Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • রবিবার
  • ৭ জুন ২০২৬
Howrah

শতাব্দী পেরিয়েও অমলিন বাংলার একমাত্র সরস্বতী মন্দির, বছরের ৩৬৫ দিনই হয় আরাধনা

বাংলার প্রাচীনতম সরস্বতী মন্দির হিসেবে পরিচিত এই দেবালয়ে গত এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে চলে আসছে দেবীর নিত্যপূজা। এই মন্দিরের নেপথ্যে রয়েছে এক শিক্ষানুরাগী পিতার অপূর্ণ ইচ্ছার কাহিনি।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ২৩, ২০২৬, ১৪:০৬

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ২৩, ২০২৬, ১৪:০৬

options
link
শতাব্দী পেরিয়েও অমলিন বাংলার একমাত্র সরস্বতী মন্দির, বছরের ৩৬৫ দিনই হয় আরাধনা zoom
গত এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে এই মন্দিরে চলে আসছে দেবীর নিত্যপূজা

বসন্ত পঞ্চমীর সকালে বাংলার ঘরে ঘরে সরস্বতী বন্দনা নতুন কিছু নয়। কিন্তু বছরের ৩৬৫ দিন, ঘড়ির কাঁটা মেনে যেখানে বাগদেবীর আরাধনা হয়, সেই নজির বঙ্গে সত্যিই বিরল! হাওড়া জেলা স্কুলের প্রথম প্রধান শিক্ষক উমেশচন্দ্র দাসের বাসভবনে আজও অমলিন সেই ঐতিহ্য। বাংলার প্রাচীনতম সরস্বতী মন্দির হিসেবে পরিচিত এই দেবালয়ে গত এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে চলে আসছে দেবীর নিত্যপূজা।

বাংলার প্রাচীনতম সরস্বতী মন্দির হিসেবে পরিচিত এই দেবালয়

এই মন্দিরের নেপথ্যে রয়েছে এক শিক্ষানুরাগী পিতার অপূর্ণ ইচ্ছার কাহিনি। হাওড়া জেলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক উমেশচন্দ্র দাস স্বপ্ন দেখতেন, বিদ্যার দেবী কেবল বছরের একদিনের অতিথি হয়ে থাকবেন না; বরং গৃহকোণে তাঁর নিত্য উপস্থিতি থাকবে। নিজের চার পুত্রকে সেই ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন তিনি। যদিও জীবদ্দশায় সেই স্বপ্ন পূরণ দেখে যেতে পারেননি।

Advertisement

পিতার সেই ইচ্ছাকে মর্যাদা দিতে উদ্যোগী হন তাঁর পুত্র রণেশচন্দ্র দাস। ১৯১৯ সালে রাজস্থান থেকে শ্বেতপাথরের এক অপরূপ সরস্বতী মূর্তি নিয়ে আসেন তিনি। ১৯২৩ সালের স্নানযাত্রার পুণ্য তিথিতে প্রথা মেনে মন্দিরে দেবীর প্রাণপ্রতিষ্ঠা করা হয়। সেই থেকেই শুরু।

১৯১৯ সালে রাজস্থান থেকে শ্বেতপাথরের এই অপরূপ সরস্বতী মূর্তি নিয়ে আসেন পুত্র রণেশচন্দ্র দাস

পিতার সেই ইচ্ছাকে মর্যাদা দিতে উদ্যোগী হন তাঁর পুত্র রণেশচন্দ্র দাস। ১৯১৯ সালে রাজস্থান থেকে শ্বেতপাথরের এক অপরূপ সরস্বতী মূর্তি নিয়ে আসেন তিনি। ১৯২৩ সালের স্নানযাত্রার পুণ্য তিথিতে প্রথা মেনে মন্দিরে দেবীর প্রাণপ্রতিষ্ঠা করা হয়। সেই থেকেই শুরু। আজ ১০২ বছর অতিক্রান্ত, কিন্তু একদিনের জন্যও বিরাম পড়েনি দেবীর নিত্য পূজায়।

একেবারে সাবেক বাড়ির দালানে গড়ে তোলা হয়েছে এই মন্দির। দেবীর মূর্তিটি ধবধবে সাদা মার্বেলের, যা রাজস্থানি ঘরানার সূক্ষ্ম কারুকার্যে মণ্ডিত। সাধারণত বাংলার মাটির মূর্তিতে যে রূপ দেখা যায়, তার থেকে এই বিগ্রহ কিছুটা আলাদা এবং গাম্ভীর্যপূর্ণ। পরিবারের সদস্যরা জানান, গত এক শতাব্দী ধরে বংশপরম্পরায় এই পুজোর দায়িত্ব সামলানো হচ্ছে। শুধু পারিবারিক পুজো নয়, এই মন্দির এখন হাওড়ার ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।

১৯২৩ সালের স্নানযাত্রার পুণ্য তিথিতে প্রথা মেনে মন্দিরে দেবীর প্রাণপ্রতিষ্ঠা করা হয়।

সরস্বতী পুজোর দিন এই মন্দির প্রাঙ্গণ এক উৎসবমুখর চেহারা নেয়। দূর-দূরান্ত থেকে ভক্তরা আসেন দেবীর আশীর্বাদ নিতে। তবে অন্যান্য দিনের শান্ত পরিবেশে প্রদীপের আলোয় যখন আরতি হয়, তখন এক অলৌকিক প্রশান্তি ছড়িয়ে পড়ে চারপাশে। শিক্ষা ও সংস্কৃতির শহর হাওড়ায় এই মন্দির আজও মনে করিয়ে দেয় সেই পুরনো দিনের নিষ্ঠা ও ভক্তির কথা। কালের নিয়মে অনেক কিছু বদলালেও, উমেশচন্দ্রের উত্তরসূরিরা আজও আগলে রেখেছেন তাঁদের পূর্বপুরুষের সেই অমূল্য উত্তরাধিকার।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.