ডাক্তারি ডিগ্রি থাকলেও প্যাশনকেই করেছেন পেশা, সিধু-পলাশের মতো এই তারকারাও চিকিৎসক!
সিনেজগতে খ্যাতি অর্জনের পাশাপাশি ডাক্তারি নিয়েও পড়াশোনা করেছেন। কারা রয়েছেন এই তালিকায়?
'সোচ', 'পহেলি', 'দে দনা দন'-এর মতো বহু হিন্দি ছবিতে অভিনয় করে নজর কেড়েছেন অদিতি গোবিত্রিকর। মরাঠি-তেলুগু ছবিতেও কাজ করেছেন। স্কুল শেষ করার পরই মুম্বইয়ের এক কলেজে এমবিবিএস করেন। এরপর মডেলিংয়ে হাতেখড়ি। সেখান থেকেই রুপোলি পর্দায় পদার্পণ অদিতির। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, ডাক্তারি পড়ার অভিজ্ঞতাই তাঁকে সুশৃঙ্খল হতে শিখিয়েছে। যা পরবর্তীতে অভিনয়-মডেলিং কেরিয়ারেও তাঁকে সাহায্য করেছে।
আরও পড়ুন:
'ইন্ডিয়ান আইডল'-এর সুবাদে গায়ক হিসেবে পরিচিতি পেলেও বর্তমানে সিনেমা, সিরিজেও দাপিয়ে কাজ করছেন মিয়াং চ্যাং। 'উলাঝ', 'মডার্ন লাভ মুম্বই' থেকে বাংলায় 'তারকাটা'তেও তিনি অভিনয় করেছেন। বেঙ্গালুরুর ভোক্কালিগারা সংঘ ডেন্টাল কলেজ থেকে দন্তচিকিৎসা নিয়ে পড়াশোনা করেছেন মিয়াং। সঞ্চালনা, অভিনেতা হিসেবে খ্যাতি অর্জনের আগে দন্তচিকিৎসা পেশাতেও নিয়োজিত ছিলেন তিনি।
সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার বিজয়ী হয়ে প্রচারের আলোয় আসেন 'মিস ওয়ার্ল্ড' মানুষী চিল্লার। তারপর অভিনয়জগতে কেরিয়ার শুরু। প্রথম ছবিতেই অক্ষয় কুমারকে হিরো হিসেবে পান। তবে বলিউডের জমিতে নিজের পায়ের তলার মাটি শক্ত করতে না পারলেও মানুষী একসময়ে কার্ডিয়াক সার্জেন হওয়ার ইচ্ছেপ্রকাশ করেছিলেন। বলিপাড়া সূত্রে খবর, হরিয়ানার সোনিপাতের একটি কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেছেন মানুষী।
আরও পড়ুন:
যিনি জটিল অস্ত্রোপচার করেন, তিনি গানও বাঁধেন। সুদর্শন পলাশ সেন ছিলেন নয়ের দশকের হার্টথ্রব। দিল্লির সেন্ট কলম্বাস স্কুলে পড়ার সময় থেকেই পলাশ গান-অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তারপর তেগবাহাদুর হাসপাতাল থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি লাভ করেন। তাঁর দিল্লির বাড়িতেই স্টুডিও-ক্লিনিকের সহাবস্থান। কখনও তিনি রোগীপরীক্ষায় ব্যস্ত, আবার কখনও বা স্টুডিওতে মগ্ন নতুন সুরের খোঁজে। দুই পেশাই সমান্তরালে দিব্যি চালাচ্ছেন পলাশ।
দক্ষিণ সিনেইন্ডাস্ট্রির জনপ্রিয় মুখ হওয়ার পাশাপাশি শ্রীলীলা একজন চিকিৎসকও। অভিনয়ের পাশাপাশি সফল ডাক্তারি কেরিয়ার গড়তে সম্প্রতি ডিওয়াই পাতিল ইউনিভার্সিটি থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেছেন 'আশিকী ৩' নায়িকা। 'কিস', 'ধামাকা' এবং 'গুন্টুর কারাম'-এর মতো সিনেমায় নজর কাড়া অভিনেত্রী অভিনয় ও পড়াশোনা—উভয় ক্ষেত্রেই চমৎকার ব্যালেন্স করছেন।
জনপ্রিয় বাংলা ব্যান্ড 'ক্যাকটাস' খ্যাত সিধু, যার আসল নাম সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায়, পেশায় ছিলেন একজন চিকিৎসক। কলকাতার ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ থেকে ডাক্তারি পাশ করেন। একসময়ে পিজিটি চিকিৎসক হিসেবেও কর্মরত ছিলেন। তবে পারিবারিক প্রত্যাশা ও ডাক্তারির চেয়ে সঙ্গীতের প্রতি তাঁর অনুরাগ বেশি ছিল। সেই প্রেক্ষিতেই চিকিৎসাবিজ্ঞান চর্চা ছেড়ে সম্পূর্ণভাবে সঙ্গীতকেই পেশা হিসেবে বেছে নেন সিধু।
দক্ষিণী সিনেজগতের জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাই পল্লবী। চিকিৎসাবিদ্যা নিয়ে পড়াশোনা শেষ করার পর অভিনয়জগতে কেরিয়ার শুরু করেন। ২০১৬ সালে জর্জিয়ার তিবলিসি স্টেট মেডিকেল ইউনিভার্সিটি থেকে ডাক্তারি পড়াশোনা সাই পল্লবী। ২০২০ সালে ত্রিচিতে ‘ফরেন মেডিক্যাল গ্র্যাজুয়েট এগজামিনেশন' দিয়ে উত্তীর্ণ হন। তবে তিনি কখনও চিকিৎসা করেছেন বলে শোনা যায়নি। তবে পরবর্তীতে পুরোপুরি অভিনয় কেরিয়ারে মন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন আসন্ন 'রামায়ণ'-এর সীতা।