দুর্গাপুজোর আর কিছুদিন। দেবীপক্ষ আবাহনে বাঙালির তোড়জোর শুরু। ঘরের মেয়ে উমাকে আদর করে ডেকে আনতে কাল বিলম্ব করতে নারাজ বাঙালি। বাংলার ঘরে ঘরে তাই শারদীয়ার প্রস্তুতিও তুঙ্গে। আর ঠিক সেই সময়েই ধর্মীয় অনুশাসনের এক তপ্ত বাতাস আছড়ে পড়ল বাংলার উঠোনে। দূর প্রদেশের এক ধর্মগুরু দিলেন ফতোয়া। কটাক্ষ করলেন বাঙালিকে। দুর্গাপুজোয় মাছ-মাংস খাওয়া বাঙালি নাকি ‘পাখণ্ডী’ (পাষণ্ড)! এমনকী হিন্দুধর্ম থেকে সেইসব আমিষভোজীকে বহিষ্কারের হাঁকডাকও উঠল।
আজ্ঞে হ্যাঁ, হাওড়ার লিলুয়ায় ‘হনুমান কথা’র আসরে এমনটাই হুঁশিয়ারি দিলেন বাগেশ্বরধামের ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী। মধ্যপ্রদেশের এই সন্ত বাঙালিকে আমিষ খাওয়া নিয়ে শেখালেন নয়া পাঠ। কিন্তু উৎসবের আনন্দধারায় কি সত্যিই খাদ্যাভ্যাস কোনও প্রাচীর তুলতে পারে? শাস্ত্রের অনুশাসন আর ভক্তের অন্তরের ভক্তির মাঝে খাদ্যের অবস্থান ঠিক কোথায়? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে বাঙালিকে নতুন করে আর ব্যাকরণ শিখতে হয় না। বাঙালির ইষ্টত্রয়ী—শ্রীরামকৃষ্ণ, শ্রীমা সারদা ও স্বামী বিবেকানন্দ বহু আগেই নির্দেশ করে গেছেন সাধনার আসল মার্গ।
আরও পড়ুন:
ধর্মের বাহ্যিক আচার অপেক্ষা মনের শুদ্ধতাই যে পরম সত্য, তা বারবার উচ্চারিত হয়েছে রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের মুখে। তিনি আচারসর্বস্ব গোঁড়ামিকে কখনও প্রশ্রয় দেননি। সাধনার ক্ষেত্রে ভক্তি ও অনুরাগকেই তিনি আগে স্থান দিয়েছেন। তাঁর স্পষ্ট দর্শন ছিল, পাকস্থলীর খাদ্য দিয়ে অন্তরের ভক্তি বিচার করা যায় না। শ্রীরামকৃষ্ণ বলতেন, যে হিংসে করে না, তার পেটে খাসির মাংস থাকলেও সে ভক্ত; আর যে মুখে ধর্ম কথা বলে কিন্তু মনে হিংসা রাখে, সে নিরামিষ খেলেও অসাধু।

ধর্মের বাহ্যিক আচার অপেক্ষা মনের শুদ্ধতাই যে পরম সত্য, তা বারবার উচ্চারিত হয়েছে রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের মুখে। তিনি আচারসর্বস্ব গোঁড়ামিকে কখনও প্রশ্রয় দেননি। সাধনার ক্ষেত্রে ভক্তি ও অনুরাগকেই তিনি আগে স্থান দিয়েছেন। তাঁর স্পষ্ট দর্শন ছিল, পাকস্থলীর খাদ্য দিয়ে অন্তরের ভক্তি বিচার করা যায় না। শ্রীরামকৃষ্ণ বলতেন, যে হিংসে করে না, তার পেটে খাসির মাংস থাকলেও সে ভক্ত; আর যে মুখে ধর্ম কথা বলে কিন্তু মনে হিংসা রাখে, সে নিরামিষ খেলেও অসাধু।

একই উদারতার স্নিগ্ধ আলো মেলে ধরেছেন শ্রীশ্রী সারদা দেবী। পরম মায়ের স্নেহে তিনি ভক্তদের কোনও কড়া নিয়মের শৃঙ্খলে বাঁধেননি কখনও। দেবীর প্রসাদী মাছ বা পুজোর বলিপ্রথার মাংস গ্রহণে তিনি কোনও পাপ দেখেননি। তাঁর মতে, মাছ-মাংস খাওয়ায় কোনও দোষ নেই। মন পরিষ্কার রাখাই আসল। ঠাকুর (শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ) কি কারো খাওয়া নিয়ে কড়াকড়ি করেছেন? তিনি তো বলতেন, ‘যা খাবি খা, কেবল ঈশ্বরকে ভুলিস নি।’
হৃদয়ে ঈশ্বরভক্তি থাকলে ভক্তের আহারে কোনও দোষ স্পর্শ করে না।
অন্যদিকে, স্বামী বিবেকানন্দ বিষয়টিকে ব্যাখ্যা করেছেন আরও বাস্তবসম্মত ভাবে। ভারতবর্ষের মানুষের অলসতা ও তামসিক ভাব দূর করার জন্য তিনি রাজসিক আহারের গুরুত্ব অনুধাবন করেছিলেন। ‘ভাববার কথা’ ও ‘স্বামী-শিষ্য-সংবাদ’ গ্রন্থে তিনি স্পষ্ট উল্লেখ করেছেন যে, রজোগুণের বিকাশের জন্য আমিষ আহার অত্যন্ত উপযোগী। শক্তির উপাসনায় ও বলিকৃত মাংস গ্রহণে কোনও অধর্ম নেই। বরং তা জাতীয় জীবনে শক্তি সঞ্চারেরই মাধ্যম। স্বামীজির কথায়, রজোগুণ বাড়াতে হলে আমিষ আহার প্রয়োজন… ছাগল-ভেড়ার মাংস, মাছ খাওয়া দোষের নয়। বিশেষতঃ বলিপ্রথা ও পুজোয় বলিকৃত মাংস গ্রহণ করার যে প্রথা আমাদের দেশে রয়েছে, তা শক্তি সঞ্চারের জন্যই।

অন্যদিকে, স্বামী বিবেকানন্দ বিষয়টিকে ব্যাখ্যা করেছেন আরও বাস্তবসম্মত ভাবে। ভারতবর্ষের মানুষের অলসতা ও তামসিক ভাব দূর করার জন্য তিনি রাজসিক আহারের গুরুত্ব অনুধাবন করেছিলেন। ‘ভাববার কথা’ ও ‘স্বামী-শিষ্য-সংবাদ’ গ্রন্থে তিনি স্পষ্ট উল্লেখ করেছেন যে, রজোগুণের বিকাশের জন্য আমিষ আহার অত্যন্ত উপযোগী। শক্তির উপাসনায় ও বলিকৃত মাংস গ্রহণে কোনও অধর্ম নেই। বরং তা জাতীয় জীবনে শক্তি সঞ্চারেরই মাধ্যম। স্বামীজির কথায়, রজোগুণ বাড়াতে হলে আমিষ আহার প্রয়োজন… ছাগল-ভেড়ার মাংস, মাছ খাওয়া দোষের নয়। বিশেষতঃ বলিপ্রথা ও পুজোয় বলিকৃত মাংস গ্রহণ করার যে প্রথা আমাদের দেশে রয়েছে, তা শক্তি সঞ্চারের জন্যই।
কাজেই কৃচ্ছ্রসাধন বা খাদ্যতালিকার বাছবিচারে নয়, প্রকৃত ধর্ম বিরাজ করে অন্তরের স্বচ্ছতায়। বহিরাগত অনুশাসন দিয়ে বাঙালির এই চিরায়ত ভক্তিভাবকে পরিমাপ করা সম্ভব নয়।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
সারাক্ষণ ঝরছে চুল! দূষণ-স্ট্রেস নয়, রাতে শোয়ার এই ৬ ভুলই হতে পারে কারণ, কী করণীয়?
-
পেজেস্কিয়ানের সঙ্গে বৈঠক মোদির, হরমুজ প্রসঙ্গ উঠে এল প্রধানমন্ত্রীর মুখে!
-
ভেজাল খাবারের স্থায়ী সমাধান কোথায়? লাইসেন্স বাতিলেই কি সমস্যা মিটবে
-
ভরতকে সরিয়ে ক্যাপ্টেন সোহিনী! ‘ভিখিরি’ কটাক্ষ রাজবীর-নন্দিনীর, ‘বিগ বস’ দূর্গে হুলুস্থুল
-
ঘরের দরজা খোলা, মেঝেয় পড়ে দম্পতির রক্তাক্ত দেহ! খুন নাকি অন্য কিছু?