ভবানীপুরে হারেন না মমতা, দীপা থেকে রুদ্রনীল, তৃণমূলের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি ভোট কে পেয়েছেন?
পুনর্গঠনের পর থেকে তৃণমূল ভবানীপুরে হারেনি।
এমনিতে স্বাধীনতার পর থেকে এই ভবানীপুর কেন্দ্রে কংগ্রেসপন্থীদের দাপট দেখা গিয়েছে। একটা সময় এই কেন্দ্রে লড়তেন সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়। কংগ্রেসের টিকিটে তিনি যেমন এই কেন্দ্র থেকে জিতেছেন, তেমনই জিতেছেন নির্দল হিসাবেও। এই কেন্দ্র থেকেই কংগ্রেসের টিকিটে বিধায়ক হয়েছেন মীরা দত্তগুপ্ত, রথিন তালুকদাররা। মাঝে একবার শুধু বামেরা এই কেন্দ্র দখল করে।
আরও পড়ুন:
১৯৭২ সালে আসন পুনর্বিন্যাসের পর ভবানীপুর কেন্দ্রটি ভেঙে দেওয়া হয়। ২০১১ সালে ফের ওই কেন্দ্রটি পুনর্গঠিত হয়। তারপর থেকেই ভবানীপুরে দাপট দেখিয়ে আসেছে তৃণমূল। নির্বাচন উপনির্বাচন, সবেতেই শাসকদলের জয়। মজার কথা হল এই কেন্দ্রে বিরোধী শিবিরেরও একাধিক হেভিওয়েট প্রার্থী লড়েছেন। কিন্তু কেউই জেতেননি। বাম-কংগ্রেস-বিজেপি সব দলই লড়াই করেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। সকলেই ব্যর্থ।
২০১১ সালে যখন রাজ্যে পরিবর্তনের হাওয়া, সেসময় দক্ষিণ কলকাতার ওই কেন্দ্রেটিতে তৃণমূলের প্রার্থী ছিলেন তৃণমূলের বর্তমান রাজ্য সভাপতি তথা মমতার বিশ্বস্ত সঙ্গী সুব্রত বক্সি। সেবার ৬৪ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন তিনি। দ্বিতীয় হয়ে ৩৭ হাজার ৯৬৭ ভোট পান সিপিএমের নারায়ণ জৈন। বিজেপি প্রার্থী সেবার পান ৫ হাজার ভোট। প্রায় ৫০ হাজার ভোটে জেতেন বক্সি।
আরও পড়ুন:
পাঁচ বছর বাদে ফের মমতাকে কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলতে চেয়েছিল বিরোধী শিবির। সেবার রাজ্যে প্রথম বাম-কংগ্রেস জোট হয়। তখনও বঙ্গে বিজেপির এভাবে উত্থান হয়নি। এবার মমতার বিরুদ্ধে জোটের তরফে প্রার্থী করা হয় কংগ্রেসের হেভিওয়েট প্রার্থী দীপা দাশমুন্সীকে। 'দিদি' বনাম বৌদি এই প্রচারও করা হয়। বাম ও কংগ্রেস জোট রীতিমতো মমতাকে নিজের কেন্দ্রে বেঁধে ফেলার ছক কষেছিল। প্রচারেও কোনও খামতি রাখা হয়নি।
কিন্তু ভোটের ফল প্রকাশের পর দেখা গেল মমতাকে জিততে কোনওরকম বেগই পেতে হয়নি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পেয়েছেন ৬৫ হাজার ৫২০ ভোট। দীপা দাশমুন্সী পেয়েছেন ৪০ হাজার ২১৯ ভোট। সেবার বিজেপি মমতার বিরুদ্ধে নামিয়েছিল নেতাজি পরিবারের সদস্য চন্দ্রকুমার বোসকে। তিনি পান ২৬ হাজারের কিছু বেশি ভোট। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জেতেন ২৫ হাজারের ভোটে।
২০২১ বিধানসভায় রাজ্যে প্রকৃত অর্থে বিজেপির উত্থান। সেবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভবানীপুরে প্রার্থী হননি। প্রার্থী হন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। বিজেপির প্রার্থী ছিলেন চিত্রতারকা রুদ্রনীল ঘোষ। জোটের তরফে কংগ্রেসের প্রার্থী ছিলেন শাদাব খান। সেবারও বিজেপি কোনওরকম লড়াই দিতে পারেনি। তৃণমূল প্রার্থী জেতেন ২৮ হাজার ভোটে। সেবার রুদ্রনীল পান ৪৪ হাজার ৭৮৬ ভোট। সেটাই ভবানীপুরে কোনও বিরোধী প্রার্থীর পাওয়া সর্বাধিক ভোট।
কলকাতা পুরসভার ৬৩, ৭৭, ৭৪, ৭১, ৭০, ৭২, ৭৩, ৮২ ওয়ার্ড নিয়ে তৈরি ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্র। ভবানীপুরের ভোটিং ম্যাপ বলছে, ৪২ শতাংশ বাঙালি হিন্দু, ২৪ শতাংশ মুসলিম ও ৩৪ শতাংশ অবাঙালি হিন্দু। অর্থাত্ শুধু হিন্দু ভোট ধরলে, ৭৬ শতাংশ হিন্দু ভোট। মুসলমান ভোটার অনেকটাই কম। শুভেন্দু অধিকারী সেই অঙ্কেই এই কেন্দ্রে প্রার্থী হয়েছেন। তাঁর আশা, পুরোপুরি ধর্মীয় বিভাজনের মাধ্যমে এই কেন্দ্রে পদ্ম ফোটাবেন।
মমতার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের 'ছকে' কিছুটা হলেও বিজেপিকে সাহায্য করেছে এসআইআর। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পরে দেখা যাচ্ছে মাত্র ২৪ শতাংশ মুসলিম ভোটারের কেন্দ্র ভবানীপুরে বিবেচনাধীনের তালিকা চমকপ্রদ। দেখা যাচ্ছে, ওই কেন্দ্রের বিবেচনাধীন তালিকার ৫৬.৬৫ শতাংশই মুসলিম ভোটার। তাছাড়া ছোট্ট ওই কেন্দ্রে বাদও গিয়েছেন প্রায় ৪৫ হাজার ভোটার। বলা বাহুল্য ওই ভোটারদের মধ্যে একটা বড় অংশ সংখ্যালঘু।
কিন্তু যে অঙ্কটা বিজেপি বা কমিশন কেউই বুঝে উঠতে পারছে না, সেটা হল ভবানীপুরের মতো কেন্দ্রে আশানুরূপ ধর্মীয় বিভাজন সেভাবে কাজ করে না। এই কেন্দ্রে বহু ভোটার মধ্যবিত্ত বাঙালি। তারা আর যা-ই হোক বিজেপিকে কোনওকালে সমর্থন করেননি। তাছাড়া ওই কেন্দ্রের হিন্দিভাষী ভোটাররাও বরাবর মমতার সঙ্গে। মুখ্যমন্ত্রীর ওই এলাকার 'ঘরের মেয়ে'। তাছাড়া জিতলে নিশ্চিতভাবে মুখ্যমন্ত্রী হবেন তিনি, সেই ফ্যাক্টরও কাজ করবে মমতার পক্ষে। তাছাড়া সংখ্যালঘু ভোট...