Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • রবিবার
  • ৭ জুন ২০২৬
Premanand Ji Maharaj

ভক্ত তালিকায় কোহলি-হেমা মালিনী! প্রেমানন্দ মহারাজের সন্ন্যাস গ্রহণের মুহূর্তও ছিল বিস্ময়ে ভরা

কেমন ছিল সেই মুহূর্ত?

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ৮, ২০২৫, ১৭:২৩

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ৮, ২০২৫, ১৭:২৩

options
link
ভক্ত তালিকায় কোহলি-হেমা মালিনী! প্রেমানন্দ মহারাজের সন্ন্যাস গ্রহণের মুহূর্তও ছিল বিস্ময়ে ভরা zoom

বিশ্বদীপ দে: বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়েছে কিশোর পুত্র। খুঁজতে বেরিয়েছিলেন বাবা। দিন তিনেক পরে সন্ধানও মিলল। কিন্তু ছোট্ট ছেলের মুখের কথা শুনে বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেলেন তিনি। জবাবে সেদিন কিশোর পুত্রকে তিনি যা বলেছিলেন, সেটাও কম বিস্ময়কর নয়। আজও যা ভুলতে পারেনি সেদিনের কিশোর। তিনি অবশ্য এখন পঞ্চাশোর্ধ্ব এক ধর্মগুরু। গোটা দেশ তাঁকে একডাকে চেনে প্রেমানন্দজি মহারাজ নামে। গত জানুয়ারিতে তাঁর সাক্ষাৎপ্রার্থী হয়েছিলেন এক তারকা দম্পতি। তাঁরা বিরুষ্কা। অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে টেস্ট সিরিজে বারবার অফস্টাম্পের বাইরের বল তাড়া করে আউট হয়ে অবসাদে ভুগতে থাকা ‘কিং’ কোহলি সেদিন শান্তির সন্ধানে এসেছিলেন এই মানুষটির কাছেই। কেবল কোহলিই নয়, হেমা মালিনী, রবি কিষেন, গ্রেট খালি, মোহন ভাগবত, বি প্রাক… প্রেমানন্দজির ভক্তকুলে রয়েছেন দেশের বিখ্যাত ব্যক্তিদের অনেকেই। কেমন ছিল তাঁর সন্ন্যাস গ্রহণের মুহূর্ত?

এবছরের শুরুতে মহারাজের সামনে দেখা যায় বিরাট কোহলি ও অনুষ্কা শর্মাকে। সঙ্গে তাঁদের দুই সন্তান অকায় ও ভামিকা। প্রেমানন্দ অনুষ্কাকে বলেছিলেন, ”আপনি ঈশ্বরের প্রতি এমন অনুগত! এর প্রভাব পড়বে ওঁর (বিরাট কোহলি) উপরেও।” সেই ভিডিও ভাইরাল হয়ে গিয়েছিল। আসলে নেট ভুবনেও প্রেমানন্দ মহারাজের জনপ্রিয়তা অবিশ্বাস্য। ইনস্টাগ্রামে প্রেমানন্দ মহারাজের ফলোয়ার ২২ মিলিয়নেরও বেশি! ইউটিউবে ১১.৯ মিলিয়ন। ফেসবুকে ১ মিলিয়ন। এই সংখ্যাগুলিই প্রমাণ করে দেয় তাঁর জনপ্রিয়তা কোন শৃঙ্গ ছুঁয়েছে। জেন জেডও তাঁর প্রতি নতজানু। কিন্তু আজ থেকে বহু বছর আগে, যখন তিনি কিশোর অবস্থায় ঘর ছেড়েছিলেন, ঠিক কেমন ছিল সেই সময়ের অভিজ্ঞতা?

Advertisement

১৯৬৯ সালে কানপুরের সারসৌলের এক ছোট্টগ্রামে জন্ম প্রেমানন্দ মহারাজের। ছোটবেলা থেকেই আধ্যাত্মিকতার প্রতি তাঁর টান। বাড়ির লোক হয়তো বুঝতেও পেরেছিলেন তা। আসলে পরিবারে তিনিই প্রথম আধ্যাত্মিকতায় বিভোর হচ্ছিলেন তা নয়। প্রেমানন্দের ঠাকুর্দাও সংসারের মায়ার বাঁধন ছিঁড়ে ফেলে ঈশ্বরের সন্ধানে জীবন অতিবাহিত করেছিলেন। গ্রহণ করেছিলেন সন্ন্যাস। নাতিও সেই পথেই হাঁটবে এতে আর আশ্চর্যের কী! কিশোর বয়সেই বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে পড়লেন তিনি। তারপরই ঘটল সেই আশ্চর্য ঘটনা।
নিজের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডল ‘ভজন মার্গ’-এ আধ্যাত্মিক গুরু নিজেই জানিয়েছে সেদিনের অভিজ্ঞতার কথা। সংসার ছাড়ার দিন তিনেকের মধ্যে বাবা শম্ভু পাণ্ডে খুঁজে বের করলেন ছেলেকে। ছোট্ট ছেলেটি ভয়ও পেয়ে গিয়েছিল। এবার নির্ঘাত বাবা প্রবল মারধর করবেন। কিন্তু তিনি তা করলেন না। বরং ছেলেকে শান্ত কণ্ঠে বাড়ি ফিরতে বললেন। জবাবে সেদিনের কিশোর ছেলেটি বলেছিল, ”আমার এই জীবন ঈশ্বরের প্রতি সমর্পিত। আমি বাড়িও যাব না, আপনার কথাও শুনব না।”

হয়তো ধারণা ছিল, এমন কথা শুনে কিশোর পুত্রের প্রতি প্রবল ক্ষোভ দেখাবেন তিনি। কিন্তু তেমন কিছু তিনি করলেন না। বরং জড়িয়ে ধরলেন ছেলেকে। তিনবার রামনাম জপ করলেন। তারপর আশীর্বাদ করে বললেন, ”যাও। যদি তুমি সন্ন্যাসী হয়ে যাও, সেক্ষেত্রে আমার এই আশীর্বাদ রইল যে খারাপ স্থানে থাকলেও তোমার উপর পুষ্পবৃষ্টি হবে। কেউ তোমার কোনও ক্ষতি করতে পারবে না।” তবে এও তিনি বলেছিলেন, ভবিষ্যতে যেন সন্ন্যাস গ্রহণের পর ব্রাহ্মচর্যের সঠিক ভাবে পালন করেন প্রেমানন্দ। বাবাকে সেদিন এই কথাই দিয়েছিলেন মহারাজ। আজও তিনি নতজানু নিজের জন্মদাতার প্রতি। সেদিন বাবার কথাগুলি তাঁর সামনে তৈরি করে দিয়েছিলেন ভালোবাসার অমল আলোয় ভরা এক পথ। যে পথে হেঁটে আধ্যাত্মিকতার মার্গে পরম সত্যের অনুসন্ধান করেছেন তিনি।

তখন তাঁর বয়স ১৩ বছর। সেই থেকে শুরু হয় আধ্যাত্মিকতার পথে হেঁটে চলা। সন্ন্যাস নেওয়ার পর নাম হয় আনন্দস্বরূপ ব্রহ্মচারী। দ্বিতীয় নাম স্বামী আনন্দাশ্রম। এই সময় বারাণসীতে গঙ্গাতীরে কেটেছে তাঁর জীবন। বৃন্দাবনে এক অশ্বত্থগাছের তলায় বসে শুরু হয় সাধনা। আজ তাঁকেই সকলে চেনে প্রেমানন্দ মহারাজ নামে। বর্ষীয়ান মানুষদের মতো আধুনিক প্রজন্মও তাঁর প্রতি ভক্তিতে অটুট। কোন রহস্যে প্রজন্মের পর প্রজন্ম এভাবে মুগ্ধ প্রেমানন্দে?

মনে করা হয়, এর পিছনে রয়েছে সমস্ত ধর্মের প্রতি তাঁর শ্রদ্ধাশীল মনোভাব। কখনওই অন্য ধর্মের মানুষকে ধর্মান্তরিত হয়ে হিন্দু হওয়ার আহ্বান জানান না তিনি। সকল ধর্মের প্রতিই সমান সম্মান প্রদর্শন করেন। আধুনিক পৃথিবীর বুকে তাই ক্রমবর্ধমান প্রেমানন্দ মহারাজের ভক্তসংখ্যা। আগামিদিনেও যে ক্রমেই তা একই গতিতে বেড়ে চলবে, সে ব্যাপারে নিশ্চিত সকলে।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.