Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৪ জুন ২০২৬
The Ramayana

মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও দেবীর অকালবোধনে রামের পুরোহিত ছিলেন স্বয়ং রাবণ!

একাজ কেন করেছিলেন রাক্ষসরাজ?

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৫, ১৯:৪২

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৫, ১৯:৪২

options
link
মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও দেবীর অকালবোধনে রামের পুরোহিত ছিলেন স্বয়ং রাবণ! zoom

বিশ্বদীপ দে: শ্রীরামচন্দ্রের অকালবোধনের ফলেই শরৎকালে দুর্গাপুজোর সূচনা। একথা কে না জানে! কিন্তু এই অকালবোধনেরই কত অজানা কাহিনি ছড়িয়ে আছে, আমরা তার খোঁজ রাখি না। যার মধ্যে অন্যতম হল, রাবণ নাকি রামচন্দ্রের পুজোয় পৌরোহিত্য করেছিলেন! হ্যাঁ, এমন কাহিনিও শোনা যায় বইকি।

না। বাল্মীকির রামায়ণে রামচন্দ্রের এই পুজোর উল্লেখ নেই। তবে কৃত্তিবাস ওঝা সবিস্তারে লিখেছেন অকালবোধনের কথা। এছাড়া দেবী ভাগবত পুরাণ ও কালিকাপুরাণেও রয়েছে এর উল্লেখ। তাছাড়া পুঁথি থেকে পুঁথিতে ভাষান্তর, নতুন ঘটনার সংযোজন তো ছিলই। তারপর লোকায়ত চর্চায় মিশে যায় নানা কাহিনি। কিন্তু রাবণ কেন রামের অকালবোধনের পুরোহিত হলেন? তিনি তো জানতেনই রামচন্দ্র তাঁকে বধ করে সীতাকে উদ্ধার করতে চান। নিজেই নিজের মৃত্যুকে নিশ্চিত করতে কেন চাইলেন রাক্ষসরাজ? তার আগে আরেকটা বিষয়ে একটু বলে নেওয়া যেতে পারে।

Advertisement

Ramayana

অনেকেই ভাবতে পারেন, রাবণ কী করে ব্রাহ্মণ হলেন? আসলে রাবণের বাবা বিশ্রবা মুনি ছিলেন ব্রাহ্মণ। তাই রাক্ষসী কৈকসীর পুত্র হলেও রাবণ ব্রাহ্মণ। এখানেই শেষ নয়, শাস্ত্রজ্ঞ ছিলেন তিনি। সংস্কৃতজ্ঞ, সুপণ্ডিত এবং মৃত্যুর দিন পর্যন্ত ত্রিসন্ধ্যা গায়ত্রী করা রাবণকে তাই একজন উচ্চশ্রেণীয় ব্রাহ্মণ হিসেবেই ধরা হত। কেবল রাবণই নন, অহিরাবণ এবং মহিরাবণের মতো রাবণ বংশীয় অন্যদের সম্পর্কেও বলা হয়, তাঁরা রীতিমতো সাধক ছিলেন।

যাই হোক, অকালবোধনের কাহিনিতে ফেরা যাক। রাম-রাবণের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরে যখন একে একে লঙ্কার বড় বড় বীররা ধরাশায়ী, তখন রাবণ মা দুর্গার স্তব করলেন। দুর্গা কালীরূপে রাবণকে অভয় দিলেন। মা কালীর কোলে আশ্রিত রাবণ যুদ্ধে অপরাজেয় হয়ে উঠতে লাগলেন। এই পরিস্থিতিতে দুর্গাকে তুষ্ট করতে অকালেই (বসন্তকালের বদলে শরৎকালে) তাঁর পুজো করতে মনস্থ করলেন রাম। কিন্তু সেই পুজোয় কে করবেন পৌরোহিত্য?

Ramayana

রামের অকালবোধনের পুরোহিত হিসেবে রাবণের নাম উত্থাপন করেন স্বয়ং প্রজাপতি ব্রহ্মা। তিনিই পরামর্শ দেন, ”তোমার এই পুজোর উপযুক্ত পুরোহিত হতে পারেন রাবণই।” অগত্যা রাক্ষসরাজ রাবণকেই পৌরোহিত্যের প্রস্তাব দেন রঘুনন্দন। আর রাবণও রাজি হয়ে যান।

বোধনের মন্ত্র বলার সময় রাবণ উচ্চারণ করেন, ”রাবণস্য বধার্থায়…” অর্থাৎ নিজের মৃত্যুর জন্য পুজোয় নিজেই পৌরোহিত্য করলেন, সংকল্প করলেন তিনি। আসলে রাবণ জানতেন, রাক্ষস বংশের উদ্ধারের জন্য রামের হাতেই তাঁর বধ হওয়া প্রয়োজন। আর সেই কারণেই এই পুজোয় পৌরোহিত্য করতে তাঁর রাজি হওয়া।

Ramayana

কিন্তু দেখা গেল, রাবণ যতই পৌরোহিত্য করুন, যুদ্ধে তিনি অপরাজেয়। রাম যতবার মুণ্ডচ্ছেদ করেন ততবার সেই ছিন্ন মাথা জোড়া লেগে যায় দেবীর আশীর্বাদে। এই পরিস্থিতিতে রাম বুঝতে পারলেন চণ্ডী অশুদ্ধ করতে হবে। আর উপায় নেই। এই ভার পড়ল হনুমানের উপর। মাছির রূপ ধরে পবনপুত্র গিয়ে চণ্ডীর উপরে। ঢাকা পড়ল একটি অক্ষর। ফলে মন্ত্র পড়তে গিয়ে ভুল করলেন রাবণ। তিনি ওই একটি অক্ষর উচ্চারণ না করায় চণ্ডী হল অশুদ্ধ।

Ramayana

চণ্ডী অশুদ্ধ হওয়ার এই কাহিনি কিন্তু কৃত্তিবাসী রামায়ণে আলাদা। সেখানে বলা আছে, রাবণ রামের পুজোর কথা জানতে পেরে শঙ্কিত। তাই দেবীর কৃপা পেতে তিনি ডাক পাঠালেন দেবগুরু বৃহস্পতিকে। রাত্রিকালে চণ্ডীপাঠ নিষিদ্ধ। আর তাই বৃহস্পতি বেঁকে বসলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত রাবণের রক্তচক্ষু দেখে ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে তিনি শুরু করলেন পাঠ। আর তখনই সেখানে হাজির হলেন হনুমান। মাছির রূপ ধারণ করে। ‘যথা বৃহস্পতি আছে, উপনীত তাঁর কাছে,/ একমনে করে চণ্ডীপাঠ ।।/ মক্ষিকার রূপ ধরে, চাটিলেন দ্বি অক্ষরে,/ দেখিতে না পান বৃহস্পতি ।/ অভ্যাস আছিল তায়, পড়িল অবহেলায়,/ হনুমান সচিন্তিত অতি ।।’ স্বাভাবিক ভাবেই চণ্ডীপাঠে ত্রুটি হওয়ায় দেবী ক্রুদ্ধ হলেন। এদিকে রাবণও পালটা ক্রোধ দেখিয়ে বললেন, যেহেতু দেবী তাঁর শত্রুর পক্ষ নিয়েছেন, তাই দেবীও এখন তাঁর শত্রু। এমনই রাক্ষসরাজের অহং। আসলে মহাজ্ঞানী হলেও রাবণ শেষ পর্যন্ত ছিলেন রাক্ষসগুণসম্পন্ন, দাম্ভিক। সাধে কী বলেছে ‘অতি দর্পে হত লঙ্কা…’ ফলে দেবীর কৃপা আর রইল না রাবণের উপরে। প্রশস্ত হল তাঁর বধের পথ।

এর সঙ্গেই এসে পড়ে, মানস সরোবর থেকে আনা ১০৮টি নীলপদ্মের সেই কাহিনি। হনুমানের এনে দেওয়া পদ্মগুলি দেবীর উদ্দেশে অর্পণ করতে গিয়ে রামের নজরে পড়ল একটি পদ্ম কম। তখন তিনি নিজের নীলপদ্মের মতো চোখ দেবীকে নিবেদন করতে চাইলেন। এরপর? কৃত্তিবাস বলছেন, ”চক্ষু উৎপাটিতে রাম বসিলা সাক্ষাতে।/ হেনকালে কাত্যায়নী ধরিলেন হাতে।।/ কর কি কর কি প্রভু জগৎ গোঁসাই।/ পূর্ণ তোমার সংকল্প চক্ষু নাহি চাই।।” এরপর দেবীর বরপ্রাপ্ত রামের পক্ষে রাবণকে বধ করা ছিল কেবলই সময়ের অপেক্ষা।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.