ্রুপের ঋণের পাহাড় জমতে থাকে। ব্যবসা বাড়ানোর কথা মাথায় রেখেই অধিকাংশ সময়ে ঋণ নেওয়া হয়েছিল। তারপর নানা কারণে সেই ঋণ শোধ করতে পারেনি এসেল গ্রুপ। যাবতীয় ঋণ শোধের দায়ভার এসে পড়ে সুভাষের কাঁধে। ততদিনে সুভাষের সাম্রাজ্য অতীত। লোকসানের ঠেলায় পড়ে প্রায় কপর্দকশূন্য অবস্থা তাঁর। ঠিক সেসময়েই ঋণ ফেরতের জন্য একের পর এক 'তাগাদা' মিলতে থাকে।
প্রাক্তন সাংসদ এই ইস্যুতে একেবারে হাত তুলে দেন। আদালতে জানিয়ে দেন, তিনি ওই বিপুল ঋণ শোধ করতে অপারগ। ব্যক্তিগত সম্পত্তি থেকে বড়জোর সাড়ে ৬ কোটি টাকা শোধ করার সামর্থ্য রয়েছে তাঁর। যা কিনা তাঁর মোট ঋণের ০.০৩ শতাংশ মাত্র। ২২,০০৬ কোটির ঋণ শোধে মাত্র সাড়ে ৬ কোটি টাকা? এহেন কাণ্ড মেনে নিতে পারেননি ঋণদাতাদের অনেকেই।
আসলে ন্যাশনাল কোম্পানি ল’ ট্রাইব্যুনালে বেশ কিছুদিন ধরেই সুভাষ চন্দ্রের রিপেমেন্ট প্ল্যান নিয়ে শুনানি চলছিল। সুভাষ চন্দ্র আদালতে জানিয়ে দিয়েছিলেন তিনি ওই বিপুল ঋণ শোধ করতে অপারগ। মোট ঋণের ০.০৩ শতাংশ মাত্র ফেরত দিতে পারবেন তিনি। এলআইসি হাউসিং ফাইনান্স, এইচডিএফসি, অ্যাক্সিস, কানাড়া ব্যাঙ্কের মতো ঋণদাতারা এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছিল। কিন্তু ৮০ শতাংশ ঋণদাতা মেনে নেয় এই প্রস্তাব।
আরও পড়ুন:
ঋণদাতাদের মতে, এই প্রস্তাব না মানলে যে নামমাত্র অর্থ উদ্ধার হচ্ছে, সেটাও উদ্ধার হত না। তাই প্রস্তাব মানা ছাড়া উপায় নেই। শেষপর্যন্ত সংখ্যাগরিষ্ঠ ঋণদাতার মত নিয়েই ন্যাশনাল কোম্পানি ল’ ট্রাইব্যুনাল সুভাষের প্রস্তাব মেনে নিয়েছে। হিসাব বলছে, এলআইসি হাউসিংয়ের কাছে ১৩২২ কোটি টাকা ঋণ ছিল সুভাষের। তার মধ্যে মাত্র ৩৯ লক্ষ টাকা ফেরত পাবে এলআইসি। সেই সিদ্ধান্ত মেনেও নিতে হবে তাদের।
যদিও সুভাষ বলছেন, ২২ হাজার কোটি নয় তাঁর ঋণের অঙ্কটা আসলে চার হাজার কোটির কাছাকাছি। তাঁর দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ৪৭ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হয়েছিল। একাধিক সংস্থা বিক্রি করে এবং অন্যান্য নানা উপায়ে সেই ঋণের প্রায় ৯০ শতাংশ শোধ করে দেওয়া হয়েছে ইতিমধ্যেই। বাকি চার হাজার কোটির ঋণ নিয়ে ন্যাশনাল কোম্পানি ল’ ট্রাইব্যুনাল হস্তক্ষেপ করেছে।
তাহলে কি অদূর ভবিষ্যতে বিজয় মালিয়াদের ঋণও এইভাবে মকুব হয়ে যাবে? আমজনতার মনে প্রশ্ন। তবে আর্থিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সেই সম্ভাবনা নেই। কারণ সুভাষের ঋণ ব্যক্তিগত কারণে নেওয়া হয়নি, তিনি ঋণগ্রহীতাও নন। গ্যারান্টর হিসাবে ঋণ শোধের চেষ্টা করছেন। এই একটা কারণেই বিজয় মালিয়ার ঋণ মকুব হবে না বলে মনে করছে বিশ্লেষকরা।