বর্ষার প্রথম কদম ফুলের গন্ধের সঙ্গেই জড়িয়ে থাকে ভোলেবাবার আরাধনার সুবাস। আর মাত্র কিছু দিনের অপেক্ষা। তারপরেই শুরু হতে চলেছে মহাদেবের পরম প্রিয় শ্রাবণ মাস। হিন্দু ধর্মে এই গোটা মাসটি জুড়েই চলে কৃচ্ছ্রসাধন আর ভক্তিভরে শিবের উপাসনা। দেশের কোণায় কোণায় থাকা শৈবতীর্থগুলিতে এই সময়ে উপচে পড়ে ভক্তদের ভিড়। বাঁক কাঁধে দূর-দূরান্ত থেকে হেঁটে গিয়ে মহাদেবের মাথায় গঙ্গাজল ঢালবেন পুণ্যার্থীরা। এই চেনা দৃশ্য ফিরে আসছে কিছুদিনের মধ্যেই। ২০২৬ সালে এই পবিত্র মাসটি শুরু হচ্ছে আগামী ১৮ জুলাই থেকে, আর তা শেষ হবে ১৮ আগস্ট।

আরও পড়ুন:
সোমবারে বিশেষ যোগ
পৌরাণিক বিশ্বাস অনুযায়ী, শ্রাবণ মাসের প্রতি সোমবার ব্রত পালন করলে নাকি আশুতোষ অত্যন্ত প্রসন্ন হোন। এবছরের শ্রাবণ মাসটি ভক্তদের জন্য আরও বেশি মাহাত্ম্যপূর্ণ। কারণ, এবার গোটা মাসে মোট পাঁচটি সোমবারের এক দুর্লভ সংযোগ তৈরি হয়েছে। পঞ্জিকা অনুযায়ী দিনগুলি একনজরে দেখে নেওয়া যাক:
- প্রথম সোমবার: ২০ জুলাই (৩ শ্রাবণ)
- দ্বিতীয় সোমবার: ২৭ জুলাই (১০ শ্রাবণ)
- তৃতীয় সোমবার: ৩ আগস্ট (১৭ শ্রাবণ)
- চতুর্থ সোমবার: ১০ আগস্ট (২৪ শ্রাবণ)
- পঞ্চম সোমবার: ১৭ আগস্ট (৩১ শ্রাবণ)

কেন এই মাস মহাদেব-প্রিয়?
পুরাণ মতে, এই শ্রাবণেই ঘটেছিল ঐতিহাসিক সমুদ্র মন্থন। সেই মন্থন থেকে উঠে আসা ‘হলাহল’ বিষ পান করে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করেছিলেন স্বয়ং মহাদেব। বিষের তীব্র জ্বালায় তাঁর কণ্ঠ নীল হয়ে যায়। তিনি পরিচিত হন ‘নীলকণ্ঠ’ নামে। মনে করা হয়, সৃষ্টির রক্ষাকর্তার শরীরের সেই বিষের জ্বালা শান্ত করতে দেবী পার্বতী তাঁকে স্তনদুগ্ধ পান করিয়েছিলেন। এই বিশেষ ঘটনার জেরেই শ্রাবণ মাসে শিবের মাথায় দুধ বা গঙ্গাজল ঢেলে পুজো করার এক চিরন্তন রীতি চলে আসছে।

পুজো ও ব্রত পালনের বিধি
(১) শাস্ত্রীয় বিধান মেনে, শ্রাবণ মাসের সোমবারগুলোতে উপবাস রেখে পুজো করতে হয়। এমনকী এই বিশেষ দিনে সম্পূর্ণ নিরামিষ আহার গ্রহণ করাও শুভ।
(২) ‘শ্রাবণ’ শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে ‘শ্রবণ’ বা শোনার থেকে। তাই এই সময়ে ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক আলোচনা শ্রবন অত্যন্ত শুভ।
(৩) ভোলেনাথের আশীর্বাদ পেতে ‘ওঁ নমঃ শিবায়’ মন্ত্রটি গোটা শ্রাবণ মাস জুড়ে নিয়মিত জপ করুন।
(৪) প্রতিদিন শিব চালিশা পাঠ করা ও শিব পুরাণ পাঠ করলে অনেক পুণ্য লাভ হয়।
(৫) প্রতি সোমবার সকালে স্নান সেরে শিবস্তোত্র পাঠ করার নিধান রয়েছে শাস্ত্রে। মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র জপ করলে সুফল পাওয়া যায়।
(৬) মহাদেবকে তুষ্ট করতে ধুতুরা, আকন্দ, অপরাজিতা বা কলকে ফুল ব্যবহার করাই রীতি। তবে দেবাদিদেব সন্তুষ্ট হন সামান্য বেলপাতাতেই।
(৭) এছাড়াও, যাঁরা রুদ্রাক্ষ ধারণ বা স্ফটিকের শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করতে চান, তাঁদের জন্য এই শ্রাবণ সবচেয়ে প্রশস্ত সময়। গৃহীরা পরিবারের সুখ, সমৃদ্ধি এবং মধুর দাম্পত্য জীবনের আশায় এই ব্রত পালন করে থাকেন।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
হ্যাটট্রিকের হ্যাটট্রিক থেকে সর্বাধিক দর্শক, গ্রুপ পর্বেই ‘প্রথম সবকিছুর স্বাদ’ পেল বিশ্বকাপ
-
ভালোবাসার নামে অত্যাচার করেছে প্রাক্তন? ‘প্রেম’ বিতর্কের মাঝেই ‘টক্সিক’ শো আনছেন গৌরব!
-
মধ্যপ্রাচ্যে ধুন্ধুমার! মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে ইরানের হুমকি, ‘নরকযন্ত্রণা ভোগ করবেন’
-
শিয়ালদহ শাখার ৮টি স্টেশনে বন্ধ হচ্ছে রিজার্ভেশন কাউন্টার! তালিকায় কোন কোন স্টেশন?
-
‘তৃণমূলের এত দুর্নীতি সহ্য হচ্ছে না’, ক্ষোভ উগরে কংগ্রেসে গাজোলের পরাজিত প্রার্থী প্রসেনজিৎ