১৪ চৈত্র  ১৪২৬  শনিবার ২৮ মার্চ ২০২০ 

Advertisement

নদী বাঁচানোর লড়াই, সাইকেলে সওয়ার হয়ে সচেতনতার প্রচার কলকাতার যুবকদের

Published by: Sucheta Sengupta |    Posted: February 8, 2020 3:32 pm|    Updated: February 8, 2020 3:32 pm

An Images

অরূপ বসাক, মালবাজার: বাংলা নদীমাতৃক দেশ। অথচ ইদানীং সেই সভ্যতার ধারক-বাহক সেই নদীই হয়ে উঠছে বিপন্ন। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন নদী দূষণের জেরে হয়ে পড়ছে মৃতপ্রায়। নদী বাঁচাতে উত্তরবঙ্গবাসীর পাশাপাশি কলকাতার যুবকরাও পথে নামলেন। চলতি মাসের ৩ তারিখ থেকে শুরু হয়েছে তাঁদের সাইকেল ব়্য়ালি। শামিল ১০ যুবক।

‘নদী বাঁচাও, জীবন বাঁচাও’ – এই আন্দোলনে নামলেন কলকাতার ১০ যুবক। ডুয়ার্সের সংকোশ নদী থেকে তাঁদের সাইকেল ব়্য়ালি শুরু হয়েছে। এই যুবকদের পাশাপাশি জনাকয়েক বয়স্ক মানুষজনও শামিল এই র‍্যালিতে। তাঁদের মুখ্য উদ্দেশ্য, উত্তরবঙ্গের নদীগুলো বাঁচাতে হবে। কারণ, ইতিমধ্যে বহু নদী থেকে অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পলি, পাথর তোলা হচ্ছে। যার ফলে নদীর মধ্যে তৈরি হচ্ছে বড় বড় গর্ত। বড় ক্ষতি হচ্ছে নদীর। বাধা পাচ্ছে প্রবাহ। অথচ প্রকৃতির উপর এমন অত্যাচারের ঘটনায় নির্বিকার প্রশাসন। তাই নদী রক্ষার দাবিতে, নদী বাঁচাতে এগিয়ে এসেছেন এই যুবকেরা। ডুয়ার্সের বিভিন্ন বড় বড় নদী এলাকার মধ্যে দিয়ে যাওয়ার সময় সেখানকার বাসিন্দাদের নদীর উপকারিতা সম্বন্ধে বোঝাবেন।

[আরও পড়ুন: সুন্দরবন বাঁচাতে নতুন রিসার্চ হাব, আশায় বুক বাঁধছে রাজ্য]

আন্দোলনের পক্ষে কল্লোল রায়, তাপস দাস বলেন,”আমরা জানি, প্রকৃতির সঙ্গে সখ্যস্থাপনের মধ্যে দিয়ে নদীর পাড়ে গড়ে উঠেছিল সভ্যতা। পরবর্তী সময়ে পুঁজি নির্ভর ও আধুনিকতা নির্ভর হয়ে মানুষই প্রকৃতি-পরিবেশ বিচ্ছিন্ন জীবন প্রবাহে সভ্যতাকে বয়ে নিয়ে চলেছে। ফলে দেখা গেল, পৃথিবীর জীববৈচিত্র্যে সংকট দেখা দিয়েছে। প্রকৃতির অমূল্য দান জল। জল সংকট এই মুহূর্তে বিশ্ব জুড়ে ভয়ংকর বিপদ ডেকে আনছে। প্রকৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন পদ্ধতি বদলের মধ্য দিয়ে আগামী জল-জীবন-জীবিকা সংকটের মোকাবিলা সময়ের দাবি। নদীর প্রাকৃতিক জীবন ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করতে না পারলে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে মানুষের তৈরি সভ্যতা মানুষের জন্যই বিপদ ডেকে আনবে। তাই দেশ জুড়ে ‘নদী বাঁচাও, জীবন বাঁচাও’ আন্দোলন গড়ে তোলার প্রয়োজন অবিলম্বে। সীমিত শক্তি নিয়ে যার চেষ্টা আমরা করে চলেছি বিগত কয়েক বছর ধরে।

[আরও পড়ুন: উত্তরবঙ্গে বদল বনভোজনের স্থল, নদী লাগোয়া এলাকায় ছড়াচ্ছে ব্যাপক দূষণ]

কল্লোল রায় আরও বলেন, ”সংকোশ নদী এলাকায় সচেতনতা প্রচারে গিয়ে কয়েকজন বালি এবং পাথর মাফিয়াদের দ্বারা আমরা আক্রান্ত হয়েছি। আমাদের মোবাইল ছিনিয়ে নিয়েছে তারা। আমাদের মারধর দিয়ে এলাকা থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। এ ব্যারে প্রশাসন আমাদের কোনওরকম সহযোগিতা করেনি। তবে আমরা দমে যাইনি। নদীকে রক্ষার্থে এই প্রচার করেই যাব।” শুক্রবার ওদলাবাড়ি থেকে সাইকেলে গজলডোবা হয়ে ফাঁসিদেওয়ার উদ্দেশে রওনা হয় ব়্যালিটি।

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement