সুশান্ত মৃত্যু মামলার তদন্তকারী আইপিএস অফিসারকে রাষ্ট্রপতি পদক, চেনেন ‘লেডি সিংহম’ নুপূর প্রসাদকে?
৮০তম স্বাধীনতা দিবসে অনন্য সম্মান ‘মেডেল ফর মেরিটোরিয়াস সার্ভিস’-এ ভূষিত হলেন নুপূর প্রসাদ।
শনিবার ৮০ তম স্বাধীনতা দিবস। এই বিশেষ দিনেই 'মেডেল ফর মেরিটোরিয়াস সার্ভিস' (এমএসএম)-এর মতো অনন্য সম্মানে ভূষিত হলেন নুপূর প্রসাদ। সুপ্রিম নির্দেশে সুশান্তের মৃত্যুমামলার তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে যাওয়ার পর বিশেষ তদন্তকারী দলের অন্যতম প্রধান ভূমিকায় ছিলেন এই আইপিএস অফিসার। সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ, ফরেনসিক প্রমাণ সংগ্রহ থেকে মেডিক্যাল রেকর্ড পর্যালোচনার মতো বিবিধ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সম্পন্ন হয় নুপূরের তত্ত্বাবধানেই।
আরও পড়ুন:
২০২৫ সালে আদালতে জমা দেওয়া ক্লোজার রিপোর্ট সিবিআই জানায় অভিনেতার মৃত্যুর নেপথ্যে কোনও ষড়যন্ত্র বা প্ররোচনার প্রমাণ মেলেনি। এবার ৮০তম স্বাধীনতা দিবসে রাষ্ট্রপতি পদকে সম্মানিত হলেন নুপূর প্রসাদ। ২০০৭ সালের এজিএমইউটি ক্যাডারের এই পুলিশ আধিকারিকের কেরিয়ারে এটা গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। নুপূরের দীর্ঘ কর্মজীবনে দিল্লি পুলিশ, সিবিআই-এর মতো কেন্দ্রীয় সংস্থার কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। সম্প্রতি দিল্লি পুলিশে ফিরেছেন তিনি।
নুপূর প্রসাদ বর্তমানে অর্থনৈতিক অপরাধ শাখার যুগ্ম কমিশনার পদে কর্মরত। একসময়ে পশ্চিমবঙ্গ এবং অরুণাচল প্রদেশেও দাপিয়ে কাজ করেছেন এই মহিলা আইপিএস অফিসার। জানা যায়, সিবিআই-তে যোগ দেওয়ার আগে দিল্লি পুলিশের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকেছেন নূপুর। শাহদারা জেলার প্রথম ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ-ও (ডিসিপি) তিনিই। শাহদারায় মাদক চক্র এবং বেআইনি জুয়ার ব্যবসা রুখতে বেশ কয়েকটি বড় অভিযানও চালান নূপুর।
উত্তর দিল্লির ডিসিপি-র দায়িত্বেও ছিলেন নুপূর। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচন, লাল কেল্লায় স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানেও নিরাপত্তা ব্যবস্থার তদারকিতে ছিলেন এই পুলিশ আধিকারিক। নারী সুরক্ষা, স্বনির্ভরতা, যুব উন্নয়ন, সাইবার নিরাপত্তা ও মাদকবিরোধী প্রচারের মতো সামাজিক উদ্যোগেও অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন নুপূর প্রসাদ। তদন্ত প্রক্রিয়ায় ক্ষুরধার স্কিল, অপরাধ দমন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও প্রশাসনিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ শনিবার তাঁকে রাষ্ট্রপতি পদক ভূষিত করা হল।
আরও পড়ুন:
শুধু সুশান্ত সিং মামলাই নয়, সিবিআই-তে থাকাকালীন বিজয় মালিয়া ও অগাস্টাওয়েস্টল্যান্ড হেলিকপ্টার কেলেঙ্কারির মতো হাই-প্রোফাইল মামলার তদন্তের দায়িত্বেও ছিলেন এই নুপূর প্রসাদ। ব্যক্তিগতজীবনে আরেক পুলিশ আধিকারিককেই জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়েছেন তিনি। নুপূরের কথায়, একই পেশায় যুক্ত থাকায় কঠোর পরিস্থিতির সামাল দিতে বেশ সুবিধেই হয়।