৪ কার্তিক  ১৪২৬  মঙ্গলবার ২২ অক্টোবর ২০১৯ 

Menu Logo পুজো ২০১৯ মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও বাঁকা কথা ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

পুজো প্রায় এসেই গেল৷ পাড়ায় পাড়ায় পুজোর বাদ্যি বেজে গিয়েছে৷ সনাতন জৌলুস না হারিয়েও স্বমহিমায় রয়ে গিয়েছে বাড়ির পুজোর ঐতিহ্য৷ এমনই কিছু বাছাই করা প্রাচীন বাড়ির পুজোর সুলুকসন্ধান নিয়ে হাজির sangbadpratidin.in৷ আজ পড়ুন খড়দহের গোস্বামীপাড়ার নিত্যানন্দ মহাপ্রভুর স্মৃতিধন্য ‘মেজবাটি’র পুজো৷

শুভময় মণ্ডল: ৪৮৯ বছর আগে নিত্যানন্দ মহাপ্রভুর হাত ধরে এই পুজোর শুরু৷ বিগত পাঁচ শতকে জৌলুসে অল্প মরচে ধরলেও খড়দহের গোস্বামীপাড়ার ‘মেজবাটি’র শারদোৎসবে গরিমা এখনও কিন্তু অমলিন৷ ধারে-ভারে আজও একইরকম বাংলার প্রাচীন, ঐতিহ্যপূর্ণ এই বাড়ির পুজো৷

[আরও পড়ুন: পুজোয় মুসলিম কন্যাকে কুমারী রূপে আরাধনা, সম্প্রীতির নজির বাগুইআটির দত্ত পরিবারের]

এই পুজোর ঢাকে কাঠি পড়ে উলটো রথের দিন থেকেই৷ মা এখানে কাত্যায়নীরূপী দশভুজা৷ একচালায় অবস্থিত সম্পূর্ণ শোলার কারুকার্যে অলঙ্কৃত দেবী প্রতিমা৷ প্রতিমার দুপাশে লক্ষ্মী ও সরস্বতীর বদলে দুই সখী জয়া-বিজয়া৷ কার্তিক ও গণেশ অবশ্য স্বমহিমায় স-বাহন বিরাজমান৷ দূর্গার বাহনও বিচিত্রদর্শন৷ দেহ সিংহের মতো হলেও মুখমণ্ডল ঘোটকের৷ পুরাণে আছে, বৃন্দাবনে শিশু কৃষ্ণকে বধের জন্য কেশাসুরকে পাঠায় কংস৷ কেশাসুর ঘোটকের রূপধারণ করে কৃষ্ণকে বধের পরিকল্পনা করে৷ সেই কাহিনি অনুসারেই এই কাত্যায়নী-রূপী দূর্গা৷

ফাইল চিত্র

মহাষষ্ঠীর দিন বোধনের আগে মা দুর্গাকে এবাড়িতে সিংহাসনে তোলা হয়৷ কথিত আছে, নিত্যানন্দ মহাপ্রভু মাতৃ আরাধনার সময় এক মহিলার থেকে নবপত্রিকার থান অনুদান পেয়েছিলেন৷ তখন সধবার প্রতীক হিসাবে থানের উপর লম্বাভাবে সিঁদুরের দাগ কেটে দেওয়া হয়৷ বোধনের দিন নবপত্রিকাকে স্নান করিয়ে থান পড়ানোর পর লম্বাভাবে সিঁদুরদানের সেই প্রথা আজও প্রচলিত৷

[আরও পড়ুন: ফিকে আড়ম্বর, তবুও রীতি মেনেই দুলদুলি জমিদার বাড়িতে চলে দুর্গা আরাধনা]

কালের হাত ধরে নিত্যানন্দ মহাপ্রভুর পরিবার প্রসারিত হয়৷ সঙ্গে সঙ্গে পুজোর আয়োজনও এক থেকে বহু হয়৷ যেমন- কিশোর পরিবার, বিহারী, মাধব, লাল, কুমার, নন্দ, চাঁদ ও মোহন পরিবার৷ এই মোহন পরিবারেই বিশেষ ঘটা করে, মহাসাড়ম্বরে পুজো হয়৷ মহাপ্রভুর ১৪তম বংশধর তথা পরিবারের বয়োজেষ্ঠ্য সদস্য সমরেন্দ্রমোহন গোস্বামীর হাতে আজ এই পুজোর ভার৷ বাড়ির সদস্য তথা নিত্যানন্দ মহাপ্রভুর বংশধর সরোজেন্দ্রমোহন গোস্বামীর কথায়, “নিত্যানন্দ মহাপ্রভুর আশীর্বাদে চার শতক পরেও এই পুজোকে আমরা বাঁচিয়ে রাখতে পেরেছি৷”

সিঁদুরখেলার আনন্দে মশগুল গোটা গোস্বামী পরিবার। ফাইল ছবি

বিশ্বকর্মা পুজোর পর দিন থেকেই মেজবাটির শ-খানেক সদস্যদের মধ্যে উৎসবের চেনা আমেজ চলে আসে৷ আর পাঁচটা পুজো বাড়ির মতোই এখানে মহালয়া থেকে বিজয়া দশমী আনন্দে মেতে ওঠে আট থেকে আশি৷ দোসর হয় এলাকার সাধারণ মানুষও৷ বাড়িতে এখন সাজ-সাজ রব৷ মা আসছেন ধরায়৷ বরণ করতে হবে যে তাঁকে…

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং