Advertisement
Advertisement
সুশান্ত সিং রাজপুত

সুশান্তের শেষ ইনস্টাগ্রাম পোস্টে মৃত মায়ের কথা, ফোনে বাবাকে বলেছিলেন ‘বাড়ি ফিরব’

সুশান্তের বাড়িতে তদন্তের জন্য পৌঁছেছে মুম্বই ক্রাইম ব্রাঞ্চ। দেখুন ফটোগ্যালারি।

'মাকে মিস করছি', শেষবার সোশ্যাল মিডিয়ায় ঠিক এই কথাটাই লিখেছিলেন সুশান্ত সিং রাজপুত।

মা মারা গিয়েছেন ২০০২ সালে। সেই শোক নিতে পারেননি সুশান্ত। তাই মা মারা যাওয়ার মাস ঘুরতে না ঘুরতেই পাটনা ছেড়ে দিল্লিতে চলে এসেছিলেন। মৃত্যুর দিন কয়েক আগেও মায়ের স্মরণে পোস্ট করেছেন। তিনি যে জীবনযুদ্ধে যুঝে চলেছেন, সেই পোস্টেই মিলেছে ইঙ্গিত।

দিন কয়েক আগে বাবা কৃষ্ণ কুমার সিংকে ফোন করে বলেন, "আমি পাটনা যাব খুব তাড়াতাড়ি। তোমাকে নিয়ে পাহাড়ে বেড়াতে যাব ভাবছি। আমরা দুজনে পাহাড়ি রাস্তায় হাঁটব, কেমন?" কিন্তু ঘরের ছেলে আর ঘরে ফিরলেন না। তার আগেই চিরনিদ্রায় চলে গেলেন।

ছেলে অবসাদে ভুগে গত ৬ মাস ধরে মুঠোমুঠো ডিপ্রেশনের ওষুধ খাচ্ছেন, বাবা তা ঘুণাক্ষরেও টের পাননি। কারণ, ওঁ তো এমনটাই। বাইরে হাসিখুশি, প্রাণোচ্ছ্বল। কিন্তু ভিতর থেকে খুব গুমরে থাকত। ইন্ট্রোভার্ট, যাকে বলে! ঘনিষ্ঠজনেরা এমনটাই বলতেন সুশান্তকে নিয়ে।

পাড়া-প্রতিবেশীদের কাছেও ছিলেন কাছের মানুষ। ওই একটা হাসিতেই সবাইকে আপন করে নিতে পারতেন। বলিউডে পা রাখার পর একবার এক অনুষ্ঠানে নিজের গ্রামে গিয়েছিলেন। একেবারে সাদামাটাভাবে সবার সঙ্গে মিশে গিয়ে প্লাস্টিকের টেবিল-চেয়ারে বসে শালপাতার থালায় পাত পেড়ে খেয়েছিলেন।

সম্প্রতি শোনা যায়, সুশান্তের প্রাক্তন প্রেমিকা অঙ্কিতা লোখান্ডে নাকি তাঁর ব্যক্তিগত সচিবের সঙ্গে চুপিসারেই বাগদান সেরেছেন। ২০১৬ সালেই যদিও অঙ্কিতা-সুশান্তের বিচ্ছেদ ঘটে, তবুও 'মণিকর্ণিকা' মুক্তির সময় থেকেই তাদের মধ্যেকার বরফ গলেছিল। কিন্তু শুধুমাত্রই 'বন্ধু' হিসেবে। রবিবার সকালে সংবাদ মাধ্যমের থেকে ফোনে খবরটা পেয়ে শুধু একটাই শব্দ বলেছেন অঙ্কিতা, "কী?" তারপরই ফোনটা রেখে দেন।

জীবনে একের পর এক সম্পর্ক ভেঙেছে সুশান্তের। অঙ্কিতার সঙ্গে দীর্ঘ ৮ বছরের সম্পর্কের বিচ্ছেদ ঘটিয়ে কৃতি শ্যাননের সঙ্গে প্রেম করেন। কিন্তু তাও বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। এরপরই বঙ্গললনা রিয়া চক্রবর্তীর সঙ্গে সুশান্তের সম্পর্কের গুঞ্জন শোনা যায় বলিপাড়ায়। শোনা যায়, রিয়াকে নাকি বিয়ের প্রস্তাবও দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু নিজে প্রতিষ্ঠিত অভিনেত্রী না হয়ে বিয়েতে নারাজ রিয়া। সুশান্তের মৃত্যুর পর এখনও অবধি মুখ খুলতে দেখা যায়নি তাঁকে।

নিজের জীবনের ৫০টি স্বপ্নের কথা একবার জানিয়েছিলেন সুশান্ত। মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মেধাবী ছাত্র চেয়েছিলেন নারীদের আত্মরক্ষার পাঠ দিতে। শুধু তাই নয়, পদার্থবিদ্যায় ন্যাশনাল অলিম্পিয়াড জয়ী এই ছাত্র ভবিষ্যতে ১০০ জন বাচ্চাকে NASA'তে পাঠানোর ইচ্ছেও প্রকাশ করেছিলেন।

সুশান্তের ২টো মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ আপাতত ফরেন্সিক টিমের কাছে। ইতিমধ্যেই সুশান্তের বাড়িতে তদন্তের জন্য পৌঁছেছে মুম্বই ক্রাইম ব্রাঞ্চ। অভিনেতার কাকার দাবি, "খুন করা হয়েছে সুশান্তকে"। বাড়ির পরিচারিকা এবং আবাসনের ম্যানেজার এবং সুশান্তের বন্ধুদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। গত ৬ মাস ধরে বান্দ্রার এই বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে সাড়ে ৪ লক্ষ টাকা ভাড়া দিয়ে থাকছিলেন সুশান্ত।