২৮ আশ্বিন  ১৪২৭  বুধবার ২৮ অক্টোবর ২০২০ 

Advertisement

দুর্দিনের সঙ্গী ফেলে দেওয়া সামগ্রী, প্লাস্টিক-ছিপি দিয়ে মাস্ক তৈরি করে ফেললেন পরিবেশপ্রেমী

Published by: Sucheta Sengupta |    Posted: April 4, 2020 6:01 pm|    Updated: April 4, 2020 6:01 pm

An Images

ধীমান রায়, কাটোয়া: ফেলে দেওয়া হাজারও জিনিস মাঝমধ্যে তো অনেক কাজেই লাগে। যেমন, এই করোনা যুদ্ধের সময় ফেলে দেওয়া সামগ্রী দিয়েই হাতিয়ার তৈরি করে ফেললেন প্রাকৃতিক মাস্ক পূর্ব বর্ধমানের এক পরিবেশপ্রেমী। প্লাস্টিকের বোতল, ছিপি এসব দিয়ে স্বহস্তে তৈরি তাঁর মাস্ক নজর কেড়েছে প্রশাসনিক কর্তাদেরও। নিজে যেমন এই মাস্ক ব্যবহার করছেন, তেমনই পরিবারের সদস্যদের জন্যও তা তৈরি করছেন।

ভাতার থানার কাপশোর গ্রামের বাসিন্দা পরিবেশপ্রেমী তুহিন প্রামাণিক। তিনি এলাকায় পরিবেশপ্রেমী হিসেবে পরিচিত। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে বাতিল জিনিস দিয়ে তৈরি করে ফেলেছেন অভিনব মাস্ক। উপকরণ বলতে নেবুলাইজারে ব্যবহৃত একটি মাস্ক। তার দুপাশে যে ছিদ্র থাকে, সেখানে লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে দুটি প্লাস্টিকের বোতলের ছিপি। ছিপি দুটিতেও একাধিক ছিদ্র করা হয়েছে। তার ওপরে সার্জিক্যাল গ্লাভসের টুকরো লাগানো। সেগুলি ভালভের কাজ করছে। শুধুমাত্র নিঃশ্বাস ত্যাগ করার সময় খুলে যাচ্ছে ভালভ দুটি। নেবুলাইজারের তলার দিকে লাগানো হয়েছে বাতিল করে নারকেল তেলের ছোট বোতল। তাতে দুটি ছিদ্র করে দুটি সরু পাইপ ঢোকানো হয়েছে। বোতলে কিছুটা জল ভরা আছে। মাস্ক মুখে পরার পর পাইপ দিয়ে বাতাস ঢুকে শ্বাসপ্রশ্বাস নেওয়া হচ্ছে। তবে বাতাস সরাসরি ফুসফুসে যাবে না। জলের ভিতর দিয়ে বাতাস যাচ্ছে। নিঃশ্বাস ছাড়ার সময় ভালভ খুলে বাতাস বেরিয়ে যাচ্ছে। প্রশ্বাস টানতেই ভালভ বন্ধ। তাই ভাইরাস সংক্রমণের সুযোগ নেই।

[আরও পড়ুন: লকডাউনের জেরে কমেছে দূষণ, জলন্ধর থেকে দৃশ্যমান হিমাচলের তুষারাবৃত পাহাড়]

তুহিনবাবুর এহেন সৃষ্টিশীল কাজের প্রশংসায় পঞ্চমুখ এলাকাবাসী। আপাতত নিজের হাতে তৈরি মাস্ক পরেই বাইরে বেরচ্ছেন তিনি। ছেলে ও স্ত্রী’র জন্য দুটি মাস্কও বানাচ্ছেন। পরিবেশপ্রেমী ব্যক্তিত্ব হিসাবে এলাকায় খ্যাতি আছে তুহিনবাবুর। নানা মডেল তৈরি করে আগে পুরস্কৃত হয়েছেন। তিনি বলছেন, “চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে বোতলের জলে পরিমাণমতো জীবাণুনাশক মেশানো হয়েছে। তাই এই মাস্ক সম্পূর্ণ সুরক্ষিত।” স্থানীয় বাসিন্দা আইনজীবী কৃষ্ণবিনোদ যশ বলেন, “তুহিনবাবুর তৈরি মাস্ক অবশ্যই এই পরিস্থিতিতে কার্যকর বলে মনে হচ্ছে। তাই আমিও নিজের জন্য একটি মাস্ক তৈরি করে দিতে অনুরোধ করেছি।” এই মাস্ক আরও বড় পরিসরে তৈরি হলে যেমন মাস্কের বিপুল চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে, তেমনই পরিবেশবান্ধব উপায়ে তৈরি মাস্কের সুরক্ষা নিয়েও কোনও ভাবনা থাকবে না।

ছবি: জয়ন্ত দাস।

[আরও পড়ুন: করোনা আতঙ্কের মধ্যেই আকাশে উঠবে বৃহত্তম গোলাপি চাঁদ, অধীর অপেক্ষায় বিশ্ববাসী]

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement