পছন্দ না হলেই উৎখাত, ছলে-বলে সরকার ফেলার ‘মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ’ বহুবার দেখেছে বিশ্ব
কখনও বন্দুকের নলে, তো কখনও কূটনীতির অঙ্কে আগ্রাসন চালিয়েছে আমেরিকা।
আজ থেকে ঠিক ৩৬ বছর আগে ১৯৮৯ সালে পানামায় সামরিক অভিযান চালিয়েছিল আমেরিকা। সেদিনও ছিল ৩ জানুয়ারি। মাদক পাচার, ভোটে কারচুপি, মার্কিন সেনা হত্যার অভিযোগ নোরিয়েগার সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে জর্জ বুশের প্রশাসন। সেই অভিযানের নাম ছিল 'অপারেশন জাস্ট কজ'। তবে অভিযানের মূল উদ্দেশ্য ছিল পানামা খালের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়া।
আরও পড়ুন:
১৯৫৪ সালে আমেরিকার শিকার হয় গুয়াতেমালা। গদি হারাতে হয় নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জেকব আরবেনজকে। তাঁর ভূমি সংস্কার নীতিতে সিঁদুরে মেঘ দেখছিল মার্কিন সংস্থা ‘ইউনাইটেড ফ্রুট কোম্পানি’। কারণ, দেশটির প্রায় ৪০ শতাংশ জমির মালিকানা ছিল সংস্থাটির হাতে। ফলে যা হওয়ার তাই হল। সমাজতন্ত্র রোখার নামে অপারেশন ‘পিবি সাকসেস’ শুরু করল সিআইএ। নকল অভ্যুত্থান ঘটিয়ে সরিয়ে দেওয়া হল আরবেনজকে। পরে আমেরিকা তাঁর পছন্দের নেতাকে এখানে ক্ষমতায় বসায়।
১৯৭৩ সালে চিলির প্রেসিডেন্ট সালভাদর এলান্দেকে ক্ষমতাচ্যুত করে আমেরিকার সিআইএ। কারণ চিলির তামা শিল্প এবং ব্যাংকগুলো জাতীয়করণ করেন সালভাদর। এতে চিলিতে থাকা মার্কিন সংস্থাগুলি ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে। তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন চিলিকে শেষ করে দেওয়ার হুমকি দেন। সামরিক অভ্যুত্থান ঘটিয়ে প্রেসিডেন্টের ভবনে হামলা চালানো হয়। সেখানেই মৃত্যু হয় সালভাদরের।
আরও পড়ুন:
২০০৩ সালে সরাসরি সামরিক অভিযানের মাধ্যমে ইরাকের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের সরকারকে উৎখাত করে আমেরিকা। এটি 'ইরাক যুদ্ধ' বা 'অপারেশন ইরাকি ফ্রিডম' নামে পরিচিত। আমেরিকা অভিযোগ তোলে ইরাকে সাদ্দাম পরমাণু অস্ত্র তৈরি করছে এবং আল-কায়দার মতো জঙ্গি গোষ্ঠীকে সহায়তা করছে। মার্কিন ও ব্রিটিশ বাহিনীর তীব্র আক্রমণের পর এক সুড়ঙ্গ থেকে সাদ্দামকে পাকড়াও করে মার্কিন সেনা। ৩০ ডিসেম্বর ফাঁসি দেওয়া হয় তাঁকে। যদিও দাবি করা হয়,...
২০১১ সালে লিবিয়ায় শাসক মুয়াম্মার গদ্দাফির পতন এবং তাঁকে হত্যার পেছনেও ছিল আমেরিকার নেতৃত্বাধীন ন্যাটো (NATO) জোট। ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে 'আরব বসন্তের' প্রভাবে লিবিয়ায় গদ্দাফিবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হলে তা দমনে কঠোর সামরিক শক্তি প্রয়োগ করেন গদ্দাফি। দেশটিতে শুরু হয় গৃহযুদ্ধ। সেই সময়ে সেখানকার নাগরিকদের রক্ষার কারণ দেখিয়ে হামলা চালায় ন্যাটো। যদিও দাবি করা হয় এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল লিবিয়ার বিশাল তেল সম্পদ এবং গদ্দাফির...